সার সংকট: রৌমারীতে গুদাম ভেঙে সার নিয়ে গেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা
- আপডেট সময় : ০৩:১৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রামে সারের চাহিদা ও সরবরাহ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। সার বিতরণে দেরির অভিযোগে এক ডিলারের গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে সার নিয়ে গেছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। একই দিনে ভূরুঙ্গামারীতে চাহিদামতো সার না পেয়ে সড়ক অবরোধের পাশাপাশি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন কৃষকরা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় বাজারে মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের গুদামে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, সার বিতরণের আশায় রোববার রাত দুইটা থেকেই তাঁরা গুদামের সামনে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন। সকাল পর্যন্ত বিতরণ শুরু না হওয়ায় অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে কয়েকজন কৃষক গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সার নিয়ে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজনকে গুদাম থেকে সার বের করে মাথায় ও ভ্যানে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া সার লুটের ঘটনা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ভুয়া এবং বন্দবেড় ইউনিয়নে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, উপজেলায় ৪২ হাজার কৃষক রয়েছেন এবং সবাই সঠিকভাবে সার পাচ্ছেন।
অন্যদিকে গুদাম কর্তৃপক্ষের দাবি, ঘটনাটি সত্য। মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, গুদামে ৭৫০ বস্তা সার ছিল এবং সকালে প্রায় এক হাজার কৃষক সেখানে জড়ো হন। কে আগে সার নেবেন তা নিয়ে ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে তাঁরা পরিস্থিতি সামাল দিতে থানা ও ইউএনও কার্যালয়ে যান।
এই সুযোগে কৃষকেরা গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমানে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় অবশিষ্ট সার বিতরণ করা হচ্ছে। হিসাব শেষ হলে নেওয়া সারের সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।
রৌমারী থানার ওসি কাওসার আলী বলেন, সার বিতরণের সময় পুলিশকে আগে থেকে জানানো হয়নি। পরে কৃষকদের ক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এদিকে একই সকালে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট এলাকায় চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগে কৃষকরা সড়ক অবরোধ করেন। তাঁরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেলে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা তাঁকে কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, উপজেলার কোনো না কোনো ইউনিয়নে প্রায় প্রতিদিনই সার নিয়ে কৃষকদের বিক্ষোভ হচ্ছে। কোথাও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে নিয়মিত মাঠে নামতে হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন অবশ্য জেলায় পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার দাবি করেছেন। তাঁর মতে, আগাম ভুট্টা ও বেগুন চাষের জন্য অনেক কৃষক বাড়তি সার সংগ্রহ করছেন। এতে কিছু এলাকায় সাময়িক সংকট তৈরি হচ্ছে।
কুড়িগ্রামে সার নিয়ে কৃষকদের বিক্ষোভ নতুন নয়। রোববার নাগেশ্বরীর কচাকাটা বাজারে সার বিতরণে দেরির অভিযোগে এক পরিবেশকের গুদামে ভাঙচুর করেন কৃষকরা। একই দিনে ভূরুঙ্গামারীতেও সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ হয়।
এর আগে ২৩ আগস্ট ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে এক ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যান কৃষকরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে ১১৫ বস্তা সার ফেরত দেওয়া হয়।
ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে কৃষকদের সময়মতো সার না দেওয়া এবং ক্যাশমেমোতে অসংগতির অভিযোগ ওঠে। পরে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।



















