ব্রিটেনে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন, বিপাকে দক্ষিণ এশিয়ার অধিবাসীরা

ব্রিটেনে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন, বিপাকে দেশটিতে বসবাসরত ব্রিটিশ বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ার অধিবাসীরা। অব্যাহত মুদ্রাস্ফীতি, পাউন্ডের দরপতন, ব্যাংকের অব্যাহত সুদের হার বৃদ্ধিতে বিপর্যয়ের মুখে এখন জনজীবন। অর্থনীতির ভগ্নদশায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর কমানোসহ নতুন কিছু সরকারি সুবিধার ঘোষণা দিলেও ভোগ্যপণ্যের বাজারে তা কোনও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেনি।
ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়ামের (বিআরসি) সমীক্ষা অনুসারে, ব্রিটেনে খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছে। তাজা খাবারের দাম বেড়েছে ১২ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি আগস্টের ১০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা স্মরণকালের সর্বোচ্চ।বিআরসির সিইও হেলেন ডিকিনসন ওবিরই বলেছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে ভোজ্যতেল থেকে পশুখাদ্যসহ সবকিছুর দাম এ মাসে আরেক দফায় বেড়েছে।
করোনা মহামারিতে দীর্ঘদিন ভোগার পর বিশ্ব যখন ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে, ঠিক সেসময় ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ সারা বিশ্বেই অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছে। আর এর প্রভাবে যুক্তরাজ্যেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বাজারের চিত্র পাল্টে দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, রাশিয়া তার শত্রু দেশগুলোতে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে খাবারের সংকট সৃষ্টি করেছে।
ব্রিটেনের নিত্যপণ্যের বাজারের অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ করে টেলিভিশন নাটকে একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা স্বাধীন খসরু বলেন, বাজারের নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ে দেশের মানুষ নাভিশ্বাসের কথা বলেন, এখানে তো (লন্ডন) মানুষ আরও মহাদুর্ভোগে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেলের বিল আর বাজার খরচ মিলিয়ে এখন ছোটখাটো ব্যবসা বা চাকরি করে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ দুর্বিষহ ব্যাপার। বাচ্চাদের স্কুলের ইউনিফর্ম থেকে শুরু করে খাবার, সব ধরনের ফি বাড়ছে। কিন্তু মানুষের আয় বাড়ছে না। শৈশব থেকেই ব্রিটেনে বসবাস করা স্বাধীন খসরু জানান, এমন পরিস্থিতি তিনি ব্রিটেনে আর কখনও দেখেননি।
বিলেতে বাঙালিদের কাছে পরিচিতমুখ কণ্ঠশিল্পী মাহবুবুর রহমান শিবলু বলেন, এখানকার এশিয়ান বা বাঙালি শপগুলোতে গেলে দ্রব্যমূল্যের বাজারের বেসামাল পরিস্থিতি বোঝা যায়। পণ্যের দাম একেক দোকানে একেক রকম। টেসকো, আজদা বা সেইন্সবারির মতো বড় চেইনশপগুলোতেও পণ্যের দাম বেড়েছে। যদিও অন্যান্য দোকানের তুলনায় তা সহনীয়।
লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক ফখরুল ইসলাম খসরু বলেন, ব্রেক্সিটের ধাক্কা ব্রিটেন এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তারপর করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি, ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের ক্রমাগত দরপতন পণ্যমূল্যের বাজারে সংকট সৃষ্টি করেছে। মাসে পাঁচ ছয় জনের একটি পরিবারে খরচ কমপক্ষে দুইশ পাউন্ড বেড়ে গেছে।