রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হচ্ছে না শেখ হাসিনাকে— সংসদীয় কমিটিকে মোদি সরকার
- আপডেট সময় : ১১:১০:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনাকে সে দেশেও কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার। গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পরপরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় কমিটির কাছে সরকারের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া ও তার প্রত্যর্পণের বিষয়গুলোও সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। ওই সংসদীয় কমিটির সভাপতি লোকসভার বিরোধী দল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারুর।
সংসদীয় কমিটি উল্লেখ করেছে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারিত হয়েছে ভারতের মানবিক ঐতিহ্যের মাধ্যমে, যেখানে অস্তিত্বের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া হয়। মানবিক বিবেচনা দেখালেও ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে না দেওয়ার নীতিও কঠোরভাবে মেনে চলা হচ্ছে।
‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ নিয়ে কমিটি তাদের সবশেষ প্রতিবেদনে সুপারিশ করেছে, ভারত সরকারের নীতিগত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা উচিত। তবে এ বিষয়ে যথাযথ সংবেদনশীলতা দেখানোর কথাও বলা হয়েছে।
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে সংসদীয় কমিটির কাছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঢাকার পাঠানো প্রত্যর্পণ অনুরোধটি প্রাসঙ্গিক আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করে দেখছে।
গত ১৭ জুলাইও ভারত সরকার জানিয়েছিল, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ সম্পূর্ণ আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আলোকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর আগে এ মাসের শুরুর দিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন তিনি। শুধু তাই নয়, তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও শীর্ষ নেতাদের অনেকেও একই সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন।
দেশে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ খারাপ কিছু করে থাকলে জনগণেই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। এ বিষয়ে জনগণেরই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার এ ঘোষণায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ায় দেশে ফিরলেই তাকে গ্রেপ্তার হতে হবে।
ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করব— রয়টার্সকে শেখ হাসিনা
বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানও একই কথা জানিয়েছেন। বলেছেন, শেখ হাসিনার তার দেশে ফেরার পুরো বিষয়টিই আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় আলোকেই পরিচালিত হবে। বাংলাদেশের সীমানায় পা দিলেই তিনি গ্রেপ্তার হবেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগসহ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বড় একটি অংশ ভারতে আশ্রয় নেন বলে খবর আসে গণমাধ্যমে। পরে দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও ভারতে গোপনে তাদের কার্যক্রম চলছিল বলে খবর পাওয়া যায়। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে উঠে, কলকাতার একটি বাণিজ্যিক ভবনে রীতিমতো কার্যালয়ও খুলে বসেছে আওয়ামী লীগ।
ভারতের পক্ষ থেকে অবশ্য বারবারই তাদের দেশে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সবশেষ সংসদীয় কমিটির বৈঠকেও মোদি সরকার জানাল, শেখ হাসিনা ও তার দলকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো রাজনীতি করতে দেওয়া হচ্ছে না।










