রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন

ওয়াদা কখনও ভুলবেন না: জনপ্রতিনিধিদের প্রধানমন্ত্রী, শপথ নিলেন নাসিক মেয়র আইভী

ভয়েসবাংলা প্রতিবেদক / ১০০ বার
আপডেট : বুধবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের কাছে যে ওয়াদা দিয়ে ভোট নিয়েছেন, তা কখনও ভুলবেন না। মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন।

বুধবার ৯ ফেব্রুয়ারি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও কাউন্সিলদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধিদের প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। প্রধানমন্ত্রী মেয়র আইভীকে শপথবাক্য পাঠ করান। নবনির্বাচিত কাউন্সিলরদের শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

নাসিক নির্বাচনের প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, একটা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে আপনারা বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। জনগণ তার ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে এবং তাদের মন মতো প্রার্থী নির্বাচন করতে পেরেছেন। এ জন্য নির্বাচন কমিশনসহ নারায়ণগঞ্জে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সবার প্রতি ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উন্নয়নের গতিধারাটা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জ ঢাকার ঠিক পাশেই এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর। কাজেই সেই ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বলেন, যদিও আমাদের বিরোধী দল অনেক অপপ্রচার চালায়, কিন্তু তারা কখনও আয়নায় নিজের চেহারা দেখে না যে এই বিএনপি-জামায়াত অথবা অন্যরা যারা এই ধরনের সমালোচনা করে থাকে, তাদের প্রতিষ্ঠা কার হাত দিয়ে, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাত দিয়ে। জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চাওয়ার কোনও অভ্যাসই তাদের ছিল না; বরং কেড়ে নেওয়া, চুরি করাই তাদের অভ্যাস ছিল।

জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যেকোনও একজন রাজনৈতিক নেতার জন্য—নিজের স্বার্থ না দেখে পরের স্বার্থে কাজ করা, জনগণকে কতটুকু দিতে পারলাম, কতটুক তাদের জন্য করতে পারলাম—সেটাই সবচেয়ে বড় কথা। যতটুকু আপনি দিতে পারবেন, তাতেই আত্মতৃপ্তি, নিজের ভোগবিলাসে না। রাজনৈতিক নেতা হতে হলে জনকল্যাণে কাজ করতে হয়, নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করতে হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা আমাদের সেই আদর্শ শিখিয়ে গেছেন। আমি আশা করি, সেই আদর্শ নিয়েই আপনারা চলবেন। তাহলে আপনার নেতৃত্বও থাকবে, জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবেন, বিশ্বাস অর্জন করতে পারবেন। জনপ্রতিনিধিদের এটা মনে রাখতে হবে, মানুষ খুব সচেতন। সেটা মাথায় রেখেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বিএনপি গণতন্ত্রের অর্থও বোঝে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের অধিকারের অর্থও তারা বোঝে না। সেই শিক্ষাই তাদের নাই। তারা বোঝে সন্ত্রাস, তারা বোঝে দুর্নীতি, তারা বোঝে জঙ্গিবাদ। তারা বাংলাভাই সৃষ্টি করতে পারে, তারা মানুষ হত্যা করতে পারে, হাত কাটতে পারে, চোখ কাটতে পারে, মানুষের ঘরবাড়ি দখল করতে পারে—এগুলো তারা পারে। সেই সুযোগটা পাচ্ছে না বলেই বোধহয় তাদের বেশি আক্ষেপ।

বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের তো নেতৃত্ব বলে কিছু নেই। একজন এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে সাজাপ্রাপ্ত বন্দি, আমরা দয়া করে তাকে তার বাড়িতে থাকার একটা সুযোগ করে দিয়েছি। আরেকজন ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারি, ২১ অগাস্টের গ্রেনেড হামলা এবং দুর্নীতি… সেই দুর্নীতির তথ্য ছিল… আমরা না, এটা আমেরিকার এফবিআই তুলে ধরেছে, তারাই সাক্ষ্য দিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সেসব মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি ২০০৭ সাল বা ২০০৮ সালের দিকে তখনকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে মুচলেকা দেয় যে ‘আর কোনোদিন রাজনীতি করব না’, এই মুচলেকা দিয়েই দেশ থেকে চলে গিয়েছিল খালেদার ছেলে তারেক রহমান। এখন বিদেশেই সে থাকে। কাজেই বিদেশে থেকে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি যে দলের চেয়ারপারসন হয়, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে… সাজাপ্রাপ্ত আসামি আবার ফিউজেটিভ। তিনি বলেন, তারা আসলে নির্বাচনই চায় না। তারা নির্বাচনের অর্থ বোঝে না। ভোট চুরি করতে জানে, কিন্তু জনগণের ভোট নিতে জানে না। জনগণের যে ভোট দেওয়ার অধিকার সে অধিকারে তারা বিশ্বাস করে না। এটা হলো বাস্তবতা।

আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটের অধিকারে বিশ্বাসী মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি জনগণ তার ভোট দিয়ে তার মন মতো প্রার্থী নির্বাচিত করবে যে তাদের জন্য কাজ করবে। জনগণ কখনও ভুল করে না, এটাই হলো বাস্তবতা। সেটা নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে ভালোভাবে প্রমাণ হয়েছে। কে তার জন্য কাজ করবে, সেটা জনগণ নিজেরাই বেছে নিতে পারেন। সেই বিবেচনা জনগণের আছে এবং জনগণের ওপর আস্থা রেখেই আমরা আমাদের যত রকম কাজ করি। তিনি বলেন, আমাকে চিন্তা করতে হয়, কারণ আমারও তো বয়স হয়েছে। ৭৫ বছর বয়স আমার। কাজেই আর কতদিন বাঁচবো। কিন্তু এমনভাবে দেশের কাঠামো করে দিয়ে যেতে চাই, এমনভাবে পরিকল্পনা করে দিতে চাই, প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন এই বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিধারাটা ধরে রাখতে পারে, উন্নত জীবন পায়, সুন্দর জীবন পায়।

শেখ হাসিনা বলেন, আর যেন কখনও কারও দ্বারা নিষ্পেষিত হতে না হয়, নির্যাতিত হতে না হয়, সুন্দরভাবে যেন মানুষ বাঁচতে পারে। সেই ব্যবস্থাটাই আমি করে দিয়ে যেতে চাই। টানা মেয়াদে ক্ষমতার আসার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটানা এই ১৩ বছর ক্ষমতায়। যার ফলে আজকে দেশের উন্নতি হচ্ছে। আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। আমাদের এই ১৩ বছর গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রয়েছে। যার ফলে আজকে দেশের উন্নতি হচ্ছে। আমাদের মাথাপিছু আয়সহ জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্বাধীনতার পর জাতির পিতা একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলে তার নেতৃত্বে স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত করে রেখে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এরপর ২১ বছর আওয়ামী লীগ সরকারে আসতে পারেনি। কিন্তু আজকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরেই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। আজকে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়েছে। আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ দিতে সক্ষম হয়েছি। রাস্তাঘাট, অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন করে যাচ্ছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর