আ’ লীগ নেতাদের বিনাবিচারে দীর্ঘদিন আটকিয়ে না রাখার আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের
- আপডেট সময় : ০১:০১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিক ও অন্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিনা বিচারে আটকে রাখার নিন্দা ও মুক্তির দাবি জানিয়ে এই চর্চা বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
গতকাল রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ২০২৪ সালের আগস্টের আগে কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হওয়ার পর পুলিশ আওয়ামী লীগের হাজারো নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করে। তাদের মধ্যে কয়েক শ ব্যক্তি এখনো কোনো অপরাধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত না হয়েই জেলহাজতে।
এইচআরডব্লিউ বলেছে, শেখ হাসিনা সরকারের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে কিছু কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন। তবে অনেককেই কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ ছাড়াই বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের পরিবার ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের অনেকেই বয়স্ক এবং কেউ কেউ গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এরপরও তাদের জামিন ও চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ১০ জন পদধারী ব্যক্তি কারাগারে মারা গেছেন। তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই কোনো অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই সংস্কারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তার উচিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দীর্ঘস্থায়ী ও নির্বিচার আটক বন্ধ করা।
সরকারের নতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলটি বর্তমান রূপে পাস হলে নতুন কমিশনকে নির্বিচার গ্রেপ্তারের অভিযোগ তদন্ত থেকে বিরত রাখবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এইচআরডব্লিউ।
এইচআরডব্লিউ বলেছে, যেসব মামলায় কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, সেসব মামলায়ও রাষ্ট্রপক্ষ বারবার জামিনের বিরোধিতা করছে। নিম্ন আদালত ও জেলা আদালতগুলো নিয়মিত জামিন প্রত্যাখ্যান করছেন। এমনকি হাইকোর্ট জামিন দিলেও সরকারি কর্তৃপক্ষ নতুন মামলা দিয়ে সেই জামিন কার্যকর হওয়া ঠেকিয়ে দিচ্ছে।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে থাকেন। এই ট্রাইব্যুনালের বিধান অনুযায়ী, অভিযোগ গঠন ছাড়াই এক বছরের বেশি সময় আটক রাখা কেবল লিখিতভাবে নির্ধারিত ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ সম্ভব, কিন্তু ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত যে ১৬০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছেন, তাদের কাউকেই জামিন দেননি। জামিন প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে তাদের আপিল করার অধিকারও নেই।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন কিছু ক্ষেত্রে বিচার শুরুর আগে আটক রাখা অথবা শর্ত সাপেক্ষে মুক্তির অনুমতি দেয়। তবে বিনা বিচারে আটক হওয়া উচিত ব্যতিক্রম, নিয়ম নয়। প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
প্রত্যেক আটক ব্যক্তির আটকাদেশের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনার জন্য একজন বিচারক বা সমপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করার অধিকার থাকা উচিত। আটক ব্যক্তির দ্রুত বিচারের অধিকার রয়েছে অথবা তাকে মুক্তি দিতে হবে।
এ ছাড়া বিচার শুরুর আগে আরোপ করা যেকোনো বিধিনিষেধ ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার, নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার নীতি ও আইনের দৃষ্টিতে সমতার অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
এলেইন পিয়ারসন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত কারাগারে ঘটে যাওয়া সব মৃত্যুর বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া এবং অভিযোগ ছাড়াই মানুষকে দীর্ঘ দিন ধরে নির্বিচারে আটক রাখা বন্ধ করা।




















