ভাঙা আঙুলে খেলে ক্লাবকে শিরোপা জেতালেন মার্টিনেজ

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৫:৫১:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফাইনালের মঞ্চ যেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজের জন্য আলাদা করেই লেখা। চাপ, ব্যথা কিংবা প্রতিকূলতা— কিছুই যেন থামাতে পারে না আর্জেন্টাইন এই গোলরক্ষককে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ম্যাচ শুরুর আগেই আঙুল ভেঙে যায়, তবুও পুরো ম্যাচ খেলেছেন। আর শেষ পর্যন্ত অ্যাস্টন ভিলাকে এনে দিয়েছেন ৪৪ বছরের মধ্যে প্রথম ইউরোপীয় শিরোপা।

ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ইউরোপা লিগ ফাইনালে এসসি ফ্রাইবার্গকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। ম্যাচের আগে ওয়ার্ম-আপের সময়ই চোটে পড়েন মার্টিনেজ। আঙুলে ব্যথা নিয়ে মাঠের একপাশে চিকিৎসাও নিতে দেখা যায় তাকে। পরে টেপ পেঁচিয়ে মাঠে ফেরেন তিনি।

তবে চোট যেন তার মনোবল আরও বাড়িয়ে দেয়। পুরো ম্যাচে গোলপোস্টের নিচে ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। ফ্রাইবার্গের কয়েকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ ঠেকিয়ে দলকে ক্লিন শিট উপহার দেন এই বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক।

ম্যাচ শেষে মার্টিনেজ বলেন, ‘ওয়ার্ম-আপের সময়ই আমার আঙুল ভেঙে যায়। কিন্তু আমি সবসময় বিশ্বাস করি, খারাপ কিছুর মধ্যেও ভালো কিছু লুকিয়ে থাকে। জীবনে সবসময় এভাবেই এগিয়েছি এবং এগিয়ে যাব।’

ফুটবলের ‘জেনারেল’ ও ‘লিটল জেনারেল’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে কখনো আঙুল ভাঙেনি। বল ধরতে গেলেই আঙুলটা অন্যদিকে সরে যাচ্ছিল। কিন্তু এসবের মধ্য দিয়েই যেতে হয়। অ্যাস্টন ভিলার জার্সি পরে খেলতে পারাটা আমার জন্য গর্বের।’

আমরা ইরান ইস্যুতে চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি : ট্রাম্প

ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে গোল করেন ইউরি তিলেমানস, এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া ও মরগান রজার্স। এই জয়ে তিন দশকের ট্রফিখরা কাটাল ইংলিশ ক্লাবটি। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের নতুন করে জানান দিল উনাই এমেরির দল।

শেষ বাঁশির পর ব্যথা ভুলে সতীর্থদের সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠেন মার্টিনেজ। সমর্থকদের দিকে ছুটে যান, এমনকি কোচ উনাই এমেরিকে কাঁধে তুলে নিতেও দেখা যায় তাকে।

আর্সেনালের সাবেক এই গোলরক্ষকের ক্যারিয়ারে ফাইনাল মানেই যেন সাফল্যের গল্প। এখন পর্যন্ত খেলা প্রতিটি ফাইনালেই জয় পেয়েছেন তিনি। তালিকায় আছে বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা, এফএ কাপ এবং এবার ইউরোপা লিগও।

আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আর্জেন্টিনা শিবিরে অবশ্য তার চোট নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকবেই। তবে ম্যাচ শেষে মার্টিনেজের অভিব্যক্তিতে বড় কোনো শঙ্কার ছাপ দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, ‘আজ উদযাপনের রাত। এই ক্লাব ও সমর্থকরা আমার পরিবারের মতো। এখন আনন্দ করার সময়, এরপর পুরো মনোযোগ থাকবে বিশ্বকাপের দিকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ভাঙা আঙুলে খেলে ক্লাবকে শিরোপা জেতালেন মার্টিনেজ

আপডেট সময় : ০৫:৫১:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

ফাইনালের মঞ্চ যেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজের জন্য আলাদা করেই লেখা। চাপ, ব্যথা কিংবা প্রতিকূলতা— কিছুই যেন থামাতে পারে না আর্জেন্টাইন এই গোলরক্ষককে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ম্যাচ শুরুর আগেই আঙুল ভেঙে যায়, তবুও পুরো ম্যাচ খেলেছেন। আর শেষ পর্যন্ত অ্যাস্টন ভিলাকে এনে দিয়েছেন ৪৪ বছরের মধ্যে প্রথম ইউরোপীয় শিরোপা।

ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ইউরোপা লিগ ফাইনালে এসসি ফ্রাইবার্গকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। ম্যাচের আগে ওয়ার্ম-আপের সময়ই চোটে পড়েন মার্টিনেজ। আঙুলে ব্যথা নিয়ে মাঠের একপাশে চিকিৎসাও নিতে দেখা যায় তাকে। পরে টেপ পেঁচিয়ে মাঠে ফেরেন তিনি।

তবে চোট যেন তার মনোবল আরও বাড়িয়ে দেয়। পুরো ম্যাচে গোলপোস্টের নিচে ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। ফ্রাইবার্গের কয়েকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ ঠেকিয়ে দলকে ক্লিন শিট উপহার দেন এই বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক।

ম্যাচ শেষে মার্টিনেজ বলেন, ‘ওয়ার্ম-আপের সময়ই আমার আঙুল ভেঙে যায়। কিন্তু আমি সবসময় বিশ্বাস করি, খারাপ কিছুর মধ্যেও ভালো কিছু লুকিয়ে থাকে। জীবনে সবসময় এভাবেই এগিয়েছি এবং এগিয়ে যাব।’

ফুটবলের ‘জেনারেল’ ও ‘লিটল জেনারেল’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে কখনো আঙুল ভাঙেনি। বল ধরতে গেলেই আঙুলটা অন্যদিকে সরে যাচ্ছিল। কিন্তু এসবের মধ্য দিয়েই যেতে হয়। অ্যাস্টন ভিলার জার্সি পরে খেলতে পারাটা আমার জন্য গর্বের।’

আমরা ইরান ইস্যুতে চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি : ট্রাম্প

ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে গোল করেন ইউরি তিলেমানস, এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া ও মরগান রজার্স। এই জয়ে তিন দশকের ট্রফিখরা কাটাল ইংলিশ ক্লাবটি। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের নতুন করে জানান দিল উনাই এমেরির দল।

শেষ বাঁশির পর ব্যথা ভুলে সতীর্থদের সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠেন মার্টিনেজ। সমর্থকদের দিকে ছুটে যান, এমনকি কোচ উনাই এমেরিকে কাঁধে তুলে নিতেও দেখা যায় তাকে।

আর্সেনালের সাবেক এই গোলরক্ষকের ক্যারিয়ারে ফাইনাল মানেই যেন সাফল্যের গল্প। এখন পর্যন্ত খেলা প্রতিটি ফাইনালেই জয় পেয়েছেন তিনি। তালিকায় আছে বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা, এফএ কাপ এবং এবার ইউরোপা লিগও।

আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আর্জেন্টিনা শিবিরে অবশ্য তার চোট নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকবেই। তবে ম্যাচ শেষে মার্টিনেজের অভিব্যক্তিতে বড় কোনো শঙ্কার ছাপ দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, ‘আজ উদযাপনের রাত। এই ক্লাব ও সমর্থকরা আমার পরিবারের মতো। এখন আনন্দ করার সময়, এরপর পুরো মনোযোগ থাকবে বিশ্বকাপের দিকে।