ডিপজলকে ‘অশিক্ষিত’ ও ‘আনকালচার’ বললেন নিপুণ?

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৪-২৬ মেয়াদের নির্বাচনের ফল বাতিল চেয়ে নতুন নির্বাচনের দাবি করেছেন চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তার। নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে লড়েছিলেন তিনি। আর তার বিপরীতে ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল।
নির্বাচনে ১৬ ভোট কম পেয়ে হেরে যান নিপুণ। নির্বাচনেরজ জয়ী প্রার্থীদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন নিপুণ। এমনকি ডিপজলের প্রশংসায় মেতে ওঠে এই নায়িকা বলেছিলেন, ‘ডিপজল ভাইয়ের বিপক্ষে মাত্র ১৬ ভোটের ব্যবধানে হারবো, এমনটা কল্পনাও করিনি। আমি ভেবেছিলাম ডিপজল সাহেবের সঙ্গে আমি যখন দাঁড়াবো, খুব বেশি হলে ৫০টা ভোট পাবো।’ এবার সেই ডিপজলকে ‘অশিক্ষিত’ ও ‘আনকালচার’ বললেন নিপুণ! কিন্তু কেনো এমনটা বললেন নিপুণ?
ভোটে বিজয়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তবে এখন কেনো রিট করলেন- এ বিষয়ে নিপুণ গণমাধ্যমকে বলেন, যেহেতু আমি ভোটের ফলাফল পর্যন্ত ছিলাম। ওই সময় সেটি করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। তা ছাড়া মিশা-ডিপজল প্যানেলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন, আপিল বোর্ডের যোগসাজশে ভেতরে-ভেতরে এত বড় অনিয়ম চলে আসছিল, সেটি ফলাফল প্রকাশের অনেক সময় পর স্পষ্ট হয়েছে।
ডিপজলকে ‘অশিক্ষিত’ বলে মন্তব্য করে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘স্যরি টু সে, আমাকে বলতে হচ্ছে- শিল্পী সমিতিতে এমন একজন সেক্রেটারি পদে এসেছেন যার কোনো শিক্ষা নেই। এটা ২০২৪ সাল। আমরা ২০২৪ সালে দাঁড়িয়ে আছি। এটা অশিক্ষিত লোকদের জায়গা না, এটা আনকালচারদের জায়গা না। এটা কাজ করে দেখিয়ে দেওয়া লোকদের জায়গা। শুধু কাজ করলেই হবে না। জ্ঞান থাকতে হবে, শিক্ষিত হতে হবে। আমি একজন গ্রাজুয়েট। আমার তিন প্রজন্ম গ্রাজুয়েট।
নিপুণের দাবি, আমাকে আজকে এমনটা বলতে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা তাদেরকে সম্মান দিয়েছিলাম। কিন্তু দেখলাম তারা সেই সম্মান রাখেনি। সম্মান রাখার যোগ্য তারা নয়। তাদেরকে এখন আইনগতভাবেই মোকাবিলা করা হবে। এর আগে, নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে বুধবার (১৫ মে) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চে আইনজীবীর মাধ্যমে একটি রিট আবেদন দায়ের করেছেন নিপুণ।
গত ১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৪-২০২৬ মেয়াদের নির্বাচন। এতে সভাপতি পদে মিশা ২৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মাহমুদ কলি ১৭০ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। আর সাধারণ সম্পাদক পদে ডিপজল পেয়েছেন ২২৫ ভোট এবং নিপুণ পেয়েছেন ২০৯ ভোট।