সাজাপ্রাপ্ত ১০৪ বছরের বৃদ্ধের আত্মসমর্পণ
- আপডেট সময় : ০৬:৫৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
প্রায় দুই যুগ আগে কিশোরগঞ্জে একটি দোকানে ডাকাতির সময় দুই ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত নুর মোহাম্মদকে (১০৪) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন চেয়েছিলেন তিনি।
তবে আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘অসুস্থ বিবেচনায় নিজ খরচে পরিবহনে করে কারাগারে যাওয়ার আবেদন করেন। তবে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।’
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকায় ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতি করতে যায় একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় মোশাররফ হোসেন ও আ. কবির নামে দুজনকে হত্যা করা হয়। পরে দোকানের সিন্দুক থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা।
গোপালগঞ্জে কনসার্টে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান, আয়োজক গ্রেপ্তার
এ ঘটনায় দোকানের মালিক ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেন কিশোরগঞ্জ থানার এসআই আনোয়ার হোসেন।
পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার শুরু হয়। একপর্যায়ে বিচারকাজ কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। বিচার চলাকালে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এরপর ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মামলাটির রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহ আলম, মইন উদ্দিন ওরফে মঈন উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আলম, দিলু ওরফে দেলোয়ার হোসেন, শুকুর আলী ও আলতু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে জসিম, সিদ্দিক, আমির চান, কবির ও বজলুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং তা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তবে মামলার বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া মারা যান। পরে ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ অগাস্ট উচ্চ আদালত শাহ আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অন্যান্য আসামির সাজা বিভিন্ন মেয়াদে কমিয়ে দেওয়া হয়। নুর মোহাম্মদের ১০ বছরের সাজা হয়।
প্রধানমন্ত্রীকে ‘কটূক্তি’: সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সিফাত কারাগারে
সেই সাজা কার্যকরের জন্য আজ মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন নুর মোহাম্মদ। তার পক্ষে আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘তার (নুর মোহাম্মদ) বয়স ১০৪ বছর। স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। তাকে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করতে হয়।’
আইনজীবী ফয়সাল আরও বলেন, ‘তিনি (নুর মোহাম্মদ) জটিল রোগে আক্রান্ত। স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। আপিলের শর্তে জামিন প্রার্থনা করছি।’ তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত নুর মোহাম্মদের জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, নুর মোহাম্মদ এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে তিনি পলাতক হন। মামলার রায় ঘোষণার সময়ও তিনি পলাতক ছিলেন। দুই যুগ পর সেই মামলায় ১০ বছরের সাজা ভোগ করতে ১০৪ বছর বয়সে কারাগারে গেলেন তিনি।




















