ঢাকা ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিয়েতে নাচের জন্য ডেকে ২ নৃত্যশিল্পীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৬:০৩:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের জন্য ডেকে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে নদীর মাঝখানে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে তিতাস নদীতে একটি নৌকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের একজন কিশোরী। তারা কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার বাসিন্দা। চুক্তির ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নাচের অনুষ্ঠান করেন তারা।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ফেসবুক পেজ থেকে তাদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে রাকিব মিয়া নামের এক তরুণ যোগাযোগ করেন। শাহবাজপুর এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের জন্য ৯ হাজার টাকায় তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়।

চুক্তি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকেলে সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় আসেন ওই দুই নৃত্যশিল্পী। সেখান থেকে রাকিব ও তার সহযোগীরা তাদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শাহবাজপুরের একটি সেতুর নিচে নিয়ে যান। এরপর বিয়ের অনুষ্ঠানে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাদের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ওঠানো হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, নৌকাটি তিতাস নদীর মাঝামাঝি যাওয়ার পর চালক ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন। এরপর নৌকার ছাউনির ভেতরে দুই নারীকে নিয়ে রাকিব ও তার সহযোগীরা তাদের ধর্ষণ করেন। সঙ্গে থাকা এক তরুণ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নদীর মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৮টার দিকে নাসিরনগর উপজেলার কুণ্ডা তিতাস নদীর পাশের ভুঁইয়া ঘাটে দুই নারীকে নামিয়ে দিয়ে চলে যান অভিযুক্তরা।

ঘটনার পর আইনি সহায়তার জন্য নাসিরনগর থানায় যান ভুক্তভোগীরা। তবে ঘটনাস্থল সরাইল থানার আওতাভুক্ত হওয়ায় তাদের সেখানে গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘অপরাধ সংঘটনের ঘটনাস্থল সরাইল থানার আওতাধীন হওয়ায় ভুক্তভোগীদের সরাইল থানায় গিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল।

পরে বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। এতে রাকিব মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মামলার পর অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত ও অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে আপাতত গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। অন্যদের গ্রেপ্তারের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিয়েতে নাচের জন্য ডেকে ২ নৃত্যশিল্পীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:০৩:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের জন্য ডেকে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে নদীর মাঝখানে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে তিতাস নদীতে একটি নৌকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের একজন কিশোরী। তারা কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার বাসিন্দা। চুক্তির ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নাচের অনুষ্ঠান করেন তারা।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ফেসবুক পেজ থেকে তাদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে রাকিব মিয়া নামের এক তরুণ যোগাযোগ করেন। শাহবাজপুর এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের জন্য ৯ হাজার টাকায় তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়।

চুক্তি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকেলে সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় আসেন ওই দুই নৃত্যশিল্পী। সেখান থেকে রাকিব ও তার সহযোগীরা তাদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শাহবাজপুরের একটি সেতুর নিচে নিয়ে যান। এরপর বিয়ের অনুষ্ঠানে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাদের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ওঠানো হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, নৌকাটি তিতাস নদীর মাঝামাঝি যাওয়ার পর চালক ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন। এরপর নৌকার ছাউনির ভেতরে দুই নারীকে নিয়ে রাকিব ও তার সহযোগীরা তাদের ধর্ষণ করেন। সঙ্গে থাকা এক তরুণ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নদীর মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৮টার দিকে নাসিরনগর উপজেলার কুণ্ডা তিতাস নদীর পাশের ভুঁইয়া ঘাটে দুই নারীকে নামিয়ে দিয়ে চলে যান অভিযুক্তরা।

ঘটনার পর আইনি সহায়তার জন্য নাসিরনগর থানায় যান ভুক্তভোগীরা। তবে ঘটনাস্থল সরাইল থানার আওতাভুক্ত হওয়ায় তাদের সেখানে গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘অপরাধ সংঘটনের ঘটনাস্থল সরাইল থানার আওতাধীন হওয়ায় ভুক্তভোগীদের সরাইল থানায় গিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল।

পরে বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। এতে রাকিব মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মামলার পর অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত ও অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে আপাতত গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। অন্যদের গ্রেপ্তারের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’