সবাই মিলে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করতে চাই: সিইসি

নবনির্বাচিত নির্বাচন কমিশনারদের উদ্দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ‘ভোটের দায়িত্ব পালনের সময় অপকর্ম ক্ষমার অযোগ্য দুর্নীতি। নির্বাচনি কর্মকর্তাদের প্রভাব ও প্রলোভনমুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অন্যথায় সেটি দুর্নীতি বলে গণ্য হবে। প্রভাব ও প্রলোভনমুক্ত থেকে আমাদের কাজ করতে হবে। দেখাতে হবে, আমরা আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টাটা অন্তত করেছি। আমরা সবাই মিলিত হয়ে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করবো।’
ভোটার দিবস উপলক্ষে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে বুধবার (২ মার্চ) আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার মো. আহসান হাবীব খান, বেগম রাশেদা সুলতানা, মো. আলমগীর, মো. আনিছুর রহমান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শহীদ আনোয়ার গার্লস কলেজ ও আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২১ জন শিক্ষার্থীকে স্মার্টকার্ড দেওয়া হয়।
সভায় সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, রক্ষা করবো ভোটাধিকার’–এই স্লোগানের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি অঙ্গীকার করে ফেলেছে। যদিও অঙ্গীকারটি ঠিক নয়। তবে অঙ্গীকার যখন করে ফেলেছে, এটা পালন করতে হবে। সফল হতে না পারি কিন্তু চেষ্টা করতে হবে। গণমানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার যে দায়িত্ব আমাদের ওপর রয়েছে সেটা পালন করতে হবে। ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগের সময়ে বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হতেও পারেন। বাধার মুখে পড়লে কমিশন হিসেবে আমাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। যাতে তারা মুক্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। ভোটারদেরও মনে রাখতে হবে, ভোট কেবল অধিকার নয়, এটা তাদের দায়িত্বও।
সংসদ ও সরকার সৃষ্টিতে নির্বাচন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয়সহ সব পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়। সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা দিয়ে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
কমিশনার রাশেদা সুলতানা বলেন, ভোট নাগরিকদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। আমরা নবনির্বাচিত কমিশন এবারের ভোটার দিবসের প্রতিপাদ্য বুকে ধারণ এবং লালন করে কার্যক্রম শুরু করেছি। আমাদের দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য ভোটার-প্রার্থীসহ নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার সহযোগিতা চাই। সবার সহযোগিতা পেলে নিশ্চয়ই আমরা একটি ভালো নির্বাচন দিতে পারবো।’
কমিশনার আহসান হাবীব খান বলেন, ‘দেশের প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিতে আমরা সবার সহযোগিতা চাই। আমাদের সদিচ্ছা ও প্রচেষ্টার অভাব নেই। যাতে একটা সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে সবার অংশগ্রহণে প্রতিটি নির্বাচন উপহার দিতে পারি, সেজন্য সবার সহযোগিতা চাই।
কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বিগত অনেক নির্বাচনে আমরা ভোটের কাস্টিং কম দেখেছি। ঢাকা সিটি নির্বাচনে আমরা এই চিত্র দেখেছি। অথচ সবচেয়ে শিক্ষিত শ্রেণির মানুষ এখানে বসবাস করেন।