রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন

ধর্মের নামে যেন স্থিতিশীলতা নষ্ট না হয়: রাষ্ট্রপতি

ভয়েসবাংলা প্রতিবেদক / ২৯৩ বার
আপডেট : রবিবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২২

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ধর্মের নামে কেউ যেন দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে না পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সংসদ সদস্যদের জনস্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দিতে আহ্বান জানান। করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন যাতে না ছড়ায় সেজন্য সরকারকে সতর্কতা অবলম্বনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও বলেছেন।

রবিবার জাতীয় সংসদে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। বিকাল ৪টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবার বছরের শুরুতে অধিবেশনের প্রথম দিন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে মহামারির কারণে এবার তা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। পরে এর ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আনা হয়। আলোচনা শেষে রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।

স্পিকারের অনুরোধের পর রাষ্ট্রপতি তার লিখিত ভাষণের সংক্ষিপ্তসার পড়া শুরু করেন। এ সময় তার মূল বক্তব্য পঠিত বলে গণ্য করার জন্য স্পিকার শিরীন শারমিনকে অনুরোধ জানান আবদুল হামিদ। স্পিকারের আসনের পাশে রাখা ডায়াসে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেন তিনি। প্রতিবারের মতো এবারও মন্ত্রিসভার ঠিক করে দেওয়া ১৬৯ পৃষ্ঠা ভাষণের সংক্ষিপ্তসার পড়েন রাষ্ট্রপতি। বিকাল ৪টা ২৫ মিনিটে ভাষণ শুরু করে ৫টা ১৫ মিনিটে তা শেষ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বিশ্বের জন্য একটি অনন্য উদাহরণ। দেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে সম্প্রীতি সহকারে স্ব-স্ব ধর্ম চর্চা করতে পারে সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবসমূহ নির্বিঘ্নে যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করা হচ্ছে। তথাপি ধর্মের নামে কোনও ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী যাতে দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে না পারে সেদিকে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে আবদুল হামিদ বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বাঙালি অর্জন করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। জনগণের অধিকার আদায়ে তাঁর অব্যাহত সংগ্রাম, নির্ভীক ও দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং গভীর দেশপ্রেম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত। জাতির পিতার আদর্শকে ধারণ করে তারই যোগ্য উত্তরসূরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে আজ বাঙালি জাতি এগিয়ে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আজীবন লালিত স্বপ্ন সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার পথে।

গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দলমত নির্বিশেষে সবাইকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, নতুন প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, সুখী, সুন্দর ও উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেওয়া আমাদের পবিত্র কর্তব্য। এ লক্ষ্যে গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং উন্নয়নের মতো মৌলিক প্রশ্নে দলমত, শ্রেণি ও পেশা নির্বিশেষে আপামর জনগণকে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাই। অর্থনীতি, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, খাদ্য-কৃষি, পরিবেশ-জলবায়ু, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের কার্যক্রম ও সাফল্য তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। এ ছাড়া দেশে আইনের শাসন সুসংহত ও সমুন্নত রাখা এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।

যোগাযোগ খাতে সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এমআরটি লাইন ছয়-এর নির্মাণকাজ ৭৪ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং দশ সেট মেট্রো ট্রেন বাংলাদেশে পৌঁছেছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে প্রথম মেট্রোরেল চলাচল শুরু করবে। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, যা ২০২২ সালের জুন নাগাদ সম্পন্ন হবে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ জুন ২০২৩ সাল নাগাদ সম্পন্ন হবে। ১৬টি উড়োজাহাজ সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরণ-পরবর্তী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে তা দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে হবে। উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুযোগ কাজে লাগাতে হলে আমাদের জনমিতির সুবিধা পুরোপুরি ব্যবহার করতে হবে। এ জন্য আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে, যাতে আমাদের নতুন প্রজন্ম দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে। নতুন নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানসহ বিদেশে শ্রমশক্তি রফতানির প্রচেষ্টা আরও জোরদার করতে হবে। বিশ্ববাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন প্রশিক্ষণ কারিক্যুলাম প্রস্তুত, বিদ্যমান কারিক্যুলাম যুগোপযোগীকরণ এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে সার্টিফায়েড দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকারে ভূমিকার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ রোধে বিধিনিষেধ আরোপ ও প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি ১৫৬টি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ছাড়া করোনা পরীক্ষার জন্য ১৫১টি আরটি-পিসিআর ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়। স্বাস্থ্যসেবা খাতে গত অর্থবছরের তুলনায় বাজেট বৃদ্ধি করা হয়েছে ১৩ শতাংশ। দেশের সাত কোটি মানুষকে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আশা করেন, অধিকাংশ জনগণকে টিকার আওতায় আনা হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বিশ্বের অন্য যেকোনও দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার অপেক্ষাকৃত কম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাহসী, দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অনুপ্রেরণায় আমরা এখন পর্যন্ত করোনা এবং এর অভিঘাত সফলভাবে মোকাবিলা করে যাচ্ছি। ওমিক্রন নিয়ে সরকারের উদ্দেশে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন যাতে দেশে ছড়াতে না পারে সেজন্য সরকারকে সতর্কতা অবলম্বনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মহামারি মোকাবিলায় এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করে আবদুল হামিদ বলেন, বিগত দেড় দশকে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি ব্যয় বেড়েছে। এজন্য সরকারি অর্থের অপব্যবহার রোধে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সরকারি সব কার্যক্রমে জনগণের যথাযথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে গণতন্ত্রকে অধিক কার্যকর করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর