টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ‘ফাইফার’ হাসানের

চলতি বছর মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চার উইকেট নিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ। এক ম্যাচের ব্যবধানে নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে গেলেন তরুণ এই ফাস্ট বোলার। রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের ব্যাটারদের নিয়ে ছেলেখেলায় মেতে উঠেছিলেন হাসান। আর তাতেই টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেটের স্বাদ পেয়ে গেলেন বাংলাদেশের পেসার।
তৃতীয় দিন শেষ বিকেলে হাসান শুরুতেই পাকিস্তানের দুই ব্যাটারকে ফিরিয়ে ম্যাচটা বাংলাদেশের পক্ষে নিয়ে আসেন। আজ বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হলেও এক ওভারে পর পর দুই উইকেট তুলে নিয়ে প্রথম ফাইফারের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলেন। একটা সময় ৫ উইকেট নিশ্চিত নিয়ে লড়াই ছিল নাহিদ রানার সঙ্গে। অবশেষে সফল হয়েছেন হাসান। শেষ উইকেটে হাসানের বলে মিরাজের ক্যাচ হয়েছেন মীর হামজা। আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ চায় পাকিস্তান। কিছুটা সময় নিয়ে থার্ড আম্পায়ার আউট ঘোষণা করলে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেটের উৎসবে মাতেন তিনি।
রবিবার শেষ বিকেলে দুই উইকেট নেওয়া হাসান আজ টানা দুই বলে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও মোহাম্মদ আলীকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন। যদিও সেটি রুখে দেন সালমান আগা। আগের দিন ওপেনার আব্দুল্লাহ শফিক (৩) ও নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা খুররাম শাহজাদকে (০) ফিরিয়ে দারুণ শুরু এনে দেন হাসান। সোমবার সাফল্য পেতে খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি হাসানকে। নিজের ৬ষ্ঠ ওভারে উইকেটে জমে যাওয়া রিজওয়ানকে ফিরিয়ে ৫৫ রানের জুটি ভাঙেন তিনি। পরের বলে তুলে নেন আলীকে।
এদিকে আগেই তিন উইকেট নেওয়া নাহিদ আবরার আহমেদকে ফিরিয়ে নিজের চতুর্থ শিকার তুলে নেন। এরপর নাহিদ ও হাসানের মধ্যে আরও ৫ ওভার লড়াই হয়। এই লড়াইয়ে জেতেন হাসান। পাকিস্তানের শেষ ব্যাটার হামজাকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট তুলে নেন তিনি। আর তাতেই মেহেদী হাসান মিরাজের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে পিন্ডির অর্নাসবোর্ডে নিজের নাম লিখে ফেললেন।
পাকিস্তনের ১০ উইকেটের মধ্যে দশটিই নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। হাসান পাঁচটি, নাহিদ চারটি এবং তাসকিন আহমেদ নেন একটি উইকেট। বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে স্বাগতিকেরা ৪৬.৪ ওভার ব্যাট করে তুলেছে ১৭২ রান। প্রথম ইনিংসে ১২ রানে এগিয়ে থাকায় পাকিস্তানের লিড দাঁড়িয়েছে ১৮৪ রানের। জিততে বাংলাদেশকে করতে হবে ১৮৫ রান।