প্রবল গণবিক্ষোভের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে ফের দেশে ফিরেছেন। সাময়িক ভিসা নিয়ে এতোদিন তিনি থাইল্যান্ডে অবস্থান করছিলেন। ৩ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে সেখান থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে কলম্বো ফেরেন ৭৩ বছরের এই রাজনীতিক। কলম্বোর অদূরে বন্দরনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান লঙ্কান মন্ত্রী ও রাজনীতিকরা। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
বন্দরনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একজন কর্মকর্তা জানান, উড়োজাহাজ থেকে বেরুনোর সময় রাজাপাকসেকে ফুলের মালা দিতে ক্ষমতাসীন রাজনীতিকদের ভিড় লেগে যায়। শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে গোটাবায়া রাজাপাকসেকে তার প্রাপ্য নিরাপত্তা দেবে সরকার।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রাজাপাকসের জন্য কলম্বোতে একটি বাড়ি দেখেছে সরকার। তবে তিনি সেখানেই উঠবেন নাকি আপাতত সামরিক ব্যবস্থাপনায় থাকবেন সেটি এখনও নিশ্চিত নয়।
গত জুলাইয়ে বিক্ষোভের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান গোটাবায়া রাজাপাকসে। সামরিক বিমানযোগে প্রথমে মালদ্বীপ যান তিনি। সেখান থেকে সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে পাড়ি জমান সিঙ্গাপুরে। গত ১১ আগস্ট সিঙ্গাপুর ছেড়ে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার প্রভাবশালী রাজাপাকসে পরিবারের সদস্য গোটাবায়া দেশটির সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন। পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন তিনি। রাজাপাকসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকার সময়ে সরকারি বাহিনী ২০০৯ সালে চূড়ান্তভাবে তামিল বিদ্রোহীদের পরাজিত করে। অবসান ঘটে শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের। কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন ওই সময়ে রাজাপাকসের দ্বারা সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের তদন্ত দাবি করে আসছে। তবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন তিনি।
দেশে ফিরেই সরকারি বাসভবন পেলেন গোটাবায়া
পালিয়ে যাওয়ার দেড় মাস পর ফিরেই সরকারি বাসভবন পেলেন শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে। প্রবল আন্দোলনের মুখে গত ১৩ জুলাই রাতের আঁধারে শ্রীলঙ্কা ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি।
একাধিক সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার দেশে ফেরার পর তাকে কঠোর নিরাপত্তা দিতে দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। স্বাধীনতা লাভের পর প্রথমবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। এতে গণ বিক্ষোভের মুখে দেশ ছাড়েন গোটাবায়া। দেশের এমন সংকটের পেছনে তার প্রশাসনকে দায়ী করে আসছে লঙ্কান জনগণ। সিঙ্গাপুরে থাকা অবস্থায় পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। পরবর্তীতে সেখান থেকে থাইল্যান্ড আশ্রয়ে নেন।
গোটাবায়ার দেশে ফেরার বিষয়ে শ্রীলঙ্কার বর্তমান সরকারের একজন মুখপাত্রকে রয়টার্স ইমেইল পাঠিয়ে জানতে চাইলে তার জবাব দেননি তিনি । রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি বাসভবনে যাওয়ার আগে শনিবার ভোরে বিমানবন্দরে ক্ষমতাসীন দলের সদস্য এবং আইনপ্রণেতাদের একটি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, দেশে ফেরা রাজাপাকসের এখন কী পরিকল্পনা সে বিষয়ে কোনও ইঙ্গিত দেন তিনি।