সংবাদ শিরোনাম ::
যাত্রী কল্যাণ সমিতি ১৫ দিনের ঈদযাত্রায় ৪৪২ দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ৪৩৮ বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত ৫ কার্যদিবসে মামলার রায় একটি ‘মাইলফলক’: রাষ্ট্রপক্ষ হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৬২০ বাজেট অধিবেশনে তোফয়েল-মোশাররফসহ ১৬ মন্ত্রী-এমপির মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব রামিসা হত্যা মামলার বিচার ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে শেষ হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে তুলনা ও সালমানের নায়িকা হওয়া নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী প্রকাশ পেল শাকিরার নতুন বিশ্বকাপ থিম সং ‘দাই দাই’ ফুটবল বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রের হোটেলে রুম ফাঁকা, বুকিং বাতিল হওয়ায় ক্ষতির শঙ্কা আইপিএলের প্লে-অফ চূড়ান্ত, কবে কার ম্যাচ
সংবাদ শিরোনাম ::
যাত্রী কল্যাণ সমিতি ১৫ দিনের ঈদযাত্রায় ৪৪২ দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ৪৩৮ বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত ৫ কার্যদিবসে মামলার রায় একটি ‘মাইলফলক’: রাষ্ট্রপক্ষ হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৬২০ বাজেট অধিবেশনে তোফয়েল-মোশাররফসহ ১৬ মন্ত্রী-এমপির মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব রামিসা হত্যা মামলার বিচার ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে শেষ হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে তুলনা ও সালমানের নায়িকা হওয়া নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী প্রকাশ পেল শাকিরার নতুন বিশ্বকাপ থিম সং ‘দাই দাই’ ফুটবল বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রের হোটেলে রুম ফাঁকা, বুকিং বাতিল হওয়ায় ক্ষতির শঙ্কা আইপিএলের প্লে-অফ চূড়ান্ত, কবে কার ম্যাচ

যাত্রী কল্যাণ সমিতি ১৫ দিনের ঈদযাত্রায় ৪৪২ দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ৪৩৮

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ১২:১৮:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঈদুল আজহার আগে-পরে ১৫ দিনে সারা দেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৪৪২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

এই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৯৪টি, এতে ৪০২ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৯৪ জন আহত হয়েছেন। রেলপথে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। সংগঠনটির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রডের ট্রাকে ঈদযাত্রা, সড়কে উলটে প্রাণ গেল ১৫ জনের

সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক বলেন, প্রতিবছর দুই ঈদে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করেন। ঈদকে কেন্দ্র করে ১০-১২ দিনের তৎপরতা নয়, বরং মানুষের জীবন রক্ষা ও যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। গণপরিবহন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন জরুরি। উন্নত বিশ্বের আদলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে সংবাদ সম্মেলন করে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। ছবি: সংগৃহীত

একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু, মহাসড়ক থেকে ছোট যানবাহন পর্যায়ক্রমে অপসারণ, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন উচ্ছেদসহ সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে ‘স্টার’ মানের সড়ক নিরাপত্তা করিডোর গড়ে তোলারও দাবি জানান তিনি।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের সড়ক-মহাসড়কের বড় অংশে বৃষ্টির কারণে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তের কারণে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে। ভাঙাচোরা সড়ক, বিদ্যমান ত্রুটি এবং চালকদের আইন অমান্যের প্রবণতার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া চালক সংকটের কারণে প্রায় ৮০ শতাংশ যানবাহন একজন চালক দিয়ে বিরামহীনভাবে পরিচালিত হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।

গোপালগঞ্জে ঈদের দিনে সড়কে ঝরল ৫ প্রাণ

মোজাম্মেল হক আরও বলেন, কিছু বাস মালিক অতিরিক্ত মুনাফার আশায় আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে যাওয়া ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন মেরামত ছাড়াই সড়কে নামিয়েছেন। ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাল-বিল বা রাস্তার পাশে পড়ে যাওয়ার ঘটনা এবারের ঈদে বেশি দেখা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২১ মে থেকে ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরা ৪ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনে সারা দেশে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৯৪ জন আহত হয়েছেন। গত বছর ঈদুল আজহায় ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত ও ১ হাজার ১৮২ জন আহত হয়েছিলেন। সে হিসেবে এবার সড়ক দুর্ঘটনা ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৩ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। ঈদে ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত এবং ১৮০ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

ঈদের রাতে বাস-লেগুনা মুখোমুখি, প্রাণ গেল ৩ জনের

এ সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের মধ্যে ৮০ জন চালক, ৮৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৯ জন পথচারী, ৬৪ জন নারী, ৪৫ জন শিশু, ৬৬ জন শিক্ষার্থী, পাঁচজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, তিনজন শিক্ষক, একজন চিকিৎসক, তিনজন সাংবাদিক, একজন প্রকৌশলী এবং চারজন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ১৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ বাস, ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ কার ও মাইক্রোবাস, ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ নছিমন-করিমন এবং ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিল।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ গাড়ির চাপা বা ধাক্কা, ১৭ দশমিক ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়া, ১ দশমিক ৫২ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষ এবং ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ অন্যান্য কারণে সংঘটিত হয়েছে।

ঈদে বাড়ি ফেরা হলো না, ১০ মিনিটের দূরত্বে নিভল সব স্বপ্ন

এ ছাড়া মোট দুর্ঘটনার ৫০ দশমিক ৫০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ৭১ শতাংশ আঞ্চলিক সড়ক ও মহানগর এলাকায়, শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে, ১ দশমিক ৫২ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে এবং ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল, রোড সাইন ও রোড মার্কিংয়ের অভাব, সড়কে মিডিয়ান না থাকা, নির্মাণ ত্রুটি, উল্টো পথে যান চলাচল, চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, বিরামহীন ড্রাইভিং এবং বৃষ্টির কারণে সড়কে গর্ত সৃষ্টিকে দায়ী করেছে।

সংগঠনটি সুপারিশ করেছে— ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নির্মাণ, চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, রোড সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা নিরীক্ষা, ফিটনেস ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহন অপসারণ, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা।

ঈদযাত্রায় ৪ দিনে সড়কে নিভলো ৫৮ প্রাণ

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ড. এ ওয়াই এম একরামুল হক, সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব অর্পনা রায় দাশ, অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, দপ্তর সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বিটু, মনজুর হোসেন ইসা প্রমুখ।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঈদুল আজহার আগে-পরে ১৩ দিনের দুর্ঘটনা ও এতে হতাহতের হিসাব দিয়েছিল রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংগঠনটি জানায়, এই ১৩ দিনে সারা দেশে সড়ক, রেল ও নৌ পথে ৩২৭টি দুর্ঘটনায় ৩০৬ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৮৬১ জন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাব অনুযায়ী, ১৩ দিনে ৩২৭টি দুর্ঘটনার মধ্যে কেবল সড়কেই ২৯২টি দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ৮৩৭ জন। এ ছাড়া এই ১৩ দিনে ১৩টি নৌপথ দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৫ আহত হয়েছে। আর ২২টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত ও ৯ জন আহত হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ পথে এসব দুর্ঘটনায় মারা গেছে কোরবানির ২৪টি গরু।

১৩ দিনের ঈদযাত্রায় ৩০৬ প্রাণহানি, শুধু সড়কেই ২৮১

গত ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং সংগঠনের নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির গত বছরের পরিসংখ্যানের সঙ্গে তুলনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের ঈদুল আজহার আগে-পরে ১২ দিনে সড়ক, রেল ও নৌ পথে দুর্ঘটনায় ৩১২ জন নিহত হয়েছিলেন।

সে সময় প্রতিদিন গড়ে প্রাণহানি ছিল ২৬ জন। এবার গড়ে প্রাণহানি ২৩ দশমিক ৫৩ জনে নেমে এসেছে। তবে সংগঠনটি মনে করে, এই হ্রাসকে পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতির সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

যাত্রী কল্যাণ সমিতি ১৫ দিনের ঈদযাত্রায় ৪৪২ দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ৪৩৮

আপডেট সময় : ১২:১৮:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

ঈদুল আজহার আগে-পরে ১৫ দিনে সারা দেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৪৪২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

এই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৯৪টি, এতে ৪০২ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৯৪ জন আহত হয়েছেন। রেলপথে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। সংগঠনটির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রডের ট্রাকে ঈদযাত্রা, সড়কে উলটে প্রাণ গেল ১৫ জনের

সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক বলেন, প্রতিবছর দুই ঈদে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করেন। ঈদকে কেন্দ্র করে ১০-১২ দিনের তৎপরতা নয়, বরং মানুষের জীবন রক্ষা ও যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। গণপরিবহন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন জরুরি। উন্নত বিশ্বের আদলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে সংবাদ সম্মেলন করে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। ছবি: সংগৃহীত

একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু, মহাসড়ক থেকে ছোট যানবাহন পর্যায়ক্রমে অপসারণ, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন উচ্ছেদসহ সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে ‘স্টার’ মানের সড়ক নিরাপত্তা করিডোর গড়ে তোলারও দাবি জানান তিনি।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের সড়ক-মহাসড়কের বড় অংশে বৃষ্টির কারণে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তের কারণে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে। ভাঙাচোরা সড়ক, বিদ্যমান ত্রুটি এবং চালকদের আইন অমান্যের প্রবণতার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া চালক সংকটের কারণে প্রায় ৮০ শতাংশ যানবাহন একজন চালক দিয়ে বিরামহীনভাবে পরিচালিত হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।

গোপালগঞ্জে ঈদের দিনে সড়কে ঝরল ৫ প্রাণ

মোজাম্মেল হক আরও বলেন, কিছু বাস মালিক অতিরিক্ত মুনাফার আশায় আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে যাওয়া ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন মেরামত ছাড়াই সড়কে নামিয়েছেন। ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাল-বিল বা রাস্তার পাশে পড়ে যাওয়ার ঘটনা এবারের ঈদে বেশি দেখা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২১ মে থেকে ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরা ৪ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনে সারা দেশে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৯৪ জন আহত হয়েছেন। গত বছর ঈদুল আজহায় ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত ও ১ হাজার ১৮২ জন আহত হয়েছিলেন। সে হিসেবে এবার সড়ক দুর্ঘটনা ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৩ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। ঈদে ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত এবং ১৮০ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

ঈদের রাতে বাস-লেগুনা মুখোমুখি, প্রাণ গেল ৩ জনের

এ সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের মধ্যে ৮০ জন চালক, ৮৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৯ জন পথচারী, ৬৪ জন নারী, ৪৫ জন শিশু, ৬৬ জন শিক্ষার্থী, পাঁচজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, তিনজন শিক্ষক, একজন চিকিৎসক, তিনজন সাংবাদিক, একজন প্রকৌশলী এবং চারজন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ১৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ বাস, ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ কার ও মাইক্রোবাস, ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ নছিমন-করিমন এবং ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিল।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ গাড়ির চাপা বা ধাক্কা, ১৭ দশমিক ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়া, ১ দশমিক ৫২ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষ এবং ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ অন্যান্য কারণে সংঘটিত হয়েছে।

ঈদে বাড়ি ফেরা হলো না, ১০ মিনিটের দূরত্বে নিভল সব স্বপ্ন

এ ছাড়া মোট দুর্ঘটনার ৫০ দশমিক ৫০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ৭১ শতাংশ আঞ্চলিক সড়ক ও মহানগর এলাকায়, শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে, ১ দশমিক ৫২ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে এবং ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল, রোড সাইন ও রোড মার্কিংয়ের অভাব, সড়কে মিডিয়ান না থাকা, নির্মাণ ত্রুটি, উল্টো পথে যান চলাচল, চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, বিরামহীন ড্রাইভিং এবং বৃষ্টির কারণে সড়কে গর্ত সৃষ্টিকে দায়ী করেছে।

সংগঠনটি সুপারিশ করেছে— ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নির্মাণ, চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, রোড সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা নিরীক্ষা, ফিটনেস ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহন অপসারণ, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা।

ঈদযাত্রায় ৪ দিনে সড়কে নিভলো ৫৮ প্রাণ

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ড. এ ওয়াই এম একরামুল হক, সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব অর্পনা রায় দাশ, অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, দপ্তর সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বিটু, মনজুর হোসেন ইসা প্রমুখ।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঈদুল আজহার আগে-পরে ১৩ দিনের দুর্ঘটনা ও এতে হতাহতের হিসাব দিয়েছিল রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংগঠনটি জানায়, এই ১৩ দিনে সারা দেশে সড়ক, রেল ও নৌ পথে ৩২৭টি দুর্ঘটনায় ৩০৬ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৮৬১ জন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাব অনুযায়ী, ১৩ দিনে ৩২৭টি দুর্ঘটনার মধ্যে কেবল সড়কেই ২৯২টি দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ৮৩৭ জন। এ ছাড়া এই ১৩ দিনে ১৩টি নৌপথ দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৫ আহত হয়েছে। আর ২২টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত ও ৯ জন আহত হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ পথে এসব দুর্ঘটনায় মারা গেছে কোরবানির ২৪টি গরু।

১৩ দিনের ঈদযাত্রায় ৩০৬ প্রাণহানি, শুধু সড়কেই ২৮১

গত ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং সংগঠনের নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির গত বছরের পরিসংখ্যানের সঙ্গে তুলনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের ঈদুল আজহার আগে-পরে ১২ দিনে সড়ক, রেল ও নৌ পথে দুর্ঘটনায় ৩১২ জন নিহত হয়েছিলেন।

সে সময় প্রতিদিন গড়ে প্রাণহানি ছিল ২৬ জন। এবার গড়ে প্রাণহানি ২৩ দশমিক ৫৩ জনে নেমে এসেছে। তবে সংগঠনটি মনে করে, এই হ্রাসকে পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতির সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি।