মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পালটা হামলা, লক্ষ্যবস্তু ৮৫ স্থাপনা
- আপডেট সময় : ০২:৫৩:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও পরবর্তীতে ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন বিমান হামলার জবাবে এবার মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরান।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে আজ বুধবার (৮ জুলাই) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
খামেনির জানাজার প্রস্তুতির মধ্যেই ইরানে মার্কিন হামলা
ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের নৌ এবং বিমানবাহিনী যৌথভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশে অবস্থিত মোট ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তু নিশানা করে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
হামলায় বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের প্রধান ঘাঁটি ও সদর দপ্তরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলার পর বাহরাইনে বিমান হামলার সাইরেন বাজানো হয় এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
কুয়েতের আলী আল-সালেম মার্কিন বিমান ঘাঁটিতেও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েত সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের বেশ কিছু মিসাইল ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
ইরানের তেল রপ্তানিতে ফের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ইরানের হরমোজগান ও মাহশাহরের উপকূলীয় অঞ্চলে সামরিক ঘাঁটি এবং বেসামরিক স্থাপনায় ৮৯টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, মার্কিন এই হামলাটি গত মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি এবং ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’র সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলাকে ‘আমেরিকান সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিয়ে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর সতর্ক করেছে যে, এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, মার্কিন এই বিমান হামলাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন এবং শেষ বিদায়ের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোর সময়ে করা হয়েছে। ওয়াশিংটন এই ঐতিহাসিক ও আবেগঘন ঘটনাকে ম্লান করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
আজ কারবালায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা
উত্তেজনার কেন্দ্রে থাকা হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। ওয়াশিংটনের কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না জানিয়ে তারা বলেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর জন্য একমাত্র নিরাপদ পথ হলো ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান কর্তৃক নির্ধারিত রুট।
মার্কিন হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি হওয়া ভঙ্গুর কূটনৈতিক সমঝোতা স্মারক পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
















