ঢাকা ০৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদ শিরোনাম ::

বিজয়-রজনীকান্তের পর এবার কি রাজনীতিতে পা রাখছেন ধানুশ?

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৫:৫২:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অভিনেতা বিজয় থেকে শুরু করে ইতিহাসজুড়ে তামিল সিনেমার মহাতারকাদের রাজনীতিতে নামার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে তামিলনাড়ুতে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার কি যুক্ত হতে যাচ্ছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ধানুশ?

আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ঘোষণা না দিলেও, সম্প্রতি তার ফ্যান ক্লাবগুলোর ব্যাপক পুনর্গঠন, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি এবং প্রকাশ্যে অভিনেতার দেওয়া কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তামিলনাড়ুর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে।

সামনে অভিনেতার জন্মদিন উপলক্ষ্যে তিরুভাল্লুর জেলাসহ তামিলনাড়ুজুড়ে রক্তদান শিবির ও ত্রাণ বিতরণের মতো বৃহৎ সামাজিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তার ভক্ত সংগঠনগুলো। ঘটনাপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে সম্প্রতি ধানুশের ফ্যান ক্লাবের নিজস্ব অফিশিয়াল পতাক উন্মোচন। সিনেমার অডিও লঞ্চ বা কাটিং উৎসবের গণ্ডি পেরিয়ে ভক্তদের এই সংগঠিত সামাজিক উপস্থিতি তামিল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বাধ্য করছে এটিকে কেবল ‘ভক্তদের উল্লাস’ হিসেবে না দেখার জন্য।

ভক্তদের এক সমাবেশে ধানুশ তাদের সংহত শক্তিকে সমাজসেবায় কাজে লাগানোর সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আপনারা আজ যেভাবে এক ছাদের নিচে সমবেত হয়েছেন, এই ঐক্যের মধ্যেই অনেক বড় শক্তি লুকিয়ে আছে। এই শক্তিকে একটা স্পষ্ট এবং শুভ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করুন। সিনেমা বা অডিও লঞ্চের বাইরে গিয়ে আশেপাশের প্রতিবেশীদের সমস্যা জানুন, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং জনকল্যাণমূলক কাজ আরও বাড়িয়ে দিন।”

তামিলনাড়ুতে রজনীকান্ত যে ‘আধ্যাত্মিক রাজনীতি’ বা স্পিরিচ্যুয়াল পলিটিকসের সম্ভাবনা তৈরি করে শেষমুহূর্তে পিছিয়ে এসেছিলেন, ভক্তেরা দেখছেন ধানুশের মধ্যেও সেই একই ছাঁচ। ভগবান শিবের পরম ভক্ত ধানুশ সম্প্রতি নিজের বক্তব্য শেষ করেছেন ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ ধ্বনি দিয়ে। আর সেখান থেকেই উঠছে প্রশ্ন— রজনীকান্ত যেখানে থেমে গিয়েছিলেন, ধানুশ কি সেখান থেকেই শুরু করতে যাচ্ছেন?

ধানুশের রাজনীতিতে আসার গুঞ্জন নিয়ে ডিএমকে’র পক্ষ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। দলটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে যে কেউই রাজনীতিতে আসতে পারেন, আমরা তাদের স্বাগতম জানাই।”

যদিও এখন পর্যন্ত ধানুশ কোনো রাজনৈতিক দল গঠন বা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে দেননি, তবে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ফ্যান ক্লাবগুলোকে সুসংগঠিত করে রাজপথে নামানোর এই পরিচিত ছক নির্দেশ করছে নতুন কোনও সমীকরণেরই ইঙ্গিত!

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিজয়-রজনীকান্তের পর এবার কি রাজনীতিতে পা রাখছেন ধানুশ?

আপডেট সময় : ০৫:৫২:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

অভিনেতা বিজয় থেকে শুরু করে ইতিহাসজুড়ে তামিল সিনেমার মহাতারকাদের রাজনীতিতে নামার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে তামিলনাড়ুতে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার কি যুক্ত হতে যাচ্ছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ধানুশ?

আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ঘোষণা না দিলেও, সম্প্রতি তার ফ্যান ক্লাবগুলোর ব্যাপক পুনর্গঠন, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি এবং প্রকাশ্যে অভিনেতার দেওয়া কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তামিলনাড়ুর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে।

সামনে অভিনেতার জন্মদিন উপলক্ষ্যে তিরুভাল্লুর জেলাসহ তামিলনাড়ুজুড়ে রক্তদান শিবির ও ত্রাণ বিতরণের মতো বৃহৎ সামাজিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তার ভক্ত সংগঠনগুলো। ঘটনাপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে সম্প্রতি ধানুশের ফ্যান ক্লাবের নিজস্ব অফিশিয়াল পতাক উন্মোচন। সিনেমার অডিও লঞ্চ বা কাটিং উৎসবের গণ্ডি পেরিয়ে ভক্তদের এই সংগঠিত সামাজিক উপস্থিতি তামিল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বাধ্য করছে এটিকে কেবল ‘ভক্তদের উল্লাস’ হিসেবে না দেখার জন্য।

ভক্তদের এক সমাবেশে ধানুশ তাদের সংহত শক্তিকে সমাজসেবায় কাজে লাগানোর সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আপনারা আজ যেভাবে এক ছাদের নিচে সমবেত হয়েছেন, এই ঐক্যের মধ্যেই অনেক বড় শক্তি লুকিয়ে আছে। এই শক্তিকে একটা স্পষ্ট এবং শুভ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করুন। সিনেমা বা অডিও লঞ্চের বাইরে গিয়ে আশেপাশের প্রতিবেশীদের সমস্যা জানুন, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং জনকল্যাণমূলক কাজ আরও বাড়িয়ে দিন।”

তামিলনাড়ুতে রজনীকান্ত যে ‘আধ্যাত্মিক রাজনীতি’ বা স্পিরিচ্যুয়াল পলিটিকসের সম্ভাবনা তৈরি করে শেষমুহূর্তে পিছিয়ে এসেছিলেন, ভক্তেরা দেখছেন ধানুশের মধ্যেও সেই একই ছাঁচ। ভগবান শিবের পরম ভক্ত ধানুশ সম্প্রতি নিজের বক্তব্য শেষ করেছেন ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ ধ্বনি দিয়ে। আর সেখান থেকেই উঠছে প্রশ্ন— রজনীকান্ত যেখানে থেমে গিয়েছিলেন, ধানুশ কি সেখান থেকেই শুরু করতে যাচ্ছেন?

ধানুশের রাজনীতিতে আসার গুঞ্জন নিয়ে ডিএমকে’র পক্ষ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। দলটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে যে কেউই রাজনীতিতে আসতে পারেন, আমরা তাদের স্বাগতম জানাই।”

যদিও এখন পর্যন্ত ধানুশ কোনো রাজনৈতিক দল গঠন বা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে দেননি, তবে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ফ্যান ক্লাবগুলোকে সুসংগঠিত করে রাজপথে নামানোর এই পরিচিত ছক নির্দেশ করছে নতুন কোনও সমীকরণেরই ইঙ্গিত!