৪৪৭ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা পাকিস্তানের

পাকিস্তান দ্বিতীয় দিন তৃতীয় সেশনের মাঝামাঝি সময়ে ৪৪৭ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল। ৬ উইকেটে ৪৪৭ রান করে তারা। স্বাগতিকদের লক্ষ্য ছিল শেষ বিকালে বাংলাদেশের কিছু উইকেট নিয়ে তাদের ওপর চাপ বাড়ানোর। কিন্তু সাদমান ইসলাম ও জাকির হাসান ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। কোনও উইকেট না হারিয়ে পাকিস্তানের প্রত্যাশা মাটি করে দিয়েছে বাংলাদেশ। নির্বিঘ্নে তারা দুজনে ক্রিজে থেকে দিনের খেলা শেষ করেছেন। ১২ ওভারে ২৭ রান করেছে বাংলাদেশ। ১২ রানে সাদমান ও জাকির ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন। ৪২১ রানে পিছিয়ে সফরকারীরা।
আগের দিন সাইম আইয়ুবকে নিয়ে সৌদ শাকিল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। দ্বিতীয় দিন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও তিনি মিলে গড়ে তুললেন রানের পাহাড়। তাদের ২৪০ রানের জুটিতে পাকিস্তান পুরোপুরি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার আরও দুটি উইকেট হারালেও ৪৪৭ রানের বড় সংগ্রহের পর প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা।
তৃতীয় সেশনে ১৫ ওভার খেলা হয়েছে। রিজওয়ানের ব্যাটে ডাবল সেঞ্চুরির আশা করছিলেন সমর্থকরা। কিন্তু হুট করে শান মাসুদ কোচ গিলেস্পির সঙ্গে কথা বলে ইনিংস ঘোষণা করে দেন। রিজওয়ান অপরাজিত ছিলেন ১৭১ রানে, ২৪৯ বলের ইনিংসে ছিল ১১ চার ও ৩ ছয়। অন্য প্রান্তে ২৮ রানে খেলছিলেন শাহীন শাহ আফ্রিদি।
বাংলাদেশের বোলাররা ছিলেন বিবর্ণ। সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ। দ্বিতীয় দিন দুটি উইকেট ভাগাভাগি করেছেন সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। নাহিদ রানা সর্বোচ্চ ১০৫ রান দেন ১৯ ওভার বল করে। সাকিবও রান খরচে তিন অঙ্কের ডিজিট ছুঁয়েছেন, ১০০ রান দিয়েছেন তিনি।
পঞ্চম উইকেটের বড় জুটি ভাঙলেও প্রান্ত আগলে রয়েছেন রিজওয়ান। নতুন নামা আগা সালমানকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টায় ছিলেন। যদিও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তাদের প্রতিরোধ। ৩৯৮ রানে সাকিব আল হাসানের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন সালমান আলী। ফিরেছেন ১৯ রানে। ষষ্ঠ উইকেট পড়লেও চারশ রান ঠিকই পার হয়েছে স্বাগতিকদের। রিজওয়ান দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন। যার স্কোর দেড়শ ছাড়িয়েছে।
প্রথম সেশনে বাংলাদেশের জন্য ছিল না কোনও প্রাপ্তি। কর্তৃত্ব করেছেন রিজওয়ান-শাকিল। দ্বিতীয় সেশনেও অব্যাহত ছিল তাদের দাপট। সেশনের শেষ দিকে এসে ২৪০ রানের সেই বড় জুটি ভেঙেছে বাংলাদেশ। মিরাজের বলে স্টাম্পড হয়েছেন সেঞ্চুরিয়ান সৌদ শাকিল (১৪১)। এই সেশনে সফরকারীদের প্রাপ্তি এই একটিই। বাংলাদেশ বড় জুটি ভেঙে স্বস্তি ফেরালেও স্বাগতিক পাকিস্তান বড় স্কোরের পথে ছুটছে। প্রান্ত আগলে আছেন আরেক সেঞ্চুরিয়ান রিজওয়ান। চায়ের বিরতিতে যাওয়ার তিনি ব্যাট করছিলেন ১৩৪ রানে। সঙ্গে রয়েছেন সালমান আলী। এই সেশনে হয়েছে ২৮ ওভার। যোগ হয়েছে ১১১ রান। বাংলাদেশ শুধু একটি উইকেটই নিতে পেরেছে।
সকালের সেশন থেকে চলছিল রিজওয়ান-শাকিলের পঞ্চম উইকেট জুটির আধিপত্য। ৯৫তম ওভারে এসে শাকিলের আউটে ২৪০ রানের বড় জুটি ভেঙেছে লিটন দাসের দারুণ কিপিং দক্ষতায়। মেহেদী মিরাজের দারুণ ডেলিভারির অবদানও কম নয়। যে কারণে কিছুটা এগিয়ে খেলতে আসায় ভারসাম্য রাখতে পারেননি পাকিস্তানি ব্যাটার। ব্যাটেও লাগাতে পারেননি বল। তখন শাকিলের পা ছিল লাইনের ওপর। সুযোগ বুঝে স্টাম্প ভেঙে দেন লিটন। তাতে ১৪১ রানে থামতে হয়েছে পাকিস্তানি ব্যাটারকে।
গতকাল শেষভাগে জুটি গড়েই প্রথম শেষ করেছিলেন শাকিল-রিজওয়ান। তার পর তো দ্বিতীয় দিনের সকাল থেকেই ছড়ি ঘোড়াতে থাকেন তারা। এই জুটিই পাকিস্তানকে প্রথম ইনিংসে স্কোর তিনশ ছাড়াতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। গড়ে দিয়েছে বড় স্কোরের ভিত।
পঞ্চম উইকেট জুটি বাংলাদেশের ওপর কর্তৃত্ব অব্যাহত রেখেছে। দ্বিতীয় সেশনে ফিরেই সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন শাকিল-রিজওয়ান। রিজওয়ানের সেঞ্চুরির পর শাকিলও ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। তাদের জুটিতে বড় স্কোরের দিকে ছুটছে স্বাগতিক দল।
লাঞ্চ বিরতির পরই মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে স্কুপ করেছিলেন রিজওয়ান। লেগসাইডে বল গ্লাভসেও নিয়েছিলেন লিটন। কিন্তু দুর্ভাগ্য সেটা বেশিক্ষণ রাখতে পারেননি। তখন ৮৯ রানে ব্যাট করছিলেন পাকিস্তানের উইকেটকিপার ব্যাটার। সেই রিজওয়ানই তার পর তুলে নেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি।
বাংলাদেশ যে লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করেছিল সেটা সফল হতে দেয়নি পাকিস্তান। প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে পুরোপুরি কর্তৃত্ব করেছেন দুই ব্যাটার সৌদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। গতকালের এই অবিচ্ছিন্ন জুটি আজ সকাল থেকেই প্রতিরোধের দেওয়ালটা আরও বড় করেছেন। হতাশা বাড়িয়েছেন বাংলাদেশের। রিজওয়ান তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের দশম ফিফটি। এখন তো শাকিল-রিজওয়ান দুজনেই শতরানের পেছনে ছুটছেন। তাদের ব্যাটে ভর করে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন ৪ উইকেটে ২৫৬ রান নিয়ে শেষ করেছে স্বাগতিকরা।
এই সেশনে বাংলাদেশের বোলাররা কোনও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি। নিতে পারেনি কোনও উইকেট। তাতে ২৯ ওভারে কোনও উইকেট না হারিয়েই ৯৮ রান যোগ করেছেন শাকিল-রিজওয়ান। এই জুটিতে যোগ হয়েছে ১৪২ রান।
গত কালের ৪৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি নিয়ে খেলা শুরু করেছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌদ শাকিল। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনের শুরুতে নিজেদের লক্ষ্যে অবিচল আছেন দুজন। শতরান ছাড়ানো জুটিতে প্রতিরোধ গড়েছেন তারা। তাতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে সফরকারী বাংলাদেশ। এদিন ক্যারিয়ারের দশম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন রিজওয়ান।
রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথম টেস্টের প্রথম দিন আগুন ছড়িয়েছেন শরিফুল-হাসনারা। ১৬ রানে নেন ৩ উইকেট। তার পর অবশ্য চতুর্থ উইকেটে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে দলকে সুবিধাজনক জায়গায় নিয়ে যান সাইম আইয়ুব ও সৌদ শাকিল। চতুর্থ উইকেটে ৯৮ রান যোগ করেন তারা। শেষ সেশনের পানি পানের বিরতির পর হাসানের আঘাতে ভাঙে দারুণ এই জুটি। সাইম ৯৮ বলে ৫৬ রানে মেহেদী হাসান মিরাজকে ক্যাচ দেন।
যদিও ব্রেকথ্রু বাংলাদেশের কাজে আসেনি। বরং নতুন ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান সাবলীল ব্যাটিং করেন। অন্যদিকে শাকিল ৮৪ বলে দেখা পান হাফ সেঞ্চুরির। বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিন পাকিস্তানকে নাগালে রাখার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে। ৪৪ রানের জুটি নিয়ে এখনও অবিচ্ছিন্ন শাকিল-রিজওয়ান।
গতকাল ৯২ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত ছিলেন শাকিল, আর রিজওয়ান ৩১ বলে ২৪ রানে অপরাজিত।
প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান ১১৩ ওভারে ৪৪৭/৬ ডিক্লে. (শাহীন ২৮*, মোহাম্মদ রিজওয়ান ১৭১*, আগা সালমান ১৯, সৌদ শাকিল ১৪১, সাইম আইয়ুব ৫৬; শফিক ২, শান মাসুদ ৬, বাবর ০) প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ১২ ওভারে ২৭/০ (সাদমান ১২*, জাকির ১১*)