ঢাকা ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদ শিরোনাম ::

২ সাবেক ফেডারেশন সভাপতি আজীবন নিষিদ্ধ: ফিফা

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৬:০৯:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মন্টসেরাট ও মালদ্বীপের দুই সাবেক ফুটবল ফেডারেশন সভাপতিকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। তারা হলেন মন্টসেরাটের সাবেক ফুটবল প্রধান ভিনসেন্ট ক্যাসেল এবং মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জালিল।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ফিফার নৈতিকতা কমিটির বিচারকরা তদন্ত শেষে দুজনকেই আজীবন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। ক্যাসেলের বিরুদ্ধে দায়িত্বের অপব্যবহার, স্বার্থের সংঘাত এবং ফিফার তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

জালিলের বিরুদ্ধে অভিযোগের সঙ্গে করোনাভাইরাস মহামারির সময়ের ফিফার কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিল জড়িত। সদস্য দেশগুলোর জন্য ওই সময়ে ফিফা সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা দিয়েছিল। মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জালিল ১২ লাখ ডলার আত্মসাৎ করে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার কাজে ব্যবহার করেছিলেন। এ ঘটনায় তাকে ২৩ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছিল।

জালিলকে আজীবন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানাও করেছে ফিফা। একই ঘটনায় মালদ্বীপের সাবেক অর্থ পরিচালক মোহাম্মদ আগিলকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাকে জরিমানা করা হয়েছে ১ লাখ সুইস ফ্রাঁ।

ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, ফিফার অর্থের অপব্যবহারে সহায়তা ও তা গোপন করা, জাল নথি ব্যবহার এবং ফিফার নৈতিকতা তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে আগিলকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ক্যাসেলের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। মন্টসেরাটের দীর্ঘদিনের এই ফুটবল কর্মকর্তা ও তার সাধারণ সম্পাদক ট্যান্ডিকা হিউজ গত এপ্রিলে কর ফাঁকির মামলায় দেশটির আদালতে দোষ স্বীকার করেন।

এর আগে ২০১১ সালেও ক্যারিবিয়ান ফুটবল কর্মকর্তাদের ৪০ হাজার ডলার নগদ অর্থ দেওয়ার ঘটনায় ফিফার নৈতিকতা কমিটির তদন্তের মুখে পড়েছিলেন ক্যাসেল ও হিউজ। ওই অর্থ তৎকালীন ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারকে চ্যালেঞ্জ করে মোহাম্মদ বিন হাম্মামের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।

এসব ঘটনার পরও ক্যাসেল ও হিউজ মন্টসেরাটের ফুটবল পরিচালনা করে আসছিলেন। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক আয় থেকে দেশটির ফুটবল সংস্থাটি বছরে অন্তত ২০ লাখ ডলার পাওয়ার অধিকারী। তবে অসাধারণ সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থার কথা উল্লেখ করে গত ফেব্রুয়ারিতে সেখানে জরুরি ব্যবস্থাপনা দল নিয়োগ করে ফিফা।

আজীবন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ক্যাসেলকে ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফেডারেশনের কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছিল।

অন্যদিকে হিউজকে ১৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। অনিয়মিত লেনদেনে সুবিধা নেওয়া ও তা সহজ করার অভিযোগে তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানাও করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

২ সাবেক ফেডারেশন সভাপতি আজীবন নিষিদ্ধ: ফিফা

আপডেট সময় : ০৬:০৯:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মন্টসেরাট ও মালদ্বীপের দুই সাবেক ফুটবল ফেডারেশন সভাপতিকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। তারা হলেন মন্টসেরাটের সাবেক ফুটবল প্রধান ভিনসেন্ট ক্যাসেল এবং মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জালিল।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ফিফার নৈতিকতা কমিটির বিচারকরা তদন্ত শেষে দুজনকেই আজীবন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। ক্যাসেলের বিরুদ্ধে দায়িত্বের অপব্যবহার, স্বার্থের সংঘাত এবং ফিফার তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

জালিলের বিরুদ্ধে অভিযোগের সঙ্গে করোনাভাইরাস মহামারির সময়ের ফিফার কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিল জড়িত। সদস্য দেশগুলোর জন্য ওই সময়ে ফিফা সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা দিয়েছিল। মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জালিল ১২ লাখ ডলার আত্মসাৎ করে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার কাজে ব্যবহার করেছিলেন। এ ঘটনায় তাকে ২৩ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছিল।

জালিলকে আজীবন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানাও করেছে ফিফা। একই ঘটনায় মালদ্বীপের সাবেক অর্থ পরিচালক মোহাম্মদ আগিলকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাকে জরিমানা করা হয়েছে ১ লাখ সুইস ফ্রাঁ।

ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, ফিফার অর্থের অপব্যবহারে সহায়তা ও তা গোপন করা, জাল নথি ব্যবহার এবং ফিফার নৈতিকতা তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে আগিলকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ক্যাসেলের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। মন্টসেরাটের দীর্ঘদিনের এই ফুটবল কর্মকর্তা ও তার সাধারণ সম্পাদক ট্যান্ডিকা হিউজ গত এপ্রিলে কর ফাঁকির মামলায় দেশটির আদালতে দোষ স্বীকার করেন।

এর আগে ২০১১ সালেও ক্যারিবিয়ান ফুটবল কর্মকর্তাদের ৪০ হাজার ডলার নগদ অর্থ দেওয়ার ঘটনায় ফিফার নৈতিকতা কমিটির তদন্তের মুখে পড়েছিলেন ক্যাসেল ও হিউজ। ওই অর্থ তৎকালীন ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারকে চ্যালেঞ্জ করে মোহাম্মদ বিন হাম্মামের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।

এসব ঘটনার পরও ক্যাসেল ও হিউজ মন্টসেরাটের ফুটবল পরিচালনা করে আসছিলেন। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক আয় থেকে দেশটির ফুটবল সংস্থাটি বছরে অন্তত ২০ লাখ ডলার পাওয়ার অধিকারী। তবে অসাধারণ সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থার কথা উল্লেখ করে গত ফেব্রুয়ারিতে সেখানে জরুরি ব্যবস্থাপনা দল নিয়োগ করে ফিফা।

আজীবন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ক্যাসেলকে ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফেডারেশনের কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছিল।

অন্যদিকে হিউজকে ১৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। অনিয়মিত লেনদেনে সুবিধা নেওয়া ও তা সহজ করার অভিযোগে তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানাও করা হয়েছে।