৬৪ জেলার দায়িত্বে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ
- আপডেট সময় : ০৯:৫২:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
দেশের ৬৪ জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পাশাপাশি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন দলের হুইপ ও সংসদ সদস্যদের নতুন করে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।
ক্ষমতাসীন দলের ৩০ জন সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে দেশের ৬৪ জেলার দায়িত্ব দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও আইনি সংস্থার আইনি ক্ষমতা খর্ব না করে সরকারের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করবেন।
সরকার বলছে, এসব দায়িত্ব দেওয়ার ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সাংবিধানিক কিংবা আইনি সংস্থার আইনি ক্ষমতা খর্ব হবে না।
‘ফ্যাসিস্ট আমলে’ দেশের বিভিন্ন জেলার উন্নয়ন বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে সেই অর্থ লুটপাট করা হয়েছে উল্লেখ করে সরকার বলছে, লুট করা অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে, আরেকটি অংশ দেশের ভেতরে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়ে ভূমিকা রাখা এবং জননিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে— এমন কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দুর্নীতি নির্মূল বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, টেকসই উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সংসদ ও জনগণের কাছেও সম্মিলিতভাবে জবাবদিহি করতে বাধ্য সরকার।
কোন জেলার দায়িত্বে কে
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু—ঢাকাহাবিবুর রশিদ—গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল—মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জমো. শরীফুল আলম—টাঙ্গাইল ও নরসিংদীশামা ওবায়েদ ইসলাম—মাদারীপুর ও শরীয়তপুরমিয়াঁ নুরুদ্দিন আহম্মেদ—রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জইয়াসের খান চৌধুরী—জামালপুর ও কিশোরগঞ্জএম রশিদুজ্জামান মিল্লাত—শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনামো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী—চট্টগ্রামআব্দুল আউয়াল মিন্টু—লক্ষ্মীপুরজাকারিয়া তাহের—ফেনী ও নোয়াখালীসাচিং প্রু—কক্সবাজারমীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন—খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটিএ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)— ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুরইকবাল হাসান মাহমুদ—রাজশাহী ও নাটোরআব্দুল বারী—বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জফারজানা শারমিন—সিরাজগঞ্জ ও পাবনামোহাম্মদ শামীম কায়সার—জয়পুরহাট ও নওগাঁডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন—লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়আসাদুল হাবিব দুলু—ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরমীর শাহে আলম—রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামখন্দকার আবদুল মুক্তাদির—হবিগঞ্জআরিফুল হক চৌধুরী—মৌলভীবাজারআলহাজ মো. জি কে গউস—সিলেট ও সুনামগঞ্জনিতাই রায় চৌধুরী—চুয়াডাঙ্গামো. আসাদুজ্জামান—খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটঅনিন্দ্য ইসলাম অমিত—মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহশেখ ফরিদুল ইসলাম—যশোর, মাগুরা ও নড়াইলমো. রাজীব আহসান—বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুরআহমেদ সোহেল মঞ্জুর—বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি
দায়িত্বপ্রাপ্তদের কার্যপরিধি
প্রজ্ঞাপনে জেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্তদের কার্যপরিধি হিসেবে বলা হয়েছে—
মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, গুরুতর অপরাধ দমনসহ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া;সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান তৈরি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের তদারকি ও পরামর্শ দেওয়া; এবংদায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপরা প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ ও পরামর্শ দিতে পারবেন।
সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপনে এসব দায়িত্ব দেওয়ার সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, বিষয়গুলো মন্ত্রিসভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এবং কার্যপ্রণালিবিধির প্রথম অধ্যায়ের ৪(ii) বিধি, দ্বিতীয় অধ্যায়ের ১৬(ix)(e) ও ১৬(xii) বিধির অধীনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে ২০০৩ সালের একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া রায়ের উল্লেখ করে বলা হয়, ‘রায়ের মর্মমতে এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টন সরকারের এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে।’




















