সুদানে সোনার খনি ধসে অন্তত ৮২ জনের মৃত্যু
- আপডেট সময় : ১০:৪৮:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
সুদানের কর্ডোফান অঞ্চলে একটি অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত সোনার খনি ধসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮২ জন শ্রমিক, আহত হয়েছেন আরও ৫০ জন। এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন বহু মানুষ, যাদের আর জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন তাদের সহকর্মীরা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ ও বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই হৃদয়বিদারক তথ্য উঠে এসেছে।
ঘটনাটি ঘটে পশ্চিম কর্ডোফানের ‘আল জারা’ নামের একটি অনিয়ন্ত্রিত সোনার খনিতে। গত মঙ্গলবার খনির সুড়ঙ্গগুলো একে একে ধসে পড়তে শুরু করলে ভেতরে কাজ করতে থাকা ডজন ডজন তরুণ শ্রমিক আটকা পড়েন। বুধবার সকাল পর্যন্ত ৮২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে কোদাল, শাবল ও খালি হাতে সাধারণ সরঞ্জাম দিয়েই উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন সহকর্মীরা। বেঁচে যাওয়া শ্রমিক খাইর আল সাইয়েদ ও আল আমিন সুলেইমান জানান, সুড়ঙ্গগুলো একে অপরের খুব কাছাকাছি থাকায় একটি ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাকিগুলোও ভেঙে পড়ে। মাটির নিচে ঠিক কতজন চাপা পড়ে আছেন, ভারী যন্ত্রপাতি না থাকায় তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা সম্ভব হচ্ছে না।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী ‘র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস’ -এর মধ্যে গৃহযুদ্ধ চলছে। এই সংঘাতের খরচ জোগানোর মূল উৎস বহুল আলোচিত সোনা বাণিজ্য। তীব্র খাদ্যসংকট ও চরম বেকারত্বের মুখে পড়ে দেশটির লাখ লাখ তরুণ বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব অনিরাপদ খনিতে নেমে পড়েন।
সুদানের বেশিরভাগ খনি সরকারি অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হয়। কম মজুরিতে কাজ করা এসব শ্রমিক সোনা আলাদা করতে সায়ানাইড ও পারদের মতো বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করেন, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এই শোষণমূলক বাণিজ্য রুখতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য সুদানের সোনা বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং পারদ ও সায়ানাইড বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।



















