চলমান মামলায় সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার নিয়ে অ্যামনেস্টির হস্তক্ষেপ উচিত না: চিফ প্রসিকিউটর
- আপডেট সময় : ০৫:১৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ ৭৪ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড নিয়ে চলমান মামলায় দুই সাংবাদিককে গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বা হিউম্যান রাইটসের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দুই সাংবাদিককে (ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে, তাদের কাজ করতে দেওয়া উচিত। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বা অন্য কোনো মানবাধিকার সংগঠন কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তা আমরা দেখিনি। আমাদের একটি চলমান বিচারপ্রক্রিয়ায় তাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না। আইনগত সুযোগও নেই।
জুলাই শহিদের প্রকৃত খুনিদের বিচার হবে: চিফ প্রসিকিউটর
এর আগে সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আটক করা হয়েছিল। পরে তাদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সবশেষ শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলায় তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতি ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনায় তাদের দুজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগকে অস্পষ্ট হিসেবে উল্লেখ করে। সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক স্মৃতি সিং বলেন, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের উচিত সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের কারণে তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রত্যাহার করা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকার রক্ষা ও সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।
ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা অভিযোগ অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বানও জানায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বিবৃতিতে বলা হয়, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল হক কারাবন্দি রয়েছেন। এখন এক দশক আগের একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে অস্পষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মৌলিক নীতির পরিপন্থি। এটি একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করছে, যা সাংবাদিকদের ভয়ভীতিহীনভাবে কাজ করার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করবে।
এ মামলায় আরও কোনো সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখানো হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের তদন্ত চলমান। যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদেরই বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তবে অহেতুক কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানির জন্য বিচারের মুখোমুখি করা হবে না।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৩১ মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর
সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এত বছরেও সাগর-রুনির তদন্ত শেষ না হওয়া দুঃখজনক।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমি ট্রাইব্যুনালে যোগ দেওয়ার পর সাতটি মামলা পুনরায় তদন্তে পাঠিয়েছি। সেগুলো ঈদের পর চার্জশিট দাখিল করা হবে।
দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত কোনো ধারণা নেই। কোনো তদন্ত চলছে কি না, তা তদন্ত সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্তরাই বলতে পারবেন। এ নিয়ে আমার প্রত্যক্ষ কোনো ধারণাও নেই।














