শেষ দিনে জিততে বাংলাদেশের দরকার ১৪৩ রান

বৃষ্টির কারণে আর খেলা হলো না, শেষ দিনে জিততে দরকার ১৪৩ রান। চা বিরতির পর এক ওভার খেলা হতেই মেঘে ছেয়ে যায় রাওয়ালপিন্ডির আকাশ। আলোর স্বল্পতায় খেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর নামে বৃষ্টি। বজ্রসহ বৃষ্টির কারণে স্থানীয় সময় ৪টা ২২ মিনিটে চতুর্থ দিনের খেলার সমাপ্তি টানেন আম্পায়াররা। বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে জমা পড়েছে ৪২ রান। শেষ দিনে জিততে দরকার ১৪৩ রান।
বাংলাদেশের পেসাররা দুই সেশনে বল হাতে আগুন ঝরালেও নিষ্প্রভ পাকিস্তানের গতির তারকারা। সফরকারী দলের দুই ওপেনার জাকির হাসান ১ চার ও ২ ছয়ে তাদের ওপর চড়াও হন। ২১ বলের মারকুটে ব্যাটিংয়ে ২৭ রান করেছেন তিনি। তার সঙ্গে সাদমান ইসলাম ৮ রানে খেলছিলেন। বিনা উইকেটে ৩৭ রানে চা বিরতিতে গেছে বাংলাদেশ। ১৮৫ রানের লক্ষ্য তাদের সামনে। এর আগে ৬ উইকেটে ১১৭ রানে লাঞ্চের পর খেলতে নামে পাকিস্তান। আর ৫৫ রান করতেই বাকি চার উইকেট হারায় তারা। হাসান মাহমুদ এই সেশনে নেন তিন উইকেট, একটি পান নাহিদ রানা। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭২ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।
দ্বিতীয় সেশনে হাসান মাহমুদ পরপর দুই উইকেট নেন। নাহিদ রানা পান পাকিস্তানের নবম উইকেট। ১৪৫ রানে ৯ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তবে সালমান আগা শেষ উইকেটে মীর হামজাকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েছিলেন। হামজাকে ফিরিয়ে তা ভেঙে দেন হাসান। তাতে প্রথম পেসার হিসেবে পাকিস্তানে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন তিনি।
পাকিস্তানকে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭২ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকেরা লিড নিয়েছে ১৮৪ রানের। বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৮৫ রানের।
হাসান ৪৪ রানে ৫ উইকেট নেন। নাহিদ পান ৪ উইকেট, ৪৩ রান দেন তিনি। পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৭ রানে অপরাজিত ছিলেন সালমান।
৪২তম ওভারে আবরার আহমেদকে ফিরিয়ে নিজের চতুর্থ উইকেট পেলেন নাহিদ রানা। ১৪৫ রানে ৯ উইকেট হারালো পাকিস্তান। নাহিদের এক্সট্রা বাউন্সার আবরারের ব্যাটে লেগে নিচু হয়ে শান্তর সহজ ক্যাচ হয়। ১২ বলে ২ রান করেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু আনলো বাংলাদেশ। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে বিপদজনক হয়ে ওঠা মোহাম্মদ রিজওয়ান থামলেন ৪৩ রান করে। হাসান মাহমুদের বলে আউটসাইড এজ হয়ে লিটন দাসের ক্যাচ হন পাকিস্তানি ব্যাটার। ১৩৬ রানে ৭ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। পরের বলে মোহাম্মদ আলীকে শূন্যতে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ বানান হাসান। ১৩৬ রানে ৮ উইকেট পড়লো পাকিস্তানের। পরের ওভারে হাসানের হ্যাটট্রিক বল প্রতিহত করেন সালমান।
৮১ রানে ৬ উইকেট পড়ার পর পাকিস্তান ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করছে। সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের জুটি পঞ্চাশ ছাড়িয়েছে।
দারুণ বোলিংয়ে প্রথম সেশন নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। ৯ রানে ২ উইকেটে দিনের খেলা শুরু করা পাকিস্তান ৬ উইকেটে করেছে ১১৭ রান।
দিনের শুরুতে শান মাসুদ ও সাইম আইয়ুব ভালো জুটি গড়ার আভাস দেন। তাসকিন আহমেদ এই জুটি বিচ্ছিন্ন করেন সাইমকে ফিরিয়ে। তারই বদলে নেমে নাহিদ রানা টানা তিন ওভারে উইকেট পান। তবে তারই বলে রানের খাতা না খুলে সাদমান ইসলামের ক্যাচ মিসে জীবন পাওয়া রিজওয়ান বাধা হয়ে দাঁড়ান। প্রথম সেশন শেষে পাকিস্তান ৬ উইকেটে ১১৭ রান করে দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৯ রানে এগিয়ে।
টানা তিন ওভারে নাহিদ রানা উইকেট পেলেন। নিজের তৃতীয় ওভারে সৌদ শাকিলকে ২ রানে থামান তিনি। পা পাকিস্তানি ব্যাটারের ১০ বলের ইনিংস শেষ হয় লিটনের ক্যাচ হয়ে। ৮১ রানে ৬ উইকেট পড়লো পাকিস্তানের। তারপর মোহাম্মদ রিজওয়ানের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়েছে স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশ দুর্দান্ত বোলিং করে ৬৫ রানেই পাকিস্তানের ৫ উইকেট তুলে নিলো। নাহিদ রানা টানা দুই ওভারে দুটি উইকেট পেলেন। প্রথমে শান মাসুদ, পরের ওভারে বাবর আজমকে ফেরালেন তিনি। ১১ রান করে সাদমান ইসলামের ক্যাচ হন সাবেক অধিনায়ক। পরের বলেই বাংলাদেশি পেসার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে প্যাভিলিয়নে পাঠাতে পারতেন। কিন্তু সাদমান ক্যাচ মিস করেন। শূন্যতে জীবন পান পাকিস্তানি ব্যাটার।
তাসকিন আহমেদের বদলে নাহিদ রানার হাতে বল তুলে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত। অধিনায়কের কৌশল কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি পেসার নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নিয়েছেন। তৃতীয় বলে পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদকে ২৮ রানে লিটন দাসের ক্যাচ বানান নাহিদ।
১৬তম ওভারে বাবর আজমের বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউর আবেদনে আম্পায়ারের নারাজিতে রিভিউ নিয়ে তা হারালো বাংলাদেশ। আল্ট্রা এজে দেখা গেছে, মেহেদী হাসান মিরাজের বলটি লেগ স্টাম্প মিস করেছে।
সাইম আইয়ুব ও শান মাসুদের জুটি বড় হওয়ার আগেই ভেঙে দিলেন তাসকিন আহমেদ। সাইমকে ২০ রানে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ বানান এই পেসার। ১৩তম ওভারের চার বল শেষে ৪৭ রানে ৩ উইকেট হারালো পাকিস্তান। মিড অফে শান্ত দুর্দান্ত ক্যাচে উইকেটটি তুলে নেন। ৩৮ রানে ভেঙে গেছে এই জুটি।
১২ রানে পেছনে থেকে তৃতীয় দিন শেষ মুহূর্তে অলআউট হয় বাংলাদেশ। তারপর হাসান মাহমুদ টানা দুই ওভারে দুটি উইকেট তুলে নেন। পাকিস্তান নতুন দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেছে। ২ উইকেটে ৯ রানে তারা খেলা শুরু করেছে। আগের দিনের ৬ রানে অপরাজিত ব্যাটার সাইম আইয়ুবের সঙ্গে মাঠে নেমেছেন শান মাসুদ।
হাসান মাহমুদ দ্বিতীয় ইনিংসে তার প্রথম দুই ওভারে তুলে নিলেন পাকিস্তানের দুটি উইকেট। অল্পের জন্য লিড না পাওয়ার দুঃখ ভুলিয়ে দিলেন বাংলাদেশের পেসার। ৭ রানে আব্দুল্লাহ শফিককে ফিরিয়ে ওপেনিং জুটি ভাঙার পর নাইটওয়াচম্যান খুররাম শাহজাদকে রাত পার করতে দেননি। তাকে শূন্যতে বোল্ড করেন হাসান। ৯ রানে ২ উইকেট হারায় পাকিস্তান। ওখানেই শেষ হয় তৃতীয় দিনের খেলা। ৩.৪ ওভার খেলে পাকিস্তান ১২ রানের পাওয়া লিড বাড়িয়ে নিয়েছে ২১-এ।
স্কোর: পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ৮৬.১ ওভারে ২৭৪/১০ (মীর হামজা ০*, আগা সালমান ৫৪, আবরার ৯, আলী ২, খুররাম শাহজাদ ১২, বাবর আজম ৩১, মোহাম্মদ রিজওয়ান ২৯, আব্দুল্লাহ ০, শান মাসুদ ৫৭, সাইম আইয়ুব ৫৮, সৌদ শাকিল ১৬)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৭৮.৪ ওভারে ২৬২/১০ (হাসান ১৩*; নাহিদ ০, লিটন ১৩৮, জাকির ১, সাদমান ১০, শান্ত ৪, মুমিনুল ১, মুশফিক ৩, সাকিব ২, মিরাজ ৭৮, তাসকিন ১)
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৬.৪ ওভারে ১৭২/১০ (সালমান ৪১*, হামজা ৪*; আবরার ২, আলী ০, রিজওয়ান ৪৩, বাবর ১১, মাসুদ ২৮, সাইম ২০, খুররাম ০, শফিক ৩)
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ ওভারে ৪২/০ (জাকির ৩১*, সাদমান ৯*)