ঢাকা ১১:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সব ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা— ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় একমত বিশ্বনেতারা

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৭:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নয়া দিল্লিতে শুরু হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় সদস্য দেশগুলোর ঐকমত্য হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। স্থানীয় সময় শনিবার বিকাল ৪টায় ‘ব্রিকস নয়া দিল্লি ঘোষণা’ প্রকাশ করা হবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ঘোষণায় কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ নিন্দা জানানো হবে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের মধ্যে ব্রিকসের এমন অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, সংঘাত অবসানে ‘সংলাপ ও কূটনীতিই সামনে এগোনোর পথ’—এই বিষয়টির ওপর যৌথ ঘোষণায় জোর দেওয়া হবে। স্থানীয় সময় বেলা আড়াইটায় সম্মেলন শুরু হচ্ছে। চলবে রোববার পর্যন্ত।

ভারতের সভাপতিত্বে এবারের সম্মেলনে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সব সদস্যকে যৌথ ঘোষণায় একমত করাতে পারাকে ভারতের কূটনীতি এবং ব্রিকসের ‘শেরপাদের’ বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ভারতের ঘনিষ্ঠ দুই মিত্র ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মতপার্থক্যের কারণে যৌথ ঘোষণা আটকে গিয়েছিল। চলতি বছরের মে মাসে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও একই কারণে যৌথ ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হয়নি। দুই দিনের ওই বৈঠকের পর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক দূরত্ব ঘোচাতেও পারেনি ভারত।

তবে এবার সদস্য দেশগুলোকে রাজি করাতে পারাকে ভারতের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়া দিল্লির ভারত মণ্ডপমে শিগগিরই জড়ো হচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ অন্য নেতারা।

শনিবার সম্মেলনে যোগ দিতে নয়া দিল্লিতে পৌঁছেছেন শি জিনপিং। সাত বছর পর এটি তার প্রথম ভারত সফর। সম্মেলনের ফাঁকে এদিন সন্ধ্যায় শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন মোদী।

এর আগে শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে ভারত-ইরান সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন মোদী। বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতিই বেশি গুরুত্ব পায়।

পশ্চিম এশিয়া সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে ‘সংলাপ ও কূটনীতিকেই’ সামনে এগোনোর পথ হিসেবে জোর দিয়ে আসছে ভারত। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করে সরবরাহ নিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

বৈঠকের পর মোদী বলেন, পেজেশকিয়ানের ভারত সফর ‘আরও বিশেষ’, কারণ এটি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম ভারত সফর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সব ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা— ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় একমত বিশ্বনেতারা

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নয়া দিল্লিতে শুরু হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় সদস্য দেশগুলোর ঐকমত্য হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। স্থানীয় সময় শনিবার বিকাল ৪টায় ‘ব্রিকস নয়া দিল্লি ঘোষণা’ প্রকাশ করা হবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ঘোষণায় কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ নিন্দা জানানো হবে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের মধ্যে ব্রিকসের এমন অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, সংঘাত অবসানে ‘সংলাপ ও কূটনীতিই সামনে এগোনোর পথ’—এই বিষয়টির ওপর যৌথ ঘোষণায় জোর দেওয়া হবে। স্থানীয় সময় বেলা আড়াইটায় সম্মেলন শুরু হচ্ছে। চলবে রোববার পর্যন্ত।

ভারতের সভাপতিত্বে এবারের সম্মেলনে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সব সদস্যকে যৌথ ঘোষণায় একমত করাতে পারাকে ভারতের কূটনীতি এবং ব্রিকসের ‘শেরপাদের’ বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ভারতের ঘনিষ্ঠ দুই মিত্র ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মতপার্থক্যের কারণে যৌথ ঘোষণা আটকে গিয়েছিল। চলতি বছরের মে মাসে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও একই কারণে যৌথ ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হয়নি। দুই দিনের ওই বৈঠকের পর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক দূরত্ব ঘোচাতেও পারেনি ভারত।

তবে এবার সদস্য দেশগুলোকে রাজি করাতে পারাকে ভারতের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়া দিল্লির ভারত মণ্ডপমে শিগগিরই জড়ো হচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ অন্য নেতারা।

শনিবার সম্মেলনে যোগ দিতে নয়া দিল্লিতে পৌঁছেছেন শি জিনপিং। সাত বছর পর এটি তার প্রথম ভারত সফর। সম্মেলনের ফাঁকে এদিন সন্ধ্যায় শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন মোদী।

এর আগে শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে ভারত-ইরান সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন মোদী। বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতিই বেশি গুরুত্ব পায়।

পশ্চিম এশিয়া সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে ‘সংলাপ ও কূটনীতিকেই’ সামনে এগোনোর পথ হিসেবে জোর দিয়ে আসছে ভারত। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করে সরবরাহ নিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

বৈঠকের পর মোদী বলেন, পেজেশকিয়ানের ভারত সফর ‘আরও বিশেষ’, কারণ এটি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম ভারত সফর।