বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন

ভ্রাম্যমাণ আদালতের কিছু কার্যক্রমে হাইকোর্টের অসন্তোষ

রিপোর্টার / ১৩০ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট, ২০২১

বারবার আলোচনায় আসা ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাম্প্রতিক সময়ের বেশ কিছু ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে হাইকোর্ট  ম্যাজিস্ট্রেটদের কার্যক্রম (ক্ষমতা) কখন, কীভাবে প্রয়োগ করতে হবে সে বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দিতে সারাদেশের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণ দিতে বলেছেন। এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের সঙ্গে আলোচনা করতে বলেছেন আদালত।

নেত্রকোনায় দুই শিশুকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডের বিষয়ে নজরে আনা আবেদনের শুনানিকালে বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিনকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, ‘আমি যতটুকু নিউজ পড়ে জেনেছি, নেত্রকোনায় ম্যাজিস্ট্রেট রাজিয়া সুলতানা তার চেম্বারে বসে দুই শিশুকে সাজা দিয়েছেন। এভাবে কি সাজা দিতে পারেন? মিস্টার অ্যাটর্নি জেনারেল, সবদিকে আপনাকে দেখতে হবে। আপনি দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল। আইনের প্রয়োগ কীভাবে হচ্ছে, সেটি আপনার দেখা উচিত।’

জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমি তো এ বিষয়ে কিছু জানি না। এ সময় আদালত তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত সাজা দিতে পারেন, কিন্তু তিনি চেম্বারে দিয়েছেন। এটা চেম্বারে বসে দেওয়ার সুযোগ নেই। থানায় বসেও দেওয়ার সুযোগ নেই। এ ঘটনা শুধু নেত্রকোনাতে ঘটেনি। পত্রপত্রিকায় দেখি ঘটনা ঘটেছে, হয়তো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু দেখা যায়, ঘটনার দুই-তিন দিন পরে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সাজা দিচ্ছেন। এরকম ঘটনা ঘটছে। কিছুদিন আগে, সম্ভবত বরগুনার এক ব্যক্তিকে দুই-তিন দিন পরে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সাজা দিয়েছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের স্পিরিট কিন্তু এটা না। এ বিষয়টি আপনি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বলুন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের যে ট্রেনিং হয় সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা তারা কীভাবে প্রয়োগ করবে তার যেন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আপনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের সঙ্গে কথা বলুন।’

এ পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের সঙ্গে কথা বলবো।’

এরপর আদালত নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় দুই শিশুকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়ার কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে আদেশ দেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দাখিলের পর ব্যাখ্যার একটি অনুলিপি আগামী ২৬ আগস্টের মধ্যে হাইকোর্টে দাখিল করতে বলা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর