ঢাকা ১০:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন— প্রার্থী হতে লাগবে না ‘শিক্ষাগত যোগ্যতা

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৮:০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। তবে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের কোথাও নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত রাখা হয়নি।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার চেয়ারম্যান বা মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি কিছুটা আলাদা। স্থানীয় সরকার আইনে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্র, পরিষদ বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো লাভজনক সার্বজনীন পদে থাকা ব্যক্তি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল-কলেজ, জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫-এর বিধি ১১-এর ১৭(খ) ধারায় বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সময়ে একাধিক পদ বা চাকরিতে কিংবা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে থাকতে পারবেন না। আর্থিক লাভজনক পদের মধ্যে সরকার প্রদত্ত বেতন, ভাতা ও সম্মানির পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় বা আইন পেশার বিনিময়ে পাওয়া বেতন, ভাতা ও সম্মানিও অন্তর্ভুক্ত।

মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তাই স্থানীয় সরকার আইন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের নীতিমালা বিবেচনায় নিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত ইসিই নেবে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো আইনগত মতামত বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে তারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি পাঠাতে পারে। তখন আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়া হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা কেন বাধ্যতামূলক করা হয়নি, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য নির্বাচনের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, এমপি হওয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সংবিধান বা আইনে এমন শর্ত না থাকায় সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য ফরমে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনেও একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। কারণ শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় হতে পারে। একজন সমাজসেবক প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পড়াশোনা না করেও স্বশিক্ষিত হতে পারেন এবং জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও একজন মানুষের জ্ঞান ও সামাজিক যোগ্যতা থাকতে পারে। তাই সাংবিধানিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। একই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এমন কোনো শর্ত রাখা হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

স্থানীয় সরকার নির্বাচন— প্রার্থী হতে লাগবে না ‘শিক্ষাগত যোগ্যতা

আপডেট সময় : ০৮:০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। তবে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের কোথাও নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত রাখা হয়নি।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার চেয়ারম্যান বা মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি কিছুটা আলাদা। স্থানীয় সরকার আইনে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্র, পরিষদ বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো লাভজনক সার্বজনীন পদে থাকা ব্যক্তি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল-কলেজ, জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫-এর বিধি ১১-এর ১৭(খ) ধারায় বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সময়ে একাধিক পদ বা চাকরিতে কিংবা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে থাকতে পারবেন না। আর্থিক লাভজনক পদের মধ্যে সরকার প্রদত্ত বেতন, ভাতা ও সম্মানির পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় বা আইন পেশার বিনিময়ে পাওয়া বেতন, ভাতা ও সম্মানিও অন্তর্ভুক্ত।

মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তাই স্থানীয় সরকার আইন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের নীতিমালা বিবেচনায় নিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত ইসিই নেবে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো আইনগত মতামত বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে তারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি পাঠাতে পারে। তখন আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়া হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা কেন বাধ্যতামূলক করা হয়নি, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য নির্বাচনের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, এমপি হওয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সংবিধান বা আইনে এমন শর্ত না থাকায় সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য ফরমে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনেও একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। কারণ শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় হতে পারে। একজন সমাজসেবক প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পড়াশোনা না করেও স্বশিক্ষিত হতে পারেন এবং জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও একজন মানুষের জ্ঞান ও সামাজিক যোগ্যতা থাকতে পারে। তাই সাংবিধানিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। একই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এমন কোনো শর্ত রাখা হয়নি।