সার্চ কমিটি প্রস্তাবিত: কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে নতুন নির্বাচন কমিশন

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে কাজী হাবিবুল আউয়াল নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ বেগম রাশিদা সুলতানা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবীব খান, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর ও আনিছুর রহমান। সার্চ কমিটির কাছে রাজনৈতিক দল, বিশিষ্ট ব্যক্তি, পেশাজীবী সংগঠনের প্রস্তাবিত তালিকা থেকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাদের নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগ দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য কমিশনারদের নিয়োগ দেন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও পেশাজীবী সংগঠন সার্চ কমিটির কাছে যেসব নাম প্রস্তাব করেছে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় ৩২২ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছিল। এরপর আরও ডজনখানেক নাম সার্চ কমিটির কাছে জমা পড়েছিল বলে জানা গেছে। সিইসিসহ অন্যান্য কমিশনারের নিয়োগের তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, সার্চ কমিটির কাছে যেসব নাম প্রস্তাব করা হয়েছে তাদের মধ্য থেকেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ওই তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে- প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের নাম রয়েছে ৪৯ নম্বরে। এছাড়া ৩২২ জনের তালিকার ২৬১ নম্বরে অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ বেগম রাশিদা সুলতানা, ২৩৬ নম্বরে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবিব খান, ১৫৪ নম্বরে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব আলমগীর এবং ১৪৪ নম্বরে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমানের নাম রয়েছে। প্রস্তাবিত এসব নামের বাইরের কাউকেও সিইসি বা অন্যান্য কমিশনার নিয়োগের সুপারিশ করার এখতিয়ার ছিল সার্চ কমিটির।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে ১০ জনের নাম সুপারিশ করে অনুসন্ধান কমিটি। এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের জাজেজ লাউঞ্জে সপ্তম ও শেষ বৈঠকে ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়। এবারই প্রথম আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন হলো। গত ২৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে আইন পাসের পর নির্বাচন কমিশন গঠনে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম বৈঠকের পর নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নাম চেয়েছিল অনুসন্ধান কমিটি। এরপর বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল বাদে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে তিন শতাধিক নাম জমা পড়ে। এর মধ্যে কমিটি কয়েক দফায় বিশিষ্টজনদের সঙ্গে বৈঠক করে মতামত নেন। পরে ওয়েবসাইটে ৩২২ জনের নাম প্রকাশ করা হয়।