ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক চায় ভারত: জয়সওয়াল

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৭:২৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পারস্পরিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নয়া দিল্লিতে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ অবস্থানের কথা জানান।

মঙ্গলবারের (১৮ আগস্ট) ব্রিফিংয়ে জয়সওয়ালকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তবে এর জবাবে তিনি নিশ্চিতভাবে কিছু জানাননি।

তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারী এবং পলাতক অন্য আশ্রয়প্রাপ্তদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শর্ত আরোপ নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘এ বিষয়ে নতুন কিছু বলার নেই। প্রত্যর্পণ নিয়ে আমাদের অবস্থান একই রকম। বাংলাদেশের অনুরোধ ভারতের বিদ্যমান প্রক্রিয়ার নিরিখে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর ছাড়াও মঙ্গলবারের ব্রিফিংয়ে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। ভারত থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি পেতে বাংলাদেশের অনুরোধ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে জয়সওয়াল আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেন। বলেন, ভারতে জ্বালানির মজুত, শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশকে বাড়তি জ্বালানি দেওয়া সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ দিন বাংলাদেশে চলমান ভারতীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর থমকে থাকা কাজ আবার শুরু করার বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। এক সাংবাদিক জানতে চান, এসব প্রকল্পের কাজ শুরু করার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতকে কোনো অনুরোধ করা হয়েছে কি না।

এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। এ সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে বলে জানান তিনি।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিমের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ভারতীয় উপমহাদেশীয় অঞ্চলে আল-কায়েদার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংগঠনটি বাংলাদেশে ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা করছে।

প্রত্যর্পণ ইস্যু অমীমাংসিত রেখেই কি এগোবে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক?

ওই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ ও নিরাপত্তা প্রত্যেকের কাছেই উদ্বেগের। আমরা চাই, হাতে হাত মিলিয়ে এই বিপদের মোকাবিলা করতে।’ তিনি বলেন, ওই প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই শক্তিরাই নয়া দিল্লির লালকেল্লায় হামলা চালিয়েছিল।

ব্রিফিংয়ে তিস্তার পানিবণ্টন এবং তিস্তা প্রকল্পে চীনের আগ্রহ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জানতে চাওয়া হয়, তিস্তা নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশ আলাদাভাবে কোনো আগ্রহ দেখিয়েছে কি না। পাশাপাশি তিস্তা প্রকল্পে চীনের আগ্রহের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ভারত কোনো উদ্বেগ জানিয়েছে কি না, সেটিও জানতে চান সাংবাদিকরা।

জয়সওয়াল এ প্রশ্নেরও বিস্তারিত কোনো উত্তর দেননি। তিনি দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টনের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক চায় ভারত: জয়সওয়াল

আপডেট সময় : ০৭:২৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

পারস্পরিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নয়া দিল্লিতে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ অবস্থানের কথা জানান।

মঙ্গলবারের (১৮ আগস্ট) ব্রিফিংয়ে জয়সওয়ালকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তবে এর জবাবে তিনি নিশ্চিতভাবে কিছু জানাননি।

তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারী এবং পলাতক অন্য আশ্রয়প্রাপ্তদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শর্ত আরোপ নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘এ বিষয়ে নতুন কিছু বলার নেই। প্রত্যর্পণ নিয়ে আমাদের অবস্থান একই রকম। বাংলাদেশের অনুরোধ ভারতের বিদ্যমান প্রক্রিয়ার নিরিখে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর ছাড়াও মঙ্গলবারের ব্রিফিংয়ে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। ভারত থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি পেতে বাংলাদেশের অনুরোধ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে জয়সওয়াল আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেন। বলেন, ভারতে জ্বালানির মজুত, শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশকে বাড়তি জ্বালানি দেওয়া সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ দিন বাংলাদেশে চলমান ভারতীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর থমকে থাকা কাজ আবার শুরু করার বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। এক সাংবাদিক জানতে চান, এসব প্রকল্পের কাজ শুরু করার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতকে কোনো অনুরোধ করা হয়েছে কি না।

এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। এ সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে বলে জানান তিনি।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিমের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ভারতীয় উপমহাদেশীয় অঞ্চলে আল-কায়েদার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংগঠনটি বাংলাদেশে ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা করছে।

প্রত্যর্পণ ইস্যু অমীমাংসিত রেখেই কি এগোবে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক?

ওই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ ও নিরাপত্তা প্রত্যেকের কাছেই উদ্বেগের। আমরা চাই, হাতে হাত মিলিয়ে এই বিপদের মোকাবিলা করতে।’ তিনি বলেন, ওই প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই শক্তিরাই নয়া দিল্লির লালকেল্লায় হামলা চালিয়েছিল।

ব্রিফিংয়ে তিস্তার পানিবণ্টন এবং তিস্তা প্রকল্পে চীনের আগ্রহ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জানতে চাওয়া হয়, তিস্তা নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশ আলাদাভাবে কোনো আগ্রহ দেখিয়েছে কি না। পাশাপাশি তিস্তা প্রকল্পে চীনের আগ্রহের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ভারত কোনো উদ্বেগ জানিয়েছে কি না, সেটিও জানতে চান সাংবাদিকরা।

জয়সওয়াল এ প্রশ্নেরও বিস্তারিত কোনো উত্তর দেননি। তিনি দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টনের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেন।