বুধবার, ১২ জুন ২০২৪, ০৮:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ১৫ লাখের বেশি বিদেশি হজযাত্রী বৃষ্টিতে ভেসে গেলো নেপাল-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ, সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকা বেনজীরের আরো সম্পত্তি ও টেলিভিশন ক্রোকের নির্দেশ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে গ্রাহকদের ভোগান্তি, তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের দেশের কারাগারে ৩৬৩ বিদেশি, বেশি ভারতের ছয় অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, অস্বস্তিকর গরম থাকতে পারে কয়েকদিন কুয়েতে শ্রমিকদের আবাসিক ভবনে আগুন, নিহত ৪১ ড. ইউনূসের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে: দুদক পিপি ব্রিকসে বাংলাদেশ যুক্ত হলে সহযোগিতার নতুন দুয়ার খুলবে তারেকসহ পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

মমতা কী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন?

রিপোর্টার / ১৭০ বার
আপডেট : রবিবার, ২২ আগস্ট, ২০২১

কলকাতা: লক্ষ্য ২০২৪ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচন। আসন্ন নির্বাচনে মোদী উৎখাতে বিজেপি বিরোধী জোট গঠন প্রয়োজন বলে মানছে সব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

কিন্তু, জোটে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে একাধিক বিজেপি বিরোধী দলের কাছেই সংশয় আছে। আবার বিরোধীজোটে ‘কংগ্রেস’ নামক দেশটির প্রাচীনতম এই রাজনৈতিক দলটি ছাড়া কার্যত অসম্ভব। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেছেন পশ্চিমবাংলার পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ ‘দিদি’ অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাই বিরোধী জোট পোক্ত করতে নিজের বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

তৃণমূল সুপ্রিমোর বক্তব্য, ‘একগুঁয়েমি সরিয়ে রাখুন, ইগো ও ব্যক্তিগত স্বার্থকে দূরে সরিয়ে রেখে সবাইকে জোটবদ্ধ হয়ে এই শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে হবে’।

দিদির স্পষ্ট বার্তা, কংগ্রেসের সঙ্গে যাদের যোগাযোগ নেই বা কংগ্রেসকে পছন্দ করে না, তাদেরও বিরোধী জোটে শামিল হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ এ লোকসভা নির্বাচনের আগে মমতার উদ্যোগে সব বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলকে নিয়ে থার্ড ফ্রন্ট গঠন করেছিলেন। কিন্তু সেবার ফল কিছু হয়নি। অবশ্য তখন কংগ্রেসকে বাদ দিয়েই সেই ফ্রন্ট তৈরি হয়েছিল।

এ বছর ২১ জুলাই দলের শহীদ দিবসে বিরোধী ফ্রন্ট গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর গত মাসের শেষে দিল্লি সফরে গিয়েও বিরোধী জোটের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। সোনিয়া-রাহল গান্ধীসহ একঝাঁক কংগ্রেস নেতার সঙ্গে কথা হয় তার। সাক্ষাৎ করেন মহারাষ্ট্রের এনসিপি দলের সুপ্রিমো শরদ পাওয়ার, দিল্লির আম-আদমি পার্টির নেতা কানিমোঝি ও মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালসহ একাধিকের সঙ্গেও।

এদিকে প্রশ্ন উঠেছে মোদী বিরোধী জোটের মুখ কে হবেন? এ প্রসঙ্গেও মমতা স্পষ্ট করে জানিয়েছিল যে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, আপাতত বিরোধী জোট গঠনের ক্ষেত্রে তিনি একজন কর্মী হিসেবেই কাজ করবেন। যদিও মমতার দলের অন্দরের খবর দলনেত্রীকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরারই প্রয়াস। তা নিয়ে জোর প্রচারও চালাচ্ছেন তারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে মোদী বিরোধীতায় সবাইকে এক করার প্রয়াস মমতার, অর্থাৎ বিরোধী জোটে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো; অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে বামশক্তির অবসান এবং একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ফল অর্থাৎ বিজেপি সরকার ফেলতে কার্যত তার দেখানো পথেই যে অসাধ্য সাধন সম্ভব-বিরোধী দলগুলোর নেতাদের সেই বার্তাই তুলে ধরতে চেয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

তবে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মত, প্রধানমন্ত্রীর কুরসি দখল করা মমতার জন্য এত সহজ হবে না। কারণ ভারতের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলো প্রকাশ্যে মৈত্রী সম্পর্ক মেলে ধরলেও তলায় তলায় একে অপরের বিরুদ্ধে চোরাস্রোত বইছে, যা ঠেকানো দুঃসাধ্য। অবশ্য তারা এও মনে করছেন যদি কারো পক্ষে সম্ভব হয় তা মমতার দ্বারাই সম্ভব।

তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মোদীর পতন ঘটলেও বিরোধীরা মমতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কতটা মেনে নেবেন সেটাও চিন্তার বিষয়। কারণ পশ্চিমবাংলার রাজনীতি ভারতের অন্যান্য রাজ্যের কাছে উদাহরণ হলেও বাংলার নেতারা হিন্দি বলয়ের কাছে একপ্রকার প্রায় ব্রাত্য। তবে এবারে একটা সম্ভাবনা থাকছে দিদির জন্য। সেটা সম্ভাবনাই বলা যেতে পারে।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে করোনাসহ সাম্প্রতিক একাধিক ইস্যুতে মোদীর ইমেজ অনেকটাই কমেছে। ৪৫ শতাংশ থেকে নেমে ২৮ শতাংশে ঠেকেছে।

অপরদিকে, দেশব্যাপী মমতার ইমেজ ২ শতাংশে বেড়ে ৮ শতাংশে এসেছে। পাশাপাশি বেড়ে একই শতাংশে দাঁড়িয়েছে অমতি শাহ ও যোগী আদিত্যনাথের ইমেজ। ফলে ইমেজের দিক মোদীর ধারে-কাছে নেই মমতা। কিন্তু মমতার সম্ভবনার অন্যতম কারণ মোদীর ৭০ বছর বয়স। ভারতের নিরিখে দেশটিতে কাজ করে মোদী ম্যাজিক। অর্থাৎ মোদীর জনপ্রিয়তা তার দল বিজেপির থেকে অনেকটাই ঊর্ধ্বে।

অপরদিকে বিজেপি চালনা হয় আরএসএস অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের দ্বারা। আরএসএসের নীতি অনুযায়ী ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে কারো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা উচিত নয়। সেক্ষেত্রে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে যদি নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রী মুখ না করা হয় তাহলে অনেকটাই সম্ভাবনা থাকবে মমতার।

এছাড়া মমতার সম্ভাবনা বেশি হওয়ার অন্য কারণ, বর্তমানে সোনিয়া-রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে জাতীয় কংগ্রেসের গুরুত্ব ভারতে এখন অনেকটাই কম। অপরদিকে দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক দলগুলো নেতারা কখনোই ইচ্ছুক না দিল্লির মসনদে বসার। তারা দক্ষিণ ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

এদিকে হিন্দি বলেয়ের দলগুলো অর্থাৎ সমাজবাদী পার্টি (এসপি), বহুজন সমাজবাদী পার্টি (বিএসপি), এনসিপি, আম-আদমি (এএপি) পার্টি এসব দলের নেতারা ভালোভাবেই জানের এককভাবে গোটা ভারতের তাদের জনপ্রিয়তা মোটেই ভালো না। সেক্ষেত্রে জনপ্রিয়তার ফ্যাক্টরে কিছুটা হলেও মমতার ম্যাজিক কাজ করে। ফলে এতোগুলো ফ্যাক্টর যদি মিলে যায় তবেই মমতার একটা সম্ভাবনা থাকছে।

অপরদিকে মোদী যদি ফের প্রধানমন্ত্রী মুখ হয় তাহলে কিন্তু অনেক অংক পাল্টে যেতে পারে। কারণ সমীক্ষা অনুযায়ী, মোদীর জনপ্রিয়তা কমেও যেই শতাংশে দাঁড়িয়ে আছে তার আশপাশে ভারতের কোনো রাজনৈতিক নেতারই নেই।

তা বিলক্ষণ বুঝছেন সোনিয়া গান্ধীও। আর তাই গত শুক্রবার (১৯ আগস্ট) তার ডাকে ১৯টি বিরোধী দলের প্রধানদের বৈঠক হয়েছে। সেখানেই বিরোধী জোট নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সোনিয়া এবং মমতা।

দুই জনেরই বার্তা, ইগো ও ব্যক্তিগত স্বার্থকে দূরে সরিয়ে রেখে সবাইকে জোটবদ্ধ হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে হবে। যা জাতীয় স্তরে বিরোধী রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কিন্তু সমীকরণ কতটা মোদী বিরোধী হবে তা এখনই স্পষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। এমনটাই মনে করছেন ভারতের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর