ঢাকা ০৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনা, ফের বাড়তে পারে গরম নভেম্বরে তারেক রহমানের দিল্লি সফরের চেষ্টা: দ্য হিন্দু আগস্টে ৮.২৬% মূল্যস্ফীতি, ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক যাচ্ছেন সোমবার জাতিসংঘ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, ইরানের বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ সাবেক ঢাবি উপাচার্য মাকসুদ কামাল নজরদারিতে: চিফ প্রসিকিউটর শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত: সংসদীয় কমিটি ডিবি হেফাজতে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল বিয়েতে নাচের জন্য ডেকে ২ নৃত্যশিল্পীকে ধর্ষণ: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তার অভিযোগে টেলিনরের বিরুদ্ধে তদন্ত
সংবাদ শিরোনাম ::
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনা, ফের বাড়তে পারে গরম নভেম্বরে তারেক রহমানের দিল্লি সফরের চেষ্টা: দ্য হিন্দু আগস্টে ৮.২৬% মূল্যস্ফীতি, ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক যাচ্ছেন সোমবার জাতিসংঘ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, ইরানের বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ সাবেক ঢাবি উপাচার্য মাকসুদ কামাল নজরদারিতে: চিফ প্রসিকিউটর শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত: সংসদীয় কমিটি ডিবি হেফাজতে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল বিয়েতে নাচের জন্য ডেকে ২ নৃত্যশিল্পীকে ধর্ষণ: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তার অভিযোগে টেলিনরের বিরুদ্ধে তদন্ত

জবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ৭০: তদন্ত কমিটি গঠন

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০২:৪৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দিনভর তিন দফা সংঘর্ষে অন্তত ৭০ জন আহত হয়ে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত এক সেমিনারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে তা ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। বিকেলে হাসপাতাল চত্বরে উভয় পক্ষের মধ্যে তৃতীয় দফা সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় দুই পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়।

এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাস ও আশপাশে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন বলেন, “এ হামলার ঘটনা দুঃখজনক। সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। যখন হামলার ঘটনা ক্যাম্পাসের বাইরে গড়ায়, তখন আমি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করি। ঘটনার পরপরই তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার মকবুল হোসেন বলেন, “মঙ্গলবার বিকেল ৬টা পর্যন্ত ৭০ জনের বেশি আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন। এখনও অনেকে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন।”

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আয়োজিত সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে সেমিনার কক্ষে প্রবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী প্ল্যাকার্ড হাতে মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। প্ল্যাকার্ডে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, বরাদ্দকৃত ২০ কোটি টাকা দিয়ে অস্থায়ী হল নির্মাণ এবং মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা, টেকনিশিয়ান ও চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানানো হয়। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের কয়েকজন সদস্যও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিলনায়তনের প্রবেশমুখ থেকে জকসুর নেতাদের টেনে বাইরে নিয়ে যান। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে আহতদের নিকটবর্তী ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দিনের শুরুর দিকে সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম, শিবিরের সভাপতি ও জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা, জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসিবসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক।

পরে হাসপাতালের ভেতরে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা জড়ো হন এবং বাইরে অবস্থান নেন ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা। দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের ভেতর থেকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের ফটকে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেন। পরে পালটা ধাওয়া দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করলে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় দুই পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়।

অভিযোগ উঠেছে, এ সময় ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে চিকিৎসাধীন আহতদের ওপরও হামলা চালান। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রদল।

পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর সংঘর্ষে যোগ দেন যুবদলের নেতাকর্মীরাও। পুরান ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা এসব নেতাকর্মী ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চারপাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সেখানে তৃতীয় দফা সংঘর্ষ শুরু হয়। দিনভর তিন দফা সংঘর্ষে আহত অন্তত ৭০ জন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন।

এ ঘটনার পর জকসু নেতারা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজনীতি কায়েমের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, শিবিরই ক্যাম্পাসে ‘মব কালচার’ আমদানির চেষ্টা করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ৭০: তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট সময় : ০২:৪৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দিনভর তিন দফা সংঘর্ষে অন্তত ৭০ জন আহত হয়ে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত এক সেমিনারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে তা ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। বিকেলে হাসপাতাল চত্বরে উভয় পক্ষের মধ্যে তৃতীয় দফা সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় দুই পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়।

এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাস ও আশপাশে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন বলেন, “এ হামলার ঘটনা দুঃখজনক। সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। যখন হামলার ঘটনা ক্যাম্পাসের বাইরে গড়ায়, তখন আমি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করি। ঘটনার পরপরই তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার মকবুল হোসেন বলেন, “মঙ্গলবার বিকেল ৬টা পর্যন্ত ৭০ জনের বেশি আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন। এখনও অনেকে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন।”

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আয়োজিত সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে সেমিনার কক্ষে প্রবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী প্ল্যাকার্ড হাতে মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। প্ল্যাকার্ডে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, বরাদ্দকৃত ২০ কোটি টাকা দিয়ে অস্থায়ী হল নির্মাণ এবং মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা, টেকনিশিয়ান ও চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানানো হয়। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের কয়েকজন সদস্যও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিলনায়তনের প্রবেশমুখ থেকে জকসুর নেতাদের টেনে বাইরে নিয়ে যান। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে আহতদের নিকটবর্তী ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দিনের শুরুর দিকে সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম, শিবিরের সভাপতি ও জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা, জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসিবসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক।

পরে হাসপাতালের ভেতরে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা জড়ো হন এবং বাইরে অবস্থান নেন ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা। দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের ভেতর থেকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের ফটকে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেন। পরে পালটা ধাওয়া দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করলে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় দুই পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়।

অভিযোগ উঠেছে, এ সময় ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে চিকিৎসাধীন আহতদের ওপরও হামলা চালান। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রদল।

পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর সংঘর্ষে যোগ দেন যুবদলের নেতাকর্মীরাও। পুরান ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা এসব নেতাকর্মী ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চারপাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সেখানে তৃতীয় দফা সংঘর্ষ শুরু হয়। দিনভর তিন দফা সংঘর্ষে আহত অন্তত ৭০ জন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন।

এ ঘটনার পর জকসু নেতারা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজনীতি কায়েমের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, শিবিরই ক্যাম্পাসে ‘মব কালচার’ আমদানির চেষ্টা করছে।