সৌদিতে হুতিদের নতুন হামলা, অনিশ্চিত হরমুজ খোলার আলোচনা
- আপডেট সময় : ০৬:৪২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের মধ্যে সৌদি আরবে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। একই সময়ে লোহিত সাগরের কৌশলগত এলাকায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে তারা। ফলে একদিকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও তেল রপ্তানি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, অন্যদিকে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগও বড় ধাক্কা খেয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে শুরু করে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিনভর নতুন করে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় হুতিরা। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে চালানো এসব হামলায় ১৩ বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। হুতিরা বিশেষ করে খামিস মুশাইতের একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।
হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা শুধু সৌদি ভূখণ্ডে হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, লোহিত সাগরের মুখে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণও তারা নিয়েছে। বাব এল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি এই দ্বীপের অবস্থান। ফলে লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানির বিকল্প সমুদ্রপথ নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল ধরে দ্রুত অগ্রসর হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করেছে হুতিরা। এর ফলে তারা লোহিত সাগরের একটি বড় অংশের কাছাকাছি সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে পেরেছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় ইয়েমেনে এক লাখের বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
হুতিদের এই অগ্রযাত্রা এমন সময়ে ঘটছে, যখন ইরানের সঙ্গে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৈঠকটি স্থগিত হয়ে গেছে। ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার উদ্যোগটি সৌদি আরবের অনুরোধে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের কারণে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের ওপর হুতিদের নতুন হামলা এবং দেশটির তেল অবকাঠামোর ওপর সাম্প্রতিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সৌদি আরবের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে কারণ দেশটির পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনেও সাম্প্রতিক হামলার কারণে রপ্তানি সক্ষমতা চাপে রয়েছে। ফলে হরমুজের বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত সৌদি রুটগুলোও যদি হুমকির মুখে পড়ে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
এ অবস্থায় সৌদি ও ইয়েমেনি বাহিনী হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা জোরদার করেছে। তবে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের বড় অংশ এখনো হুতিদের নিয়ন্ত্রণে। ফলে তাদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা ঠেকানো এবং একই সঙ্গে সৌদি তেল রপ্তানির পথ নিরাপদ রাখা রিয়াদের জন্য বড় সামরিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
এ পরিস্থিতিতে হরমুজ নিয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ ও বাব এল-মান্দেব— মধ্যপ্রাচ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ একই যুদ্ধের প্রভাবে ঝুঁকিতে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে।










