ঢাকা ০২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনা, ফের বাড়তে পারে গরম নভেম্বরে তারেক রহমানের দিল্লি সফরের চেষ্টা: দ্য হিন্দু আগস্টে ৮.২৬% মূল্যস্ফীতি, ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক যাচ্ছেন সোমবার জাতিসংঘ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, ইরানের বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ সাবেক ঢাবি উপাচার্য মাকসুদ কামাল নজরদারিতে: চিফ প্রসিকিউটর শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত: সংসদীয় কমিটি ডিবি হেফাজতে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল বিয়েতে নাচের জন্য ডেকে ২ নৃত্যশিল্পীকে ধর্ষণ: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তার অভিযোগে টেলিনরের বিরুদ্ধে তদন্ত
সংবাদ শিরোনাম ::
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনা, ফের বাড়তে পারে গরম নভেম্বরে তারেক রহমানের দিল্লি সফরের চেষ্টা: দ্য হিন্দু আগস্টে ৮.২৬% মূল্যস্ফীতি, ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক যাচ্ছেন সোমবার জাতিসংঘ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, ইরানের বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ সাবেক ঢাবি উপাচার্য মাকসুদ কামাল নজরদারিতে: চিফ প্রসিকিউটর শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত: সংসদীয় কমিটি ডিবি হেফাজতে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল বিয়েতে নাচের জন্য ডেকে ২ নৃত্যশিল্পীকে ধর্ষণ: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তার অভিযোগে টেলিনরের বিরুদ্ধে তদন্ত

গাজার ধ্বংসস্তূপে শত শত মরদেহ, যুদ্ধাপরাধের শঙ্কা জাতিসংঘের

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে গাজায় ৬৩০টির বেশি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক বলেছেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে এমন পরিবারও রয়েছে, যাদের একসঙ্গে নিহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহতদের অনেকেই নারী ও শিশু বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টুর্ক বলেন, ধ্বংস হওয়া ভবনগুলোর নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ এখনো চলছে। এ পর্যন্ত যে মরদেহগুলো পাওয়া গেছে, সেগুলো হয়তো মোট প্রাণহানির একটি ছোট অংশ মাত্র। গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া স্থাপনাগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো আট হাজারের বেশি মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আল-জাজিরা ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মরদেহ উদ্ধারের কাজ সহজ হচ্ছে না। জাতিসংঘ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ফরেনসিক সক্ষমতার ঘাটতির পাশাপাশি ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে উদ্ধার তৎপরতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ডিএনএ পরীক্ষার কিট ও ভারী খননযন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশে বাধা রয়েছে। ফলে উদ্ধার করা মরদেহ শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান গাজায় আন্তর্জাতিক তদন্তকারীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, ধ্বংসস্তূপ সরানোর আগে ঘটনাস্থলগুলোতে সম্ভাব্য প্রমাণ সংরক্ষণ এবং ফরেনসিক তদন্ত করা জরুরি। কারণ ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় নিহতদের পরিচয় ও মৃত্যুর পরিস্থিতি নির্ধারণ করা ভবিষ্যতের আইনি তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতেও জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছিলেন, ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে থাকা গাজার এলাকাগুলো থেকে বড় আকারে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ সম্ভাব্য নৃশংসতার প্রমাণ মুছে দিতে পারে।

টুর্কের নতুন মন্তব্য সেই উদ্বেগ আরও জোরালো করেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপ থেকে একসঙ্গে পুরো পরিবারের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা হামলার ধরন এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।

গাজায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধে ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সেখানে সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষই একে অন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে। মঙ্গলবারও গাজার উত্তরাঞ্চলের শেখ রাদওয়ান এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক শিশুসহ দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং অন্তত সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

গাজায় প্রতি রাতে ৩০-৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যার আহ্বান ইসরায়েলি মন্ত্রীর

ইসরায়েল বরাবরই বলে আসছে, তাদের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন মেনেই পরিচালিত হয়েছে এবং তারা বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর এর আগে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিভিন্ন ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

এখন ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ফলে সেই অভিযোগের সম্ভাব্য প্রমাণ সংরক্ষণ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। জাতিসংঘের আহ্বান অনুযায়ী আন্তর্জাতিক তদন্তকারীরা গাজায় প্রবেশের সুযোগ পেলে এসব মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গাজার ধ্বংসস্তূপে শত শত মরদেহ, যুদ্ধাপরাধের শঙ্কা জাতিসংঘের

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে গাজায় ৬৩০টির বেশি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক বলেছেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে এমন পরিবারও রয়েছে, যাদের একসঙ্গে নিহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহতদের অনেকেই নারী ও শিশু বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টুর্ক বলেন, ধ্বংস হওয়া ভবনগুলোর নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ এখনো চলছে। এ পর্যন্ত যে মরদেহগুলো পাওয়া গেছে, সেগুলো হয়তো মোট প্রাণহানির একটি ছোট অংশ মাত্র। গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া স্থাপনাগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো আট হাজারের বেশি মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আল-জাজিরা ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মরদেহ উদ্ধারের কাজ সহজ হচ্ছে না। জাতিসংঘ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ফরেনসিক সক্ষমতার ঘাটতির পাশাপাশি ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে উদ্ধার তৎপরতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ডিএনএ পরীক্ষার কিট ও ভারী খননযন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশে বাধা রয়েছে। ফলে উদ্ধার করা মরদেহ শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান গাজায় আন্তর্জাতিক তদন্তকারীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, ধ্বংসস্তূপ সরানোর আগে ঘটনাস্থলগুলোতে সম্ভাব্য প্রমাণ সংরক্ষণ এবং ফরেনসিক তদন্ত করা জরুরি। কারণ ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় নিহতদের পরিচয় ও মৃত্যুর পরিস্থিতি নির্ধারণ করা ভবিষ্যতের আইনি তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতেও জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছিলেন, ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে থাকা গাজার এলাকাগুলো থেকে বড় আকারে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ সম্ভাব্য নৃশংসতার প্রমাণ মুছে দিতে পারে।

টুর্কের নতুন মন্তব্য সেই উদ্বেগ আরও জোরালো করেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপ থেকে একসঙ্গে পুরো পরিবারের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা হামলার ধরন এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।

গাজায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধে ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সেখানে সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষই একে অন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে। মঙ্গলবারও গাজার উত্তরাঞ্চলের শেখ রাদওয়ান এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক শিশুসহ দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং অন্তত সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

গাজায় প্রতি রাতে ৩০-৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যার আহ্বান ইসরায়েলি মন্ত্রীর

ইসরায়েল বরাবরই বলে আসছে, তাদের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন মেনেই পরিচালিত হয়েছে এবং তারা বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর এর আগে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিভিন্ন ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

এখন ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ফলে সেই অভিযোগের সম্ভাব্য প্রমাণ সংরক্ষণ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। জাতিসংঘের আহ্বান অনুযায়ী আন্তর্জাতিক তদন্তকারীরা গাজায় প্রবেশের সুযোগ পেলে এসব মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যেতে পারে।