আন্দোলনকে দৃষ্টির আড়ালে রাখতে জিয়া বিতর্ক: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধ, ’৭৫ এর পটপরিবর্তন ও তার সমাধি সম্পর্কে লাগাতার মিথ্যাচার করে চলেছেন। বিএনপি মনে করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে মিথ্যা তথ্য সংসদে উপস্থাপন করছেন প্রধানমন্ত্রী। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে দৃষ্টির আড়ালে রাখার ষড়যন্ত্র করছেন।
আজ রোববার বিকেলে গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলের মহাসচিব। তিনি শনিবার অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে রিয়াজ উদ্দিন নসু, শায়রুল কবির খান ও শামসুদ্দিন দিদার উপস্থিত ছিলেন।
ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইনের খসড়া তুলে নেওয়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে আমেরিকার নিউইয়র্কে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার নিন্দা জানান বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, সেখানে শান্তিপূর্ণ মিটিংয়ে হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই, নিন্দা জানাই। সরকার খালেদা জিয়াকে এত বেশি ভয় পায়, এজন্য তাকে বিদেশে নেওয়া বা তার মুক্তি দিতে সাহস পান না। চিকিৎসকেরা বললেও এ কারণে সরকার একমত হচ্ছে না। তার মুক্তির জন্য বিএনপি কোনও চাপ তৈরি করবে কিনা ‑ এমন প্রশ্নে বিএনপির মহাসচিব বলেন, দল যখন সিদ্ধান্ত নেবে, তখন চাপ প্রয়োগ করবো।
প্রসঙ্গত, গত ১৪, ১৫, ১৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা, মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক ও সম্পাদকমণ্ডলী এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ মতবিনিময় সভা ডাকেন।
২১-২৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির মতবিনিময়
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নেতাদের ধারাবাহিকতায় আগামী ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর মতবিনিময় সভা করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বিএনপি।
মির্জা ফখরুল জানান, শনিবার অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির সভায় এ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে রাজনৈতিক, সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আর বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেগুলো আমরা পরবর্তীতে জানিয়ে দেবো।