ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাকসুর সব কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা সাংবাদিকদের, ভিপিকে ক্ষমা চাইতে হবে নাসীরুদ্দীন-সারজিসের ওপর হামলা কেন, যা বলছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার খুব শিগগিরই দেশে ফিরতে পারব’— আশাবাদী সাকিব আল হাসান শাপলা চত্বর মামলায় ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করবেন লতিফ সিদ্দিকী সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের অভাবে শিল্পে গ্যাস সংকট, সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষে সন্তুষ্ট জেলেনস্কি, ‘সেরা বৈঠক’ দাবি নেতানিয়াহুর মধ্যরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ অভিযান আইসিটির বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ হাইকোর্টের শ্যোন অ্যারেস্ট সংক্রান্ত আদেশ স্থগিত
সংবাদ শিরোনাম ::
রাকসুর সব কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা সাংবাদিকদের, ভিপিকে ক্ষমা চাইতে হবে নাসীরুদ্দীন-সারজিসের ওপর হামলা কেন, যা বলছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার খুব শিগগিরই দেশে ফিরতে পারব’— আশাবাদী সাকিব আল হাসান শাপলা চত্বর মামলায় ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করবেন লতিফ সিদ্দিকী সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের অভাবে শিল্পে গ্যাস সংকট, সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষে সন্তুষ্ট জেলেনস্কি, ‘সেরা বৈঠক’ দাবি নেতানিয়াহুর মধ্যরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ অভিযান আইসিটির বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ হাইকোর্টের শ্যোন অ্যারেস্ট সংক্রান্ত আদেশ স্থগিত

জেন-জিকে ‘আবর্জনার প্রজন্ম’ বলে এবার তোপের মুখে ভারতীয় অভিনেত্রী

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৮:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

Bangla Tribune

দিল্লির যন্তর মন্তর এবং আরও কয়েকটি শহরে সদ্য সমাপ্ত আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত ভাষা ও পোস্ট নিয়ে ইতিপূর্বে অনেক কথা হয়েছে। সেখানে ব্যবহৃত পোস্টার, প্ল্যাকার্ড, স্লোগান ও মিমগুলোতে সৃজনশীলতা ও রসবোধ থেকে শুরু করে কখনও কখনও অশ্লীলতা— সবকিছুরই বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে।

এখন, জেন জি আন্দোলনকারীদের নিয়ে নিজের বিতর্কিত ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন অভিনেত্রী ও বিজেপি সংসদ সদস্য কঙ্গনা রনৌত। আন্দোলনকারীদের ব্যবহৃত ভাষার সমালোচনা করতে গিয়ে কঙ্গনা নিজেই বেশ কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করে তোপের মুখে পড়েছেন।

যন্তর মন্তর ও অন্য স্থানে আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত ভাষা এবং ইনস্টাগ্রাম পোস্টগুলোকে ‘বমি ভাব উদ্রেককারী’ আখ্যা দিয়ে কঙ্গনা লিখেছেন, ‘আমার পুরো জীবনে এক জায়গায় এত কুৎসিত দৃশ্য আমি কখনও দেখিনি। জেন জি আন্দোলনের এই রিলগুলো দেখলে বমি আসে। তাদের কথা বলার ধরণ এবং যে ধরণের ভাষা তারা ব্যবহার করছে… আমার জীবনে কখনও প্রতিটি ফ্রেমে সবকিছু একযোগে এত কর্কশ ও বিশ্রী দেখিনি।’

বিজেপির এই সংসদ সদস্য এরপর আন্দোলনকারীদের লালন-পালন ও অভিভাবকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ‘ইশ! এদের কারা জন্ম দিচ্ছে আর কীভাবে মানুষ করছে?’

আন্দোলনকারীরা নিজেদের ‘তেলাপোকা’ হিসেবে অভিহিত করার দিকে ইঙ্গিত করে কঙ্গনা মন্তব্য করেন, ‘ভারত হলো বৈচিত্র্যময় সুন্দর মানুষের দেশ, যারা মার্জিত ও নান্দনিক জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত এবং যাদের শিকড় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যময়। তোমরা নিজেদের তেলাপোকা বলো এবং দেখতে ও আচরণেও তাদের মতোই। এতে কোনও বৈপরীত্য নেই, তোমরা শুধু বিশ্বকে তোমাদের নোংরামি, আবর্জনা আর কুৎসিত রূপ দেখাচ্ছ। এই রিলগুলো দেখে আমি মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছি। আমার এখন ডিজিটাল ডিটক্স ও মনের চিকিৎসা দরকার।’

আরও একটি বিতর্কিত মন্তব্যে কঙ্গনা এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ‘হিন্দু নারীদের’ ওপর তোপ দাগেন। তাদের ‘তথাকথিত পাশ্চাত্যমুখী ভারতীয় নারী’ বলে অভিহিত করে রানাওয়াত বলেন, ‘তারা এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত ও কুৎসিত যে তারা গৃহিণী হওয়ারও যোগ্য নয়।’

তিনি বলেন, ‘তারা গর্বের সঙ্গে নিজেদের মাদক গ্রহণ, মদ খাওয়া এবং নির্লজ্জভাবে মা-বাবার উপার্জনে বেঁচে থাকার স্বাধীনতা জাহির করে।’ এরপর তিনি পুরো তরুণ প্রজন্মকে ‘জেনারেশন গাটার’ (আবর্জনার প্রজন্ম) বলে আখ্যা দেন।

‘আমি এদের জেনারেশন গাটার বলি। সমাজ বা ব্যবস্থার জন্য এদের দেওয়ার মতো কিছুই নেই। এরা পড়াশোনায় ভালো নয়। এরা এতটাই কুৎসিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত যে এরা গৃহিণীও হতে পারবে না।’

কঙ্গনার এই ক্ষোভ প্রকাশের পর তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেস নেতা ভাই জগতাপ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আন্দোলন চলাকালেন যেভাবে শিক্ষার্থীদের পেটানো হয়েছিল, তা নিয়ে কঙ্গনা রনৌতের মনে কোনও অনুশোচনা আছে কি না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মেয়েদের ও সন্তানদের এই আন্দোলনের সময় যেভাবে হয়রানি করা হয়েছে, পেটানো হয়েছে এবং নির্যাতন করা হয়েছে, নিজে একজন নারী হয়েও কীভাবে তার মনে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা কাজ করে না? এটি সত্যিই আমার কাছে আশ্চর্যজনক মনে হয়।’

এআইএমআইএম নেতা ওয়ারিস পাঠানও কঙ্গনার ভাষার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উচিত তার সংসদ সদস্যের ভাষার প্রতি নজর দেওয়া। কঙ্গনা রানাওয়াত যদি এমন শব্দ ব্যবহার করে থাকেন, তবে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাকে জিজ্ঞেস করুন তো তিনি নিট-এর পূর্ণরূপ জানেন কি না? তিনি তাও জানবেন না। তার পুরো জেনারেশন জি-র কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী মোদির উচিত তার দলের সাংসদরা জেন জি-র জন্য কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করছেন, তা খতিয়ে দেখা।’

আন্দোলন নিয়ে কঙ্গনার মন্তব্য করার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে নিজের মতামত শেয়ার করেছিলেন, যেখানে তিনি আন্দোলনকারীদের গৃহীত পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এমনকি রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টারও তিনি তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জেন-জিকে ‘আবর্জনার প্রজন্ম’ বলে এবার তোপের মুখে ভারতীয় অভিনেত্রী

আপডেট সময় : ০৫:৩৮:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

Bangla Tribune

দিল্লির যন্তর মন্তর এবং আরও কয়েকটি শহরে সদ্য সমাপ্ত আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত ভাষা ও পোস্ট নিয়ে ইতিপূর্বে অনেক কথা হয়েছে। সেখানে ব্যবহৃত পোস্টার, প্ল্যাকার্ড, স্লোগান ও মিমগুলোতে সৃজনশীলতা ও রসবোধ থেকে শুরু করে কখনও কখনও অশ্লীলতা— সবকিছুরই বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে।

এখন, জেন জি আন্দোলনকারীদের নিয়ে নিজের বিতর্কিত ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন অভিনেত্রী ও বিজেপি সংসদ সদস্য কঙ্গনা রনৌত। আন্দোলনকারীদের ব্যবহৃত ভাষার সমালোচনা করতে গিয়ে কঙ্গনা নিজেই বেশ কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করে তোপের মুখে পড়েছেন।

যন্তর মন্তর ও অন্য স্থানে আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত ভাষা এবং ইনস্টাগ্রাম পোস্টগুলোকে ‘বমি ভাব উদ্রেককারী’ আখ্যা দিয়ে কঙ্গনা লিখেছেন, ‘আমার পুরো জীবনে এক জায়গায় এত কুৎসিত দৃশ্য আমি কখনও দেখিনি। জেন জি আন্দোলনের এই রিলগুলো দেখলে বমি আসে। তাদের কথা বলার ধরণ এবং যে ধরণের ভাষা তারা ব্যবহার করছে… আমার জীবনে কখনও প্রতিটি ফ্রেমে সবকিছু একযোগে এত কর্কশ ও বিশ্রী দেখিনি।’

বিজেপির এই সংসদ সদস্য এরপর আন্দোলনকারীদের লালন-পালন ও অভিভাবকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ‘ইশ! এদের কারা জন্ম দিচ্ছে আর কীভাবে মানুষ করছে?’

আন্দোলনকারীরা নিজেদের ‘তেলাপোকা’ হিসেবে অভিহিত করার দিকে ইঙ্গিত করে কঙ্গনা মন্তব্য করেন, ‘ভারত হলো বৈচিত্র্যময় সুন্দর মানুষের দেশ, যারা মার্জিত ও নান্দনিক জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত এবং যাদের শিকড় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যময়। তোমরা নিজেদের তেলাপোকা বলো এবং দেখতে ও আচরণেও তাদের মতোই। এতে কোনও বৈপরীত্য নেই, তোমরা শুধু বিশ্বকে তোমাদের নোংরামি, আবর্জনা আর কুৎসিত রূপ দেখাচ্ছ। এই রিলগুলো দেখে আমি মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছি। আমার এখন ডিজিটাল ডিটক্স ও মনের চিকিৎসা দরকার।’

আরও একটি বিতর্কিত মন্তব্যে কঙ্গনা এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ‘হিন্দু নারীদের’ ওপর তোপ দাগেন। তাদের ‘তথাকথিত পাশ্চাত্যমুখী ভারতীয় নারী’ বলে অভিহিত করে রানাওয়াত বলেন, ‘তারা এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত ও কুৎসিত যে তারা গৃহিণী হওয়ারও যোগ্য নয়।’

তিনি বলেন, ‘তারা গর্বের সঙ্গে নিজেদের মাদক গ্রহণ, মদ খাওয়া এবং নির্লজ্জভাবে মা-বাবার উপার্জনে বেঁচে থাকার স্বাধীনতা জাহির করে।’ এরপর তিনি পুরো তরুণ প্রজন্মকে ‘জেনারেশন গাটার’ (আবর্জনার প্রজন্ম) বলে আখ্যা দেন।

‘আমি এদের জেনারেশন গাটার বলি। সমাজ বা ব্যবস্থার জন্য এদের দেওয়ার মতো কিছুই নেই। এরা পড়াশোনায় ভালো নয়। এরা এতটাই কুৎসিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত যে এরা গৃহিণীও হতে পারবে না।’

কঙ্গনার এই ক্ষোভ প্রকাশের পর তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেস নেতা ভাই জগতাপ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আন্দোলন চলাকালেন যেভাবে শিক্ষার্থীদের পেটানো হয়েছিল, তা নিয়ে কঙ্গনা রনৌতের মনে কোনও অনুশোচনা আছে কি না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মেয়েদের ও সন্তানদের এই আন্দোলনের সময় যেভাবে হয়রানি করা হয়েছে, পেটানো হয়েছে এবং নির্যাতন করা হয়েছে, নিজে একজন নারী হয়েও কীভাবে তার মনে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা কাজ করে না? এটি সত্যিই আমার কাছে আশ্চর্যজনক মনে হয়।’

এআইএমআইএম নেতা ওয়ারিস পাঠানও কঙ্গনার ভাষার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উচিত তার সংসদ সদস্যের ভাষার প্রতি নজর দেওয়া। কঙ্গনা রানাওয়াত যদি এমন শব্দ ব্যবহার করে থাকেন, তবে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাকে জিজ্ঞেস করুন তো তিনি নিট-এর পূর্ণরূপ জানেন কি না? তিনি তাও জানবেন না। তার পুরো জেনারেশন জি-র কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী মোদির উচিত তার দলের সাংসদরা জেন জি-র জন্য কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করছেন, তা খতিয়ে দেখা।’

আন্দোলন নিয়ে কঙ্গনার মন্তব্য করার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে নিজের মতামত শেয়ার করেছিলেন, যেখানে তিনি আন্দোলনকারীদের গৃহীত পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এমনকি রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টারও তিনি তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।