ঢাকা ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কাল চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী; সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএফকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা রাশিয়ার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হবো: রয়টার্সকে সাকিব দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে যা বলছে ভারত বিটিভির নতুন মহাপরিচালক কাজী জেসিন ‘খাই খাই’ বন্ধ করেন, মনে হয় দলটাই খেয়ে ফেলবেন: বিএনপির ধর্ম সম্পাদক শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসুক, গণহত্যার দায় নিয়ে কারাগারে যাক: আইনমন্ত্রী গণমাধ্যমের ওপর অতীতের মতো সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই: তথ্যমন্ত্রী ৩ জেলায় সড়কে ঝরল ১৭ প্রাণ, আহত অন্তত ৩০ মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার মধ্যেই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান
সংবাদ শিরোনাম ::
কাল চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী; সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএফকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা রাশিয়ার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হবো: রয়টার্সকে সাকিব দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে যা বলছে ভারত বিটিভির নতুন মহাপরিচালক কাজী জেসিন ‘খাই খাই’ বন্ধ করেন, মনে হয় দলটাই খেয়ে ফেলবেন: বিএনপির ধর্ম সম্পাদক শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসুক, গণহত্যার দায় নিয়ে কারাগারে যাক: আইনমন্ত্রী গণমাধ্যমের ওপর অতীতের মতো সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই: তথ্যমন্ত্রী ৩ জেলায় সড়কে ঝরল ১৭ প্রাণ, আহত অন্তত ৩০ মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার মধ্যেই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান

নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হবো: রয়টার্সকে সাকিব

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৬:১১:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান বলেছেন, সরকার যদি তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে তিনি দেশে ফিরতে প্রস্তুত। দুই বছরের নির্বাসিত জীবনের ইতি টেনে তার বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলাসহ সব মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে চান তিনি।

বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলছেন সাকিব। সেখান থেকে টেলিফোনে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আমি কোনো অপরাধ করিনি। সরকার যদি আমাকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে আমি আনন্দের সঙ্গে দেশে ফিরে আদালতের বিচারসহ প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হব।’

বুধবার (৫ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকদের সংগঠন ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিয়ে নতুন করে আলোচনায় আসেন সাকিব। শ্রীলঙ্কা থেকে তিনি ভার্চ্যুয়ালি ওই অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। এরপর মাগুরায় তার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন সাকিব। ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেট অলরাউন্ডার জানিয়েছেন, তিনি দেশের মাটিতে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলতে এবং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নিতে চান।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এখনো অবসর নেননি উল্লেখ করে সাকিব বলেন, অবসরের সিদ্ধান্ত তিনি খুব বেশি দিন ঝুলিয়ে রাখতে চান না। তার ভাষায়, ‘আমি এখনো খেলাটা উপভোগ করছি, ভালোও খেলছি। কিন্তু বয়স এখন আর আমার পক্ষে নেই। তাই খুব বেশি অপেক্ষা করতে পারব না।’

এর আগে জুলাই মাসের শুরুতে রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনাও আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে সাকিব বলেন, তিনি এখনই দেশে ফিরতে চান। তা সম্ভব না হলে শেখ হাসিনার সঙ্গে ফেরার চেষ্টা করবেন।

ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের অধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিচার গুলিতে শত শত মানুষ নিহত হন। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে প্রায় এক হাজার ৪০০ জন নিহত হতে পারেন।

জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা রয়টার্সকে বলেন, আগামী ডিসেম্বরে ভারতে নির্বাসিত জীবন শেষে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান তিনি। একই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আওয়ামী লীগের নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ নেতারাও পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হবেন।

শেখ হাসিনাকে ‘অধিনায়ক’ (ক্যাপ্টেন) সম্বোধন করে সাকিব বলেন, ‘তিনি যা বলেন, আমরা সেটাই অনুসরণ করি। আমি মনে করি, তিনি ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন। আমাদের যেসব নির্দেশনা দেওয়া হবে, আমরা সেগুলোই অনুসরণ করব।’

তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইনজীবীর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের কাছে তার ভাষায় ‘মনগড়া’ অভিযোগগুলো প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কোনো জবাব পাননি। দেশে ফেরার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ বলেছেন, সাকিব এখন ‘পতিত, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদী সরকারের সদস্য’ হওয়ার পরিণতি ভোগ করছেন। এক বিবৃতিতে তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে সাকিব আল হাসানের প্রতি সমর্থন ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকারের করার মতো কিছুই নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রচলিত আইন পরিচয় বা অবস্থান নির্বিশেষে সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। আইনের দৃষ্টিতে সাকিব আল হাসান একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি। তাই বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে তাকে বাংলাদেশের আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।’

দুবাই থেকে মাঝপথে ফিরে যেতে হয়েছিল

সাকিব জানান, ২০২৪ সালের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে একবার দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু যাত্রাপথেই তাকে ফিরে যেতে বলা হয়। পরে দুবাইয়ে নেমে আবার নিউইয়র্কে ফিরে যান। বর্তমানে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে বসবাস করছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘১২ ঘণ্টার মধ্যে কী পরিবর্তন হয়েছিল, আমি জানি না।’ তার দাবি, দেশে ফেরার সেই সফরের প্রস্তুতি পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে চলেছিল।

পরে আরেকবার দেশে ফেরার পরিকল্পনাও ভেস্তে যায়। কারণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পর সেটিকেই দেশে ফিরতে না দেওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় বলে দাবি করেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘এটা কীভাবে বাংলাদেশে আমাকে ঢুকতে না দেওয়ার মানদণ্ড হতে পারে, আমি বুঝতে পারি না।’

শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলে দেশে ফেরা সহজ হতে পারে—সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকর্তাদের এমন পরামর্শও প্রত্যাখ্যান করেছেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘এমন কিছু করার কথা আমি কখনোই ভাবব না।’

২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেছিলেন, অন্য সব ক্রিকেটারের মতো সাকিবকেও নিরাপত্তা দেওয়া হবে। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জনরোষ কমাতে তাকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।

সাকিব জানান, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর একটি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় এক বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগে, অন্যটি দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষের করা মামলা। তিনি বলেন, হত্যা মামলাটি করা হয়েছিল ২০২৪ সালের আগস্টের এমন এক দিনে, যেদিন তিনি কানাডার টরন্টোতে একটি ম্যাচ খেলছিলেন। তার ভাষায়, ‘এটা হাস্যকর একটি মামলা।’ তবে এখনো তিনি কোনো আইনজীবী নিয়োগ দেননি বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত চলমান থাকায় গত দেড় বছর ধরে তার ব্যাংক হিসাবগুলো জব্দ রয়েছে। কোন ব্যাংকে হিসাব রয়েছে বা কত অর্থ আটকে আছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।

সাকিব বলেন, গত দুই বছরে তিনি বাংলাদেশে থাকা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তাদের দেশ ছাড়ারও অনুমতি দেওয়া হয়নি। তার ভাষায়, ‘আমাদের সবার জন্যই সময়টা কঠিন ছিল। তবে আমরা টিকে আছি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হবো: রয়টার্সকে সাকিব

আপডেট সময় : ০৬:১১:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান বলেছেন, সরকার যদি তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে তিনি দেশে ফিরতে প্রস্তুত। দুই বছরের নির্বাসিত জীবনের ইতি টেনে তার বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলাসহ সব মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে চান তিনি।

বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলছেন সাকিব। সেখান থেকে টেলিফোনে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আমি কোনো অপরাধ করিনি। সরকার যদি আমাকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে আমি আনন্দের সঙ্গে দেশে ফিরে আদালতের বিচারসহ প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হব।’

বুধবার (৫ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকদের সংগঠন ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিয়ে নতুন করে আলোচনায় আসেন সাকিব। শ্রীলঙ্কা থেকে তিনি ভার্চ্যুয়ালি ওই অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। এরপর মাগুরায় তার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন সাকিব। ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেট অলরাউন্ডার জানিয়েছেন, তিনি দেশের মাটিতে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলতে এবং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নিতে চান।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এখনো অবসর নেননি উল্লেখ করে সাকিব বলেন, অবসরের সিদ্ধান্ত তিনি খুব বেশি দিন ঝুলিয়ে রাখতে চান না। তার ভাষায়, ‘আমি এখনো খেলাটা উপভোগ করছি, ভালোও খেলছি। কিন্তু বয়স এখন আর আমার পক্ষে নেই। তাই খুব বেশি অপেক্ষা করতে পারব না।’

এর আগে জুলাই মাসের শুরুতে রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনাও আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে সাকিব বলেন, তিনি এখনই দেশে ফিরতে চান। তা সম্ভব না হলে শেখ হাসিনার সঙ্গে ফেরার চেষ্টা করবেন।

ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের অধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিচার গুলিতে শত শত মানুষ নিহত হন। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে প্রায় এক হাজার ৪০০ জন নিহত হতে পারেন।

জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা রয়টার্সকে বলেন, আগামী ডিসেম্বরে ভারতে নির্বাসিত জীবন শেষে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান তিনি। একই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আওয়ামী লীগের নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ নেতারাও পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হবেন।

শেখ হাসিনাকে ‘অধিনায়ক’ (ক্যাপ্টেন) সম্বোধন করে সাকিব বলেন, ‘তিনি যা বলেন, আমরা সেটাই অনুসরণ করি। আমি মনে করি, তিনি ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন। আমাদের যেসব নির্দেশনা দেওয়া হবে, আমরা সেগুলোই অনুসরণ করব।’

তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইনজীবীর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের কাছে তার ভাষায় ‘মনগড়া’ অভিযোগগুলো প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কোনো জবাব পাননি। দেশে ফেরার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ বলেছেন, সাকিব এখন ‘পতিত, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদী সরকারের সদস্য’ হওয়ার পরিণতি ভোগ করছেন। এক বিবৃতিতে তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে সাকিব আল হাসানের প্রতি সমর্থন ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকারের করার মতো কিছুই নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রচলিত আইন পরিচয় বা অবস্থান নির্বিশেষে সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। আইনের দৃষ্টিতে সাকিব আল হাসান একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি। তাই বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে তাকে বাংলাদেশের আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।’

দুবাই থেকে মাঝপথে ফিরে যেতে হয়েছিল

সাকিব জানান, ২০২৪ সালের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে একবার দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু যাত্রাপথেই তাকে ফিরে যেতে বলা হয়। পরে দুবাইয়ে নেমে আবার নিউইয়র্কে ফিরে যান। বর্তমানে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে বসবাস করছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘১২ ঘণ্টার মধ্যে কী পরিবর্তন হয়েছিল, আমি জানি না।’ তার দাবি, দেশে ফেরার সেই সফরের প্রস্তুতি পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে চলেছিল।

পরে আরেকবার দেশে ফেরার পরিকল্পনাও ভেস্তে যায়। কারণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পর সেটিকেই দেশে ফিরতে না দেওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় বলে দাবি করেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘এটা কীভাবে বাংলাদেশে আমাকে ঢুকতে না দেওয়ার মানদণ্ড হতে পারে, আমি বুঝতে পারি না।’

শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলে দেশে ফেরা সহজ হতে পারে—সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকর্তাদের এমন পরামর্শও প্রত্যাখ্যান করেছেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘এমন কিছু করার কথা আমি কখনোই ভাবব না।’

২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেছিলেন, অন্য সব ক্রিকেটারের মতো সাকিবকেও নিরাপত্তা দেওয়া হবে। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জনরোষ কমাতে তাকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।

সাকিব জানান, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর একটি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় এক বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগে, অন্যটি দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষের করা মামলা। তিনি বলেন, হত্যা মামলাটি করা হয়েছিল ২০২৪ সালের আগস্টের এমন এক দিনে, যেদিন তিনি কানাডার টরন্টোতে একটি ম্যাচ খেলছিলেন। তার ভাষায়, ‘এটা হাস্যকর একটি মামলা।’ তবে এখনো তিনি কোনো আইনজীবী নিয়োগ দেননি বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত চলমান থাকায় গত দেড় বছর ধরে তার ব্যাংক হিসাবগুলো জব্দ রয়েছে। কোন ব্যাংকে হিসাব রয়েছে বা কত অর্থ আটকে আছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।

সাকিব বলেন, গত দুই বছরে তিনি বাংলাদেশে থাকা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তাদের দেশ ছাড়ারও অনুমতি দেওয়া হয়নি। তার ভাষায়, ‘আমাদের সবার জন্যই সময়টা কঠিন ছিল। তবে আমরা টিকে আছি।’