ডিবি হেফাজতে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল
- আপডেট সময় : ০৮:১৮:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
সরকার ও পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী নিয়ে বক্তব্যের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রত্যাহার হওয়া ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি মো. রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে তাকে নেওয়া হয়।
ডিবির একজন যুগ্ম কমিশনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ছড়িয়ে পড়া অডিও নিয়ে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে রাকিবুল হাসানকে ডিবিতে নেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগে এ ধরনের অনুসন্ধান করা হয়। এ বিষয়ে ডিবিপ্রধান শফিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
রাকিবুল হাসানের নামে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘রাস্তায় থাকা পুলিশ খুবই দুর্বল। শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে ফিরে আসে, তবে তারা কিছুই করতে পারবে না।’ ওই ব্যক্তি আরও দাবি করেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন, যদিও মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা তা করছেন না। পুলিশের পদায়নে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নিয়েও তাঁকে কথা বলতে শোনা যায়।
অডিওটির কথোপকথন যাচাইয়ে ডিএমপি তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং প্রত্যাহার হওয়া সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ কারণেই তাঁকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে রাকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বৃহস্পতিবার আইনি নোটিশ দিয়েছেন ন্যাশনাল ল ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু। স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ডিএমপি কমিশনারের কাছে পাঠানো নোটিশে অডিওটির সত্যতা, উৎস, সম্পাদনা বা বিকৃতির সম্ভাবনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধের আইনগত উপাদান ও প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলা ও আইনানুগ ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক প্রমাণ মিললে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থাও চাওয়া হয়েছে।
রাকিবুল হাসান একসময় কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও কুমারখালী থানায় কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রের বরাতে তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বিএনপিসহ বিরোধী দল দমনে সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ১৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আতশবাজি ফোটানো ও কেক কাটতেও তাঁকে দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
৫ আগস্টের পর তাকে প্রথমে ডিএমপির ভাটারা থানার ওসি করা হয়। পরে গুলশান থানার ওসি এবং সর্বশেষ গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পান। সম্প্রতি ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি পদ থেকে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়।



















