তিস্তার পানি বিপদসীমার ৫২ সেমি ওপরে, পানিবন্দি ২০ হাজার মানুষ

অবিরাম বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে অব্যাহতভাবে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি শুক্রবার (২১ জুন) সকাল ৬টায় বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৯টায় আরও ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি বৃদ্ধির ফলে নদীর তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের কমপক্ষে ১০টি গ্রামে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করেছে। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের ১১টি গ্রাম তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে শত শত হেক্টর জমিতে থাকা বাদাম ও মরিচের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এলাকাগুলো হলো বালাপাড়া ও টেপামধুপুর ইউনিয়নের হরিচরণ শর্মা, আজমখাঁ, হযরত খাঁ, বিশ্বনাথের চর, চরগনাই, ঢুষমারা, চর রাজিব, গোপিঙ্গা, গদাই, পাঞ্জরভাঙ্গা, তালুক শাহবাজপুর। প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করায় হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।
টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিস্তা নদীর পানি এবার কাউনিয়া উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি মুহূর্তেই পানি বাড়ছে। ফলে তিস্তা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল ও চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে প্রবল বেগে পানি ঢুকে বাড়িঘর প্লাবিত হচ্ছে। এরইমধ্যে অর্ধশতাধিক ছাগল, ভেড়া প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে। সেই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে পানিবন্দি মানুষ অভিযোগ করেছেন, দুদিন ধরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও ত্রাণ দেওয়া হয়নি। ফলে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিদুল হক জানিয়েছেন, পানিবন্দি মানুষদের সহায়তার জন্য সব ধরনের সামগ্রী আছে। আমরা দ্রুতই তাদের মাঝে শুকনো খাবারসহ অন্য খাদ্যসামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা নিচ্ছি।