পঞ্চগড়ে কাজী ফার্মসের ফিডমিলে হামলা-ভাঙচুর, উৎপাদন বন্ধ
- আপডেট সময় : ০৫:২৬:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
দেশের অন্যতম বড় পোলট্রি প্রতিষ্ঠান কাজী ফার্মসের পঞ্চগড়ের একটি ফিডমিলে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ফিডমিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ফিডমিলটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির উত্তরবঙ্গে প্রায় ৩৫ লাখ মুরগির খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কাজী ফার্মস থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় অবস্থিত ফিডমিলটির সামনে ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ জড়ো হয়ে মিছিল করে ও স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তারা কারখানার তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালান।
কাজী ফার্মসের অভিযোগ, মিছিলকারীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের চাকরি দেওয়া ও কর্মী ছাঁটাই বন্ধের দাবির কথা বলেন। তাদের হামলায় ফিডমিলের তিন কর্মী আহত হন। হামলাকারীরা কারখানার ভেতর থেকে কম্পিউটার, ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে যান।
ঘটনার পর বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সহযোগিতা করেন।
কাজী ফার্মস জানায়, পঞ্চগড়ের ওই ফিডমিলে বর্তমানে মোট ৩৭০ জন কর্মী কাজ করছেন। এর মধ্যে ১৩৫ জন পঞ্চগড়ের বাসিন্দা, অন্যরা ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার। গত ছয় মাসে এই ফিডমিল থেকে কোনো কর্মী ছাঁটাই করা হয়নি বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
কাজী ফার্মস বলছে, উত্তরবঙ্গে তাদের ৩২টি মুরগীর খামারসহ মোট ৪৩টি পোলট্রি স্থাপনা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। উত্তরবঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি এ অঞ্চলে আরও বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কাজী ফার্মসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) গাজী এম শামসুদ্দীন বলেন, এই ফিডমিল থেকে কাজী ফার্মসের প্রায় ৩৫ লাখ মুরগির খাদ্য তৈরি করা হয়। হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ মিলটি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। দ্রুত এটি চালু করা সম্ভব না হলে পঞ্চগড়সহ উত্তরবঙ্গের পোলট্রি খাত ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
দেশের পোলট্রি খাতের বিকাশের স্বার্থে ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে দ্রুত ফিডমিলটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন শামসুদ্দীন।



















