ঢাকা ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনুমানই শেষ পর্যন্ত সত্যি হলো। জাতীয় সংসদে ভোটাভুটিতে ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ শেষে ফল ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

ফলে ৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুলের বঙ্গভবনে যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতাই এখন বাকি। আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার আগে মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর তিনি দুটি পদই ছেড়ে দেন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নিজেও ভোট দেন মির্জা ফখরুল। ভোট শুরুর পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তিনি ব্যালট বাক্সের সামনে উপস্থিত হন। তারেক রহমানের পর নিজের ভোট দেন ফখরুল। এরপর একে একে অন্য সংসদ সদস্যরা ভোট দেন।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে শুধু সংসদ সদস্যরাই ভোট দিতে পারেন। চট্টগ্রাম-৪ আসন শূন্য থাকায় ৩৫০ আসনের সংসদে বর্তমানে সদস্য ৩৪৯ জন। এর মধ্যে বিএনপি ও তাদের মিত্রদের ২৫০ জন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ৯০ জন, স্বতন্ত্র ৮ জন এবং ইসলামী আন্দোলনের একজন সংসদ সদস্য রয়েছেন।

ভোটে অংশ নেন মোট ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য। তবে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ সংসদ সদস্য না হওয়ায় নিজে ভোট দিতে পারেননি। তিনি বর্তমানে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নেতৃত্বে রয়েছেন।

১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলো। ওই বছর পঞ্চম সংসদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

এরপর বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদ, ইয়াজউদ্দীন আহম্মেদ, জিল্লুর রহমান, মো. আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের কোনো প্রার্থী না থাকায় তাঁরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সালের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল।

তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদে থাকলেও নানা চাপের মধ্যে ছিলেন।

এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পাঁচ মাসের মাথায় গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন সাহাবুদ্দিন। তার আগাম পদত্যাগের কারণেই নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজন পড়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত

আপডেট সময় : ০৫:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

অনুমানই শেষ পর্যন্ত সত্যি হলো। জাতীয় সংসদে ভোটাভুটিতে ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ শেষে ফল ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

ফলে ৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুলের বঙ্গভবনে যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতাই এখন বাকি। আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার আগে মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর তিনি দুটি পদই ছেড়ে দেন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নিজেও ভোট দেন মির্জা ফখরুল। ভোট শুরুর পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তিনি ব্যালট বাক্সের সামনে উপস্থিত হন। তারেক রহমানের পর নিজের ভোট দেন ফখরুল। এরপর একে একে অন্য সংসদ সদস্যরা ভোট দেন।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে শুধু সংসদ সদস্যরাই ভোট দিতে পারেন। চট্টগ্রাম-৪ আসন শূন্য থাকায় ৩৫০ আসনের সংসদে বর্তমানে সদস্য ৩৪৯ জন। এর মধ্যে বিএনপি ও তাদের মিত্রদের ২৫০ জন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ৯০ জন, স্বতন্ত্র ৮ জন এবং ইসলামী আন্দোলনের একজন সংসদ সদস্য রয়েছেন।

ভোটে অংশ নেন মোট ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য। তবে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ সংসদ সদস্য না হওয়ায় নিজে ভোট দিতে পারেননি। তিনি বর্তমানে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নেতৃত্বে রয়েছেন।

১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলো। ওই বছর পঞ্চম সংসদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

এরপর বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদ, ইয়াজউদ্দীন আহম্মেদ, জিল্লুর রহমান, মো. আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের কোনো প্রার্থী না থাকায় তাঁরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সালের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল।

তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদে থাকলেও নানা চাপের মধ্যে ছিলেন।

এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পাঁচ মাসের মাথায় গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন সাহাবুদ্দিন। তার আগাম পদত্যাগের কারণেই নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজন পড়ে।