বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে দিল্লিতে যা জানালেন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ‘যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বিশ্ব’ দৃঢ়ভাবে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানকেই সমর্থন করছে বলে মন্তব্য করলেন দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান। তবে সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বহু কষ্টার্জিত গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব একান্তভাবে সে দেশের মানুষেরই, অন্য কারও নয়।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) সাউথ এশিয়ায় গতকাল শুক্রবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় হাইকমিশনার মুস্তাফিজুর রহমান এই মন্তব্য করেন।
সভায় রাষ্ট্রদূত ‘বাংলাদেশ-ভারত বর্তমান সম্পর্ক’ নিয়ে বক্তৃতা দেন। এরপর প্রশ্নোত্তর পর্বে দিল্লির সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন। যথারীতি সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন এসেছিল বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে। একপর্যায়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করা হবে জানতাম, কিন্তু এত এত প্রশ্ন আসবে ভাবতেই পারিনি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি ঘোষণা এবং ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের আলোচনায় বাংলাদেশ প্রসঙ্গের অবতারণা সীমান্তের এপারেও বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে তুমুল আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। এই পটভূমিতে রাষ্ট্রদূত মুস্তাফিজুর রহমানের মন্তব্যও আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।
এই নীতি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, একটু ভিন্নভাবে আমি এই প্রশ্নটার জবাব দেবো। মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেটের ওই ঘোষণা সম্পর্কে সরকার অবশ্যই অবহিত। বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনের জন্য এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমুন্নত রাখার জন্য সরকারের যে দ্ব্যর্থহীন অঙ্গীকার, আমরা কিন্তু ওই ঘোষণাকে সেই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেই দেখতে চাই। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও একাধিক সভায় প্রকাশ্যেই সে কথা উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ, রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল দেশ। স্থানীয় ও জাতীয় স্তরে একের পর এক নির্বাচন আয়োজন করার বিপুল অভিজ্ঞতা আছে আমাদের। আবারও বলছি, আর এই যে বহু কষ্টার্জিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের সুফলকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব বাংলাদেশের মানুষেরই। যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বিশ্ব যে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রশ্নে দৃঢ়ভাবে বাংলাদেশ সরকারের পাশে আছে, আমরা সেটাকে সম্মান করি ও স্বীকৃতি দিই। বাংলাদেশ সরকার একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং আমরা তাতে আন্তর্জাতিক বিশ্বের সমর্থনের প্রত্যাশী।
রাষ্ট্রদূত বলেন, দেখুন, যেকোনও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন দেশের মতোই বাংলাদেশও তার সার্বভৌমত্বের মূল্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশও চায় জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের গতিপথ নির্ধারণ করার বা দেশের মানুষের কীসে ভালো হবে তা স্থির করার পূর্ণ স্বাধীনতা তার হাতেই থাকুক। তিনি বলেন, তবে আমরা এটাও চাইবো আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এবং উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে সর্বতোভাবে সমর্থন করুক। ভারত আমাদের অন্যতম মিত্র দেশ, তাদের কাছ থেকেও একই প্রত্যাশা থাকবে। একজন কূটনীতিক হিসেবে আমি এটুকুই শুধু বলতে পারি।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা কি বাংলাদেশে গিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সাহায্য করতে পারেন, এমন প্রশ্নে মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটা অবশ্যই একটা ইন্টারেস্টিং প্রস্তাব, ভেবে দেখা যেতেই পারে। তবে আমি এটাও বলবো জিনিসটা আসলে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের ওপরেই নির্ভর করে যে তারা ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’ (সামর্থ্য নির্মাণ) বা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য ভারত বা অন্য কোনও দেশের কাছ থেকে কীভাবে বা কতটুকু সাহায্য নেবেন।
জামায়াতে ইসলামী কি আগামী নির্বাচনে লড়ার সুযোগ পেতে পারে- এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, দেখুন জামায়াত যে সম্প্রতি একটি জনসভা বা সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি পেয়েছে। সেটা ঠিক কোন ‘কনটেক্সটে’ (পটভূমিতে) পেয়েছে, তা সবাই জানেন। এর থেকে বেশি কোনও অর্থ করা উচিত হবে না।
বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো আগামী নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানিয়ে আসছে- এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূত মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ কথা ঠিক যে বিরোধী দলগুলো দীর্ঘকাল ধরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আমাদের সুপ্রিম কোর্ট একটি রায় দিয়েছেন এবং বাংলাদেশ সরকার শীর্ষ আদালতের সেই রায়ের বাস্তবায়ন করতে চাইছে। এই পর্যায়ে এটুকুই আমি বলতে পারি, এর চেয়ে বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে হ্যাঁ, দাবিটা আছে অনেক দিন ধরেই।