নিষেধাজ্ঞা শেষে বাজারে ইলিশ

ইলিশ আহরণ, পরিবহন এবং কেনাবেচার ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সোমবার (২৫ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে নদী ও সাগরে ইলিশ শিকারে নেমেছেন জেলেরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের মাছের আড়তগুলোতে ইলিশের দেখা মিলছে। তবে তুলনামুলক খুব কম ইলিশের দেখা মিলেছে। সময়ের সঙ্গে বাজারে ইলিশের আমদানি বাড়বে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীসহ মৎস কর্মকর্তারা।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে বরিশালের বেসরকারি মৎস অবতরণ কেন্দ্র পোর্টরোড মোকামের ঘাটে ট্রলার, নৌকা ও স্পিড বোটে করে মাছ নিয়ে আসেন জেলে ও ব্যবসায়ীরা। নৌযান থেকে আড়তদারদের গদির সামনে সেই মাছ নিতে শ্রমিকদের ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যায়। সেইসঙ্গে খুচরা ও পাইকারি ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। আবার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় ঝিমিয়ে থাকা এ পাইকারি বাজারে ইলিশ আসায় বেচা-বিক্রিতেও অনেকটাই চাঞ্চল্যতা লক্ষ্য করা গেছে।
নিষেধাজ্ঞার পর প্রথম দিনে ইলিশের দাম নিয়ে কেউ সন্তোষ প্রকাশ করলেও বেশিরভাগ ক্রেতাই জানিয়েছেন ঊর্ধ্বমুখী দরের কথা। সেইসঙ্গে পুরাতন মাছের আমদানি হয়েছে বলেও দাবি তাদের। বাজারে মঙ্গলবার স্থানীয় নদীর মাছের কথা বেশি বলছেন বিক্রেতারা। তবে কিছু কিছু মাছ এতোটাই লাল হয়েছে যে সেগুলো ধরলেই নরম মনে হচ্ছে। অর্থাৎ এগুলো আরও আগে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ধরা হয়েছে।
যদিও এরকম কিছু করার সুযোগ পোর্টরোডের ব্যবসায়ীদের নেই বলে দাবি করে পাইকাররা বলছেন, ফিসিং বোটগুলো সোমবার গভীর রাতে ও মঙ্গলবার সকালে সাগরের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে ২-১ দিনের মধ্যে সাগরের ইলিশ আসা শুরু করবে। আর তখন বাজারে ইলিশের কাঙ্ক্ষিত আমদানি হলে দরও কমে যাবে।
সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত স্থানীয় নদীতে শিকার করা ইলিশ মাছগুলো নিয়ে যারা বাজারে এসেছেন তাদের মতে, প্রথমদিনে স্বল্প সময়ে ইলিশের যে আমদানি বাজারে হয়েছে, তাতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইলিশের আমদানি বাড়বে। ব্যবসায়ীরা বলেন, নিষেধাজ্ঞায় প্রশাসনের কঠোরতার কারণে কেউ নদীতে নামেনি। তাই বাজারে যে মাছ এসেছে তা গেল রাতের ধরা। মঙ্গলবার বাজারে ইলশের দর তেমন একটা বেশি ছিল না, আর এতো অল্প সময়ে যে পরিমাণ মাছ পাওয়া গেছে তাও সন্তোষজনক। আশাকরি সামনে আরও ইলিশের আমদানি বাড়বে। কীর্তনখোলা, আড়িয়াল খাঁ, কীর্তনখোলা, তেতুলিয়া ও কালাবদর নদীতে শিকারে নামা জেলেরা বলছেন, কয়েকদিন পরেই শীতের শুরু। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষে যে মাছ ধরা পড়ছে তাতে পুরোদমে শীত নামার আগেই বেশ মাছ ধরা পড়বে।
এদিকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আসা পাইকারদেরও উপস্থিতি ছিল বরিশালের পাইকারি বাজারগুলোতে। তাদের ও আড়তদারদের কেনা ইলিশ ককশিটে বরফ দিয়ে সকাল থেকেই প্যাকেটজাত করতে ব্যস্ত ছিলেন শ্রমিকরা।
পোর্টরোডের আজকের বাজারে গোটলা থেকে এলসি পর্যন্ত আকার ভেদে ইলিশের দর ছিল কেজিপ্রতি ৫’শ থেকে ৯’শ টাকা। আর কেজির ওপরে ইলিশের দর ছিল ৯’শ থেকে ১১’শ টাকা।