মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ১১:০৪ অপরাহ্ন

এই জামায়াত বাংলাদেশকে আজ এই জায়গায় নিয়ে এসেছে; খন্দকার মোশাররফ ও দুদুর ক্ষোভ

ভয়েসবাংলা প্রতিবেদক / ৬৫৫ বার
আপডেট : শনিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২১

এই জামায়াত বাংলাদেশকে আজ এই জায়গায় নিয়ে এসেছে’ এসবই জামায়াতের ফাইজলামি বলে দলটির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপিপন্থী সংগঠন নাগরিক ফোরামের আলোচনায় সভায় জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে এমন প্রতিক্রিয়া জানান।

প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ মিলনায়তনে ‘মানবাধিকার ও আইনের শাসন: প্রেক্ষিত ২৮ অক্টোবর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এক বক্তার কথাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুসহ কয়েকজন তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান। অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর নেতা হেলাল উদ্দিন। তবে ঘটনার সময় উপস্থিত না থাকলেও পরে আসেন জামায়াতের প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাইফুর রহমান ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পুরানা পল্টনে জামায়াতের সমাবেশে হামলা ও দলটির অনুসারী কয়েকজনের মৃত্যুর জন্য বিএনপিকে দায়ী করে বক্তব্য দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাইফুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এই জামায়াত বাংলাদেশকে আজ এই জায়গায় এনেছে। এসবই জামায়াতের ফাইজলামি।

একই সময় শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আরে বসেন আবার কী? তাদের মিটিং করতে দেয় নাই, উনার খুব অপরাধ হয়েছে! এরপর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আবারও মোশাররফ হোসেন বলেন, কার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলো? এসব সাজিয়ে ধরে নিয়ে আসছে। কার সামনে কথা বলো। কী বলছো তুমি? তোমার কথার কৈফিয়ত দিতে হবে? জবাব দিতে হবে তোমার মতো লোককে?

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক সংবাদকর্মী জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে নাগরিক ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর জামায়াতের সঙ্গে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেন। নিজের বক্তব্যে সাইফুর রহমান উল্লেখ করেন, ২৮ অক্টোবরের সংঘর্ষের জন্য দায় বিএনপিকেই নিতে হবে।

আলোচনা অনুষ্ঠানে ছিলেন কল্যাণ পার্টির যুগ্ম-মহাসচিব (সমন্বয়কারী) আবদুল্লাহ আল হাসান সাকিব। তিনি বলেন, অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার থাকার পরও কীভাবে জামায়াতের ওপর হামলা হলো তা উল্লেখ করেন। সাইফুর রহমানের দাবি, জামায়াতের তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কেন ওই সময় একসঙ্গে কর্মসূচি করা হয়নি জানতে চেয়েছিলেন তিনি। জোট থাকার পরও কেন বিএনপি আলাদা সমাবেশ করেছিল সেই বিষয়টিও তুলেছিলেন। সাইফুর রহমান বলেছেন, এর জবাব বিএনপিকেই দিতে হবে। এরপরই খন্দকার মোশাররফ স্যার ক্ষেপে গেছেন।

শিবিরের চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের সাবেক ছাত্র কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল হাসান সাকিব আরও বলেন, আমি স্যারকে (খন্দকার মোশাররফ হোসেন) শ্রদ্ধা করি। তিনি প্রবীণ রাজনীতিক। আমি বলেছি, স্যার ব্যক্তিগতভাবে নিয়েন না। তাকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে থাকা বিএনপি-জোটের শরিক একটি দলের যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ঘটনাস্থলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল উপস্থিত থাকলেও তিনি চুপ ছিলেন। তবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও শামসুজ্জামান দুদু উভয়ে তীব্র ভাষায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। আমি মোশাররফ স্যার ও দুদু ভাইকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুদু ভাই শান্ত হননি। এ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে শিমুল বিশ্বাসের মোবাইল ফোনে কল দিলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

প্রেসক্লাবে সভার আয়োজক ছিলেন জিয়া পরিষদের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহিল মাসুদ। নাগরিক ফোরামের ব্যানারে তিনি কয়েকশ’ কর্মসূচি আয়োজন করেছেন। শনিবার সকালের অনুষ্ঠানে হট্টগোলের ব্যাপারে তার দাবি, সাইফুর রহমানকে আমি চিনি না। অনুষ্ঠানের আরেকজন আলোচক তাকে এনেছিলেন। তিনি আইনজীবী বলে শুনেছি। অনুষ্ঠানে কোনও ঝামেলা হয়নি।

প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান বলেন, আমি সেখানে কিছু কথা বলেছি। সেই কথার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠা নিয়ে যে হামলা হলো, ওই বিষয়ে কথা বলেছিলাম। ওই সময় জোটের শরিক ছিল বিএনপি, কিন্তু জামায়াতের সমাবেশে হামলা হলো, তখন কেন তারা এলো না? অন্য দলগুলো এলো না কেন? ওই সময় যারা জোটের মন্ত্রী ছিলেন তারা কেন ব্যবস্থা নিলেন না? তারা যদি ব্যবস্থা নিতেন তাহলে তো ওই ঘটনা ঘটতো না। এভাবে কিছু উপলব্ধিমূলক কথা বলেছি আমি’ উল্লেখ করে ছাত্র শিবিরের সাবেক প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সাইফুর রহমান বলেন, একপর্যায়ে স্যার (খন্দকার মোশাররফ হোসেন) বললেন- এগুলো কেন এখন বলতে হবে? আমি বললাম, স্যার এগুলো আমার বক্তব্য, আমি দিয়েছি। আপনারটা আপনি দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর