দুর্বোধ্য পিচে সতর্ক ব্যাটিংয়ে জিতলো দক্ষিণ আফ্রিকা

নিউ ইয়র্কে বিশ্বকাপের আগে ওয়ার্ম আপ ম্যাচের সঙ্গে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পিচের আচরণ মেলানোই গেলো না। কদিন আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৮২ রান করেছিল ভারত। ঘাম ঝরানোর ওই ম্যাচের দিকে তাকিয়েই হয়তো শ্রীলঙ্কা তাদের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং নিতে দ্বিতীয়বার ভাবেনি। অথচ ভুলটা করে বসলো ওই সিদ্ধান্ত নিয়েই, ৭৭ রানে অলআউট হলো তারা। এই রান তাড়া করতে গিয়ে অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকারও ঘাম ঝরলো। ম্যাচটি তারা ৬ উইকেটে জিতে নিলো ১৭তম ওভারে গিয়ে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘ডি’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে তারা হাসলো শেষ হাসি।
ছোট লক্ষ্যে নেমে মারকুটে ব্যাটিংয়ে জিততে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় ওভারে মাত্র ১০ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। রিজা হেনড্রিকস (৪) বিদায় নেন নুয়ান থুশারার বলে।
পঞ্চম ওভারে আঘাত করেন দাসুন শানাকা। অধিনায়ক এইডেন মারক্রাম ১২ রান করে কামিন্দু মেন্ডিসের ক্যাচ হন। পরের বলে ট্রিস্টান স্টাবসের বিরুদ্ধে কট বিহাইন্ডের আবেদন করে শ্রীলঙ্কা। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিপরীতে গিয়ে রিভিউ নিয়ে হতাশ হয় তারা। একই ওভারের শেষ বলে কুশল মেন্ডিসের হাত ফসকে জীবন পান স্টাবস। এই ব্যাটার পাওয়ার প্লের শেষ বলে রানের খাতা খোলেন নিজের সপ্তম বল খেলে। ৬ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ছিল ২ উইকেটে ২৭ রান। একই সময়ে শ্রীলঙ্কা তাদের চেয়ে তিন রান কম করেছিল।
কুইন্টন ডি কক ও স্টাবস সতর্ক ব্যাটিংয়ে এগোতে থাকেন। ১০ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার (৪০) চেয়ে তারা খুব বেশি এগিয়ে ছিল না, সংগ্রহ ২ উইকেটে ৪৭ রান।
এরপর হাসারাঙ্গা টানা দুই ওভারে দুই সেট ব্যাটারকে ফিরিয়ে মিরাকলের ক্ষীণ আশা জাগান। ডি কক ২৭ বলে ১ ছয়ে করেন ২০ রান। স্টাবস ১৩ রান করেন ২৮ বল খেলে।
তারপর ডেভিড মিলার ও হেনরিখ ক্লাসেনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১৬.২ ওভারে জিতে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪ উইকেটে তারা করে ৮০ রান। ক্লাসেন ২২ বলে ১৯ রানে আর মিলার ৬ বলে ৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।
তার আগে আনরিখ নর্কিয়ের আগুন বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ে। ৪ ওভারে ৭ রান দিয়ে চার উইকেট নেন তিনি। শ্রীলঙ্কার পক্ষে মাত্র তিন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে রান করেন। কেশভ মহারাজ ও কাগিসো রাবাদা দুটি করে উইকেট নেন। মাত্র ৭৭ রানে অলআউট হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন সংগ্রহের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়ে লঙ্কানরা।