ঢাকা ০৩:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্ত্রীর মৃত্যুর এক মাস না যেতেই সাংবাদিক কাজিম রেজার প্রয়াণ তারেক রহমানের ভারত সফরের সিদ্ধান্ত তার নিজের ওপরই: দীনেশ ত্রিবেদী ঢাবি অধ্যাপক অহিদুজ্জামানসহ ৩ শিক্ষককে বরখাস্তে প্রতিবাদ, উদ্বেগ খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ কোটি টাকা জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণে ৫ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসনসহ ৪ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নতুন সচিব দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সংকটের সমাধান, সরকারের অঙ্গীকার: রিজভী ফের ইরানে মার্কিন হামলা, হরমুজ ঘিরে বাড়ছে যুদ্ধের ঝুঁকি নতুন হামলায় উদ্বেগ, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের জার্মান মাটিতে রুশ ‘হাইব্রিড হামলা’, কনস্যুলেট বন্ধের পথে বার্লিন
সংবাদ শিরোনাম ::
স্ত্রীর মৃত্যুর এক মাস না যেতেই সাংবাদিক কাজিম রেজার প্রয়াণ তারেক রহমানের ভারত সফরের সিদ্ধান্ত তার নিজের ওপরই: দীনেশ ত্রিবেদী ঢাবি অধ্যাপক অহিদুজ্জামানসহ ৩ শিক্ষককে বরখাস্তে প্রতিবাদ, উদ্বেগ খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ কোটি টাকা জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণে ৫ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসনসহ ৪ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নতুন সচিব দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সংকটের সমাধান, সরকারের অঙ্গীকার: রিজভী ফের ইরানে মার্কিন হামলা, হরমুজ ঘিরে বাড়ছে যুদ্ধের ঝুঁকি নতুন হামলায় উদ্বেগ, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের জার্মান মাটিতে রুশ ‘হাইব্রিড হামলা’, কনস্যুলেট বন্ধের পথে বার্লিন

ঢাবি অধ্যাপক অহিদুজ্জামানসহ ৩ শিক্ষককে বরখাস্তে প্রতিবাদ, উদ্বেগ

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০২:৩৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সভাপতি ড. এম. অহিদুজ্জামান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান লিটুকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও মর্মাহত হওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. পূর্বা ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি বাংলাদেশের মুক্তবুদ্ধি, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, প্রগতিশীল চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নীতিমালা লঙ্ঘন করে এমন গুরুতর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ও একাডেমিক পরিবেশ সম্পর্কে গভীর উদ্বেগের জন্ম দেয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটিতে অভিযুক্তের প্রতিনিধি রাখার পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষককে জেরা করার সুযোগ দেওয়ার বিধান থাকলেও অধ্যাপক ড. এম. অহিদুজ্জামান বারবার লিখিত আবেদন করার পরও তাকে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যা অনভিপ্রেত।

এ ছাড়া অভিযুক্তের প্রতিনিধির স্বাক্ষর ছাড়া সিন্ডিকেটে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করাও অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বলে মনে করে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অধ্যাপক অহিদুজ্জামান তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণ করেছেন। তা সত্ত্বেও তাকে শাস্তি দেওয়ার মধ্য দিয়ে পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতি চালু করা হয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটি ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির প্রচেষ্টা চলছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এমন পরিস্থিতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও মর্যাদার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জ্ঞানচর্চা করবেন, প্রশ্ন করবেন, মত প্রকাশ করবেন এবং অন্যায়ের সমালোচনা করবেন— এটাই একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। মতপার্থক্য থাকলে তার সমাধান হতে হবে যুক্তি, আলোচনা, সহনশীলতা ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে; প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রয়োগ কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিষয়টি ন্যায়সংগত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পুনঃপর্যালোচনার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বুদ্ধিজীবী নিধন নয়; বরং মহান স্বাধীনতার মতাদর্শের পক্ষে অবস্থানকারী শিক্ষাবিদরা তাদের মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে প্রশাসনিক হয়রানি কিংবা শাস্তির আশঙ্কায় যেন নীরব হয়ে না পড়েন, সেদিকে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঢাবি অধ্যাপক অহিদুজ্জামানসহ ৩ শিক্ষককে বরখাস্তে প্রতিবাদ, উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০২:৩৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সভাপতি ড. এম. অহিদুজ্জামান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান লিটুকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও মর্মাহত হওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. পূর্বা ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি বাংলাদেশের মুক্তবুদ্ধি, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, প্রগতিশীল চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নীতিমালা লঙ্ঘন করে এমন গুরুতর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ও একাডেমিক পরিবেশ সম্পর্কে গভীর উদ্বেগের জন্ম দেয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটিতে অভিযুক্তের প্রতিনিধি রাখার পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষককে জেরা করার সুযোগ দেওয়ার বিধান থাকলেও অধ্যাপক ড. এম. অহিদুজ্জামান বারবার লিখিত আবেদন করার পরও তাকে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যা অনভিপ্রেত।

এ ছাড়া অভিযুক্তের প্রতিনিধির স্বাক্ষর ছাড়া সিন্ডিকেটে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করাও অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বলে মনে করে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অধ্যাপক অহিদুজ্জামান তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণ করেছেন। তা সত্ত্বেও তাকে শাস্তি দেওয়ার মধ্য দিয়ে পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতি চালু করা হয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটি ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির প্রচেষ্টা চলছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এমন পরিস্থিতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও মর্যাদার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জ্ঞানচর্চা করবেন, প্রশ্ন করবেন, মত প্রকাশ করবেন এবং অন্যায়ের সমালোচনা করবেন— এটাই একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। মতপার্থক্য থাকলে তার সমাধান হতে হবে যুক্তি, আলোচনা, সহনশীলতা ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে; প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রয়োগ কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিষয়টি ন্যায়সংগত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পুনঃপর্যালোচনার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বুদ্ধিজীবী নিধন নয়; বরং মহান স্বাধীনতার মতাদর্শের পক্ষে অবস্থানকারী শিক্ষাবিদরা তাদের মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে প্রশাসনিক হয়রানি কিংবা শাস্তির আশঙ্কায় যেন নীরব হয়ে না পড়েন, সেদিকে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া জরুরি।