কিশোর নাহেল হত্যার প্রতিবাদে রণক্ষেত্র ফ্রান্স

কোনভাবেই শান্ত হচ্ছে না ফ্রান্স। পুলিশের গুলিতে উত্তর আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ১৭ বছরের কিশোর নাহেল নিহতের প্রতিবাদে পঞ্চম দিনের বিক্ষোভে রণক্ষেত্র ফ্রান্সের মার্সেই শহর। বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তাবাহিনীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র শহরটি। গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, দোকানপাটে ভাঙুর চালায় প্রতিবাদকারীরা। সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, গত রাতে ৭১৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশের গুলিতে কিশোর নিহতের প্রতিবাদে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রশাসনের বিরুদ্ধে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দাবানালের মতো। তাদের দমাতে বিপুল নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না, বরং আরও অশান্ত হয়ে উঠছে রাজপথ। ভিডিওতে দেখা গেছে, কাঁদানে গ্যাস ছুড়ছে পুলিশ। দক্ষিণাঞ্চলের এই শহরে সহিংসতার অভিযোগে শত শত মানুষ আটক হয়েছে। প্যারিসে পুলিশের বিপুল সদস্য নামানোয় বিক্ষোভ আরও উস্কে দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংকট নিরসনে শনিবার দেশজুড়ে ৪৫ হাজার পুলিশের সদস্য মোতায়েন করা হয়।
গত মঙ্গলবার কিশোর নাহেলকে গাড়ি থামাতে সংকেত দেয় প্যারিস পুলিশ। কিশোর তা না মানলে খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। সেদিন রাত থেকেই গোটা ফ্রান্সজুড়ে শুরু হয় প্রতিবাদ বিক্ষোভ। পরিস্থিতি গত চারদিনের তুলনায় কিছুটা শান্ত হয়েছে বলে দাবি করে আইন প্রয়োগকারীদের প্রশংসা করেছেন ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সবশেষ ৭১৯ জন আটক হন। তার আগে শুক্রবার রাতে ১ হাজার ৩০০ এবং বৃহস্পতিবার ৯০০ জনের বেশি।
এদিকে ফ্রান্সকে অবশ্যই পুলিশের মধ্যে জাতিগত বৈষম্যের গভীর সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘ। গত মঙ্গলবার পুলিশের গুলিতে ১৭ বছরের কিশোর নিহত হলে, ফ্রান্সে জাতিগত বৈষম্যের বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।