
খুলনা ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এবার ফলাফলের অপেক্ষা। ইভিএমে ভোট হওয়ায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জানা যাবে কে হচ্ছেন দুই সিটির মেয়র।
সোমবার (১২ জুন) সকাল ৮টা থেকে ইভিএমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোট চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
সকাল থেকে দুই সিটির কেন্দ্রগুলোতে ছিল ভোটারদের উপস্থিতি। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলনার ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কমে। কিছু কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে ধীর গতি লক্ষ্য করা গেছে।
বরিশাল সিটি নির্বাচনে হাতপাখার মেয়র প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলার পরপরই প্রার্থী সিটি করপোরেশনের নির্বাচন কর্মকর্তা ও পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ করেন।
ফয়জুল করীম অভিযোগ করেন, নগরীর চৌমাথা এলাকার ছাবেরা খাতুন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে হাতপাখার কার্যালয়ে হামলা এবং তার ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমন খবর পেয়ে দুপুর দেড়টার দিকে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে এর প্রতিবাদ জানালে অপরিচিত কিছু লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। এতে তার নাক ও মুখ ফেটে যায়। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে নির্বাচন কর্মকর্তা ও পুলিশ কমিশনারকে অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কিছু কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মেয়র প্রার্থীরা। ভোট শুরুর আগেই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের কর্মীরা বিভিন্ন কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়া এবং ভোটারদের ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেন জাতীয় পার্টি সমর্থিত লাঙল প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস। কিছু কেন্দ্রে টেবিল ঘড়ি প্রতীকের এজেন্টদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মেয়র পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান রুপন।
খুলনায় ভোটাররা জানিয়েছেন, ইভিএমে ভোট দিতে বেশি সময় লাগছে। এতে ভোটারদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তবে প্রিজাইডিং অফিসাররা বলেছেন, ভোটের গতি ছিল স্বাভাবিক।
খুলনায় ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩৩ জন এবং নারী ২ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৬ জন।
এই সিটিতে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের তালুকদার আব্দুল খালেক, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের শফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের আব্দুল আউয়াল, জাকের পার্টির গোলাপফুল প্রতীকের এসএম সাব্বির হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী দেয়ালঘড়ি প্রতীকের এসএম শফিকুর রহমান মুশফিক।
এ ছাড়া ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৩৬ জন ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যার মধ্যে নগরীর ১৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে দুই জন কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্যদিকে বরিশালে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৮৯ জন এবং নারী ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০৯ জন।
এই নির্বাচনে সাত জন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত (নৌকা), জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের মুফতি ফয়জুল করিম (হাতপাখা), জাকের পার্টির মিজানুর রহমান বাচ্চু (গোলাপ ফুল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামরুল আহসান (টেবিল ঘড়ি), মো. আলী হোসেন হাওলাদার (হরিণ) এবং মো. আসাদুজ্জামান (হাতি)।
পাশাপাশি সিটির ৩০টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১১৯ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ১০টি পদের বিপরীতে ৪২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। নির্বাচনে দুই নারী সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের রোজিনা শেখ আয়শা ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের ফরিদা বেগম। মোট ছয় জন নারী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও শেষ মুহূর্তে চার জন তা প্রত্যাহার করেন।
ইসির তথ্যমতে, নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের ১২৬টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। মোট ভোটকক্ষ ৮৯৪টি। প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন এবং প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৭ জন সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।