অক্টোবরে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য: রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত
- আপডেট সময় : ১১:০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আগামী অক্টোবর মাসকে লক্ষ্য হিসেবে নেওয়া হয়েছে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন।
তিনি জানান, প্রকল্পটিতে যেসব কারিগরি জটিলতা রয়েছে সেগুলো দ্রুত সমাধানে প্রায় চার হাজার রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী কাজ করছেন। আগামী মাসের মধ্যেই এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রথম ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গুলশানে ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই কার্যালয়ে প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে যৌথ ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের আগ্রহের কথা জানান রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে মস্কোতে ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’ আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, নভেম্বরের শুরুতে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় আন্তঃসরকার কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে মস্কোতে বিজনেস ফোরাম আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এতে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের প্রোফাইলের ভিত্তিতে সরাসরি বিটুবি বৈঠকসহ বিভিন্ন সেশন আয়োজন করা হবে।
বাংলাদেশ-রাশিয়ার বাণিজ্য বাড়াতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন ও সম্ভাবনাময় খাতে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক। তিনি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিকসহ রাশিয়ায় মানবসম্পদ রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ থেকে জেনেরিক ওষুধ আমদানির বিষয়ে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রক্রিয়াগত ও আইনি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। এ ছাড়া রাশিয়ার তীব্র শীতের উপযোগী ভারী জুতা ও চামড়াজাত পণ্যের ভালো চাহিদা রয়েছে।
কৃষি, মৎস্য, জাহাজ নির্মাণ শিল্প ও সেবা খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৈঠক শেষে সরকার ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত উদ্যোগে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন উভয় পক্ষ।



















