ঢাকা ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা পাচ্ছে এপিবিএন, আইনের খসড়া অনুমোদন মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন, একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ জিনপিংয়ের সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ রাষ্ট্রপতির ২০২৭ সালের এসএসসির রুটিন প্রকাশ সালমান শাহ হত্যা: অভিনেতা ডনকে ৭ দিনের রিমান্ডে চেয়েছে সিআইডি ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’, বলটি বিক্রি হলো ৩৩ লাখ ডলারে দ্বৈত নাগরিকত্ব’ নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর পালটা প্রশ্ন— ‘কে নিউজ করছে? কার এত জ্বালা? প্রস্তুতি শেষ হলেই স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ‘ঝাঁপ দেবো’: সিইসি ৬ অক্টোবর ব্রাজিল-বাংলাদেশ প্রীতি ম্যাচ হতে পারে : বাফুফে সভাপতি রংপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা: ২ আসামির স্বীকারোক্তি
সংবাদ শিরোনাম ::
ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা পাচ্ছে এপিবিএন, আইনের খসড়া অনুমোদন মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন, একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ জিনপিংয়ের সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ রাষ্ট্রপতির ২০২৭ সালের এসএসসির রুটিন প্রকাশ সালমান শাহ হত্যা: অভিনেতা ডনকে ৭ দিনের রিমান্ডে চেয়েছে সিআইডি ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’, বলটি বিক্রি হলো ৩৩ লাখ ডলারে দ্বৈত নাগরিকত্ব’ নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর পালটা প্রশ্ন— ‘কে নিউজ করছে? কার এত জ্বালা? প্রস্তুতি শেষ হলেই স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ‘ঝাঁপ দেবো’: সিইসি ৬ অক্টোবর ব্রাজিল-বাংলাদেশ প্রীতি ম্যাচ হতে পারে : বাফুফে সভাপতি রংপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা: ২ আসামির স্বীকারোক্তি

সরকারের ৬ মাস: ৩১ সূচকের ১৯টিতেই অবনতি দেখছে সিপিডি

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০১:১২:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ছয় মাসে দেশের অর্থনীতিতে অগ্রগতির চেয়ে অবনতির চিত্রই বেশি স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অর্থনীতির ৩১টি প্রধান সূচকের মধ্যে ১৯টিতেই পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ ১২টি সূচকে কিছুটা উন্নতি হলেও মূল্যস্ফীতি, মাথাপিছু ঋণসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৯টি সূচকেই নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে সিপিডি আয়োজিত ‘সরকারের ছয় মাস: পারফরম্যান্স পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ডায়ালগে এ বিশ্লেষণ তুলে ধরেন সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

সিপিডির হিসাবে, নির্বাচনে জয়ী হয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১৮০ দিন পার হলেও অর্থনীতি এখনো প্রত্যাশিত গতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। প্রবৃদ্ধি কমতে কমতে ৩ শতাংশের নিচে নেমেছে। রাজস্ব আদায়েও বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। একই সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগের গতি কমেছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতিতে যে মূল্যস্ফীতি, তারল্য সংকট, দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা, অনাদায়ী ঋণ, অর্থ পাচার ও রাজস্ব ঘাটতির মতো সমস্যা ছিল, ছয় মাস পরও সেগুলোর উল্লেখযোগ্য সমাধান হয়নি।

তার মতে, বর্তমান সরকার আগের সরকারের কাছ থেকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। কিন্তু সেই সংকট সামাল দিয়ে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে গত ছয় মাসে যে গতি প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা দেখা যায়নি।

অর্থনীতির পাশাপাশি সুশাসনের ক্ষেত্রেও হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে সিপিডির মূল্যায়নে। দেবপ্রিয় বলেন, জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রে ছিল দুটি বিষয়—অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা। ছয় মাসের পর্যালোচনায় দুটির কোনোটিতেই আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি দেখা যায়নি।

সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সিন্ডিকেট ও ‘মব কালচার’ বন্ধের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, মেধাভিত্তিক নিয়োগের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে এ ধরনের পদায়ন সাংঘর্ষিক।

‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা সত্ত্বেও মব সহিংসতা বন্ধ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন দেবপ্রিয়। তাঁর দাবি, নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে এবং এসবের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধের দৃশ্যমানতা কম।

গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রণীত আইন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, আইনে বিভিন্ন ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা রয়েছে। বিশেষ করে আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দিয়েই অনুসন্ধানের সুযোগ থাকলে সেখানে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে।

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় কী ধরনের সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল, সে বিষয়ে একটি সমন্বিত ও তথ্যভিত্তিক নথি তৈরি না করায়ও সমালোচনা করেন দেবপ্রিয়। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সংকটের কথা বলা হলেও সেগুলোর সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা একীভূত দলিল জনগণের সামনে নেই।

তবে সরকারের কয়েকটি উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখছেন তিনি। এমপিদের গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপকে স্বস্তিদায়ক বলে উল্লেখ করেন দেবপ্রিয়।

তবে তার মতে, বিচ্ছিন্ন কিছু উদ্যোগ দিয়ে অর্থনীতির সংকট কাটানো সম্ভব নয়। দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারের এখন সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে এগোনো প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সরকারের ৬ মাস: ৩১ সূচকের ১৯টিতেই অবনতি দেখছে সিপিডি

আপডেট সময় : ০১:১২:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ছয় মাসে দেশের অর্থনীতিতে অগ্রগতির চেয়ে অবনতির চিত্রই বেশি স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অর্থনীতির ৩১টি প্রধান সূচকের মধ্যে ১৯টিতেই পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ ১২টি সূচকে কিছুটা উন্নতি হলেও মূল্যস্ফীতি, মাথাপিছু ঋণসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৯টি সূচকেই নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে সিপিডি আয়োজিত ‘সরকারের ছয় মাস: পারফরম্যান্স পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ডায়ালগে এ বিশ্লেষণ তুলে ধরেন সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

সিপিডির হিসাবে, নির্বাচনে জয়ী হয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১৮০ দিন পার হলেও অর্থনীতি এখনো প্রত্যাশিত গতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। প্রবৃদ্ধি কমতে কমতে ৩ শতাংশের নিচে নেমেছে। রাজস্ব আদায়েও বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। একই সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগের গতি কমেছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতিতে যে মূল্যস্ফীতি, তারল্য সংকট, দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা, অনাদায়ী ঋণ, অর্থ পাচার ও রাজস্ব ঘাটতির মতো সমস্যা ছিল, ছয় মাস পরও সেগুলোর উল্লেখযোগ্য সমাধান হয়নি।

তার মতে, বর্তমান সরকার আগের সরকারের কাছ থেকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। কিন্তু সেই সংকট সামাল দিয়ে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে গত ছয় মাসে যে গতি প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা দেখা যায়নি।

অর্থনীতির পাশাপাশি সুশাসনের ক্ষেত্রেও হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে সিপিডির মূল্যায়নে। দেবপ্রিয় বলেন, জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রে ছিল দুটি বিষয়—অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা। ছয় মাসের পর্যালোচনায় দুটির কোনোটিতেই আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি দেখা যায়নি।

সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সিন্ডিকেট ও ‘মব কালচার’ বন্ধের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, মেধাভিত্তিক নিয়োগের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে এ ধরনের পদায়ন সাংঘর্ষিক।

‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা সত্ত্বেও মব সহিংসতা বন্ধ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন দেবপ্রিয়। তাঁর দাবি, নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে এবং এসবের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধের দৃশ্যমানতা কম।

গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রণীত আইন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, আইনে বিভিন্ন ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা রয়েছে। বিশেষ করে আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দিয়েই অনুসন্ধানের সুযোগ থাকলে সেখানে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে।

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় কী ধরনের সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল, সে বিষয়ে একটি সমন্বিত ও তথ্যভিত্তিক নথি তৈরি না করায়ও সমালোচনা করেন দেবপ্রিয়। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সংকটের কথা বলা হলেও সেগুলোর সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা একীভূত দলিল জনগণের সামনে নেই।

তবে সরকারের কয়েকটি উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখছেন তিনি। এমপিদের গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপকে স্বস্তিদায়ক বলে উল্লেখ করেন দেবপ্রিয়।

তবে তার মতে, বিচ্ছিন্ন কিছু উদ্যোগ দিয়ে অর্থনীতির সংকট কাটানো সম্ভব নয়। দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারের এখন সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে এগোনো প্রয়োজন।