রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন

আফিফ-মিরাজের দুর্দান্ত জুটির বীরত্বে টাইগারদের অবিশ্বাস্য স্মরণীয় জয়

ভয়েসবাংলা প্রতিবেদক / ৮৫ বার
আপডেট : বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

দলীয় ৪৫ রানে নেই দলের টপঅর্ডারের ৬ উইকেট, ঠিক সেখান থেকেই রেকর্ড জুটি গড়ে বাংলাদেশকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিলেন আফিফ হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বিপর্যয়ে পড়েও এই জুটির অসাধারণ দৃঢ়তায় ৪ উইকেটে জিতে নেয় টাইগাররা।

বুধবার ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় দুদল। যেখানে প্রথমে ব্যাট করা আফগানিস্তান ৪৯.১ ওভারে ২১৫ রানে গুটিয়ে যায়। জবাব দিতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে ও ৭ বল বাকি থাকতে ২১৯ করে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। এই ম্যাচে বাংলাদেশের জার্সিতে ওয়ানডে অভিষেক হয় মিডল অর্ডার ব্যাটার ইয়াসির আলী রাব্বির।

আফিফ-মিরাজের বীরত্বে টাইগারদের অবিশ্বাস্য জয়

সিনিয়র ক্রিকেটারই শুধু পারফর্ম করেন, তরুণরা পারছেন না- বাংলাদেশের ক্রিকেটের এই আক্ষেপ এবার বুঝি ঘুচলো। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে সিনিয়র ক্রিকেটার তথা টপ অর্ডার ভেঙে পড়লেও ঘুরে দাঁড়ানোর নজির স্থাপন করে স্মরণীয় এক জয় উপহার দিলেন আফিফ হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তাদের লড়াকু ব্যাটিংয়ে চট্টগ্রাামের প্রথম ওয়ানডে ৪ উইকেটে জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ।

সপ্তম উইকেট জুটিতে আফিফ-মিরাজ ১৭৪ রানে অপরাজিত থেকে দেশীয় রেকর্ড গড়েন। আগের রেকর্ডটি ছিল ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইমরুল কায়েস ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ১২৭ রানের। যদিও সেবার বাংলাদেশ আগে ব্যাট করেছিল। তবে আর মাত্র ৩ রানের জন্য সপ্তম উইকেট জুটিতে বিশ্ব রেকর্ড হলো না। ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জস বাটলার ও আদিল রশিদ ১৭৭ রান করে এই রেকর্ডের চূড়ায় রয়েছেন। আফিফ ও মিরাজ ২২৫ বলে ১৭৪ রানের জুটি গড়েন। আফিফ ১১৫ বলে ১১টি চার ও একটি ছক্কায় ৯৩ রানের অপরাজিত থাকেন। অন্যপ্রান্তে মিরাজ ১২০ বলে ৯টি চারে ৮১ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন।

অথচ এক ফজলহক ফারুকির পেস বোলিংয়েই খেই হারায় বাংলাদেশের ব্যাটিং। ২৮ রানে পড়ে ৫ উইকেট! পরে মাহমুদউল্লাহও বিদায় নেওয়ায় সাজঘরে ফিরেছেন ছয়জন। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচ জয়ের পরিস্থিতি তৈরি করা অবিশ্বাস্য একটি কাজ। সেটিই করে দেখিয়েছেন দুই তরুণ। কেউই সেঞ্চুরি করেননি, তবে স্মৃতির মণিকোঠায় সাজিয়ে রাখার মতো ইনিংস খেলে ফেলেছেন তারা। আফিফ খেলেছেন হার না মানা ৯১ রানের ইনিংস। আর মিরাজ অপরাজিত ছিলেন ৮১ রানে। ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন এই অলরাউন্ডার।

চট্টগ্রামে শুরুতে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তামিম। প্রথম ওভারে মেরেছেন দুটি চার। ছন্দপতন ঘটে তৃতীয় ওভারেই। ফারুকির তৃতীয় বলে শুরুতে গ্লাভসবন্দি হন লিটন দাস (১)। আফগানিস্তান রিভিউ নেওয়ার পরেই আউটের সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়ার। এক বল বিরতি দিয়ে এলবিডাব্লিউ হন তামিমও (৮)। শুরুতে অবশ্য অনফিল্ড আম্পায়ার আউট দেননি। সফরকারীরা রিভিউ নেওয়ার পর মিলেছে সাফল্য।

দুই ওপেনার ফেরার পর মুশফিক পরিস্থিতি সামাল দেবেন কী, উল্টো নিজেই ফাঁদে পড়েন এলবিডাব্লিউর। পঞ্চম ওভারে ফারুকির ভালো লেংথের বল খেলতে গিয়ে পুরোপুরি পরাস্ত হয়েছেন। রিভিউ নিয়েও তার শেষরক্ষা হয়নি! ফিরেছেন মাত্র ৩ রানে। বিপদ পড়ে যাওয়া পরিস্থিতিতে অভিষিক্ত ইয়াসির আলীও দাঁড়াতে পারেননি। একই ওভারের শেষ বলে বোল্ড হয়েছেন রানের খাতা না খুলে! বিপর্যয়ের সেই শুরু। অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসানও সাজঘরের পথ ধরলে রীতিমতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। ১০ রানে মুজিবের বলে আন্ডার এজ হয়ে বোল্ড হয়েছেন বামহাতি অলরাউন্ডার!

ধ্বংসস্তূপ থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে পাননি মাহমুদউল্লাহও। কিছুক্ষণ ক্রিজে থেকেও থিতু হতে পারেননি তিনি। বরং রশিদ খানের ঘূর্ণিতে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ৮ রানে। তবে চাপের মাঝে থেকেও বাংলাদেশকে টেনে তুলেছেন আফিফ-মেহেদী।

অথচ দারুণ বোলিংয়ে আফগানিস্তানকে ২১৫ রানে আটকে রাখতে পেরেছিল বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাট করা আফগানিস্তান একটা সময় মোহাম্মদ নবী-নাজিবুল্লাহ জাদরান জুটিতে ভালো স্কোরের স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু তাসকিন আহমেদের বলে জুটি ভাঙার পর বেশিদূর যেতে পারেনি তারা। পরে সাকিবও উইকেট উৎসবে যোগ দেওয়ায় ২১৫ রানে থেমেছে আফগানিস্তানের ইনিংস। পুরো ইনিংসে জাদরানের ৬৭ রানই ছিল মূল আকর্ষণ।তার কারণেই স্কোর দুইশো ছাড়িয়েছে। আফগান ইনিংসের সর্বোচ্চ স্কোরারও তিনি। তার ৮৪ বলের ইনিংসে ছিল ৪ চার ও ২ ছয়। তার বিদায়ের পর পর ৪৯.১ ওভারে ২১৫ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান।

বল হাতে ৩টি উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ। ২টি করে উইকেট গেছে শরিফুল, তাসকিন ও সাকিবের দখলে। বাকি উইকেট মাহমুদউল্লাহর। মিরাজ উইকেট না পেলেও ১০ ওভারে ৩ মেডেন দিয়ে মাত্র ২৮ রান খরচ করেন। ৩৫ রানে মোস্তাফিজুর রহমান নিয়েছেন ৩ উইকেট। তাসকিন, সাকিব ও শরিফুল ২ উইকেট নিলেও খরুচে ছিলেন দুজন। তাসকিন ৫৫ রান দিয়েছেন আর সাকিব দিয়েছেন ৫০ রান। এক ওভারে ৪ রান দিয়ে একটি উইকেট মাহমুদউল্লাহর। ব্যাটে-বলে দারুণ করে ম্যাচ সেরা হন মিরাজ। একই ভেন্যুতে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে।

আফিফ-মিরাজকে প্রশংসায় ভাসালেন পাপন

বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রিয় ফরম্যাট একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ। অন্য দুই ফরম্যাটে ভালো না করলেও এই ফরম্যাটে রয়েছে বলার মতো অনেক স্মৃতি। তারপরও আফগানিস্তানের বিপক্ষে দলের এমন অবস্থা মানতে পারছেন না বিসিবি বস নাজমুল হাসান পাপন। যদিও মিরাজ-আফিফের নৈপুণ্যে দলের জয় এসেছে ঠিকই। খেলা শেষে সাংবাদিকদের পাপন বলেন, আফগানিস্তানের সঙ্গে আমরা জিতবো, আমার মত সবাই ভেবেছে। তবে এমন পরিস্থিতিতে পড়বো তা কখনও কল্পনায় ছিল না। আমাদের দুই ইয়ং স্টার যা দেখিয়েছে তা অবিশ্বাস্য। নতুন প্রজন্মের জন্য এটি ভালো সংবাদ হতে পারে। মেহেদি-আফিফ অসাধারণ ইনিংস খেলেছে। কিন্তু কয়েকটা আউট এত বাজে ছিল বলার মতো না।

আফিফ-মিরাজকে প্রশংসায় ভাসালেন পাপন

দেশের উইকেট নিয়ে বরাবরই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে বিসিবিকে। আজও টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পেছনে উ্ইকেট কারণ কিনা- সাংবাদিকরা জানতে চান বিসিবি বসের কাছে। এমন ব্যর্থতা উইকেটের কারণে নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হয়নি উইকেট কোনো ইস্যু হতে পারে। এমন তো না যে এসব উইকেটে আগে কখনোও খেলেনি বাংলাদেশ দল। এসব মাঠে আমাদের খেলার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। আমার কাছে মনে হয়েছে উইকেট খুব ভালো ছিল। কিন্তু উইকেট ভালো হয়েও কোনো লাভ হয়নি। দল যে অবস্থায় ছিল আমরা হেরে যেতে পারতাম। যদি আফিফ-মেহেদি ভালো না খেলতো। তারা বলের মেরিট অনুযায়ী খেলেছে। কোনো বাজে শট খেলেনি। এগ্রেসিভ খেলেছে তাও না। যখন যে বলে, যেভাবে খেলা দরকার সেভাবেই খেলেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর