ইউনূস সরকারের ৩ ‘ব্যর্থতা’ তুলে ধরলেন হোসেন জিল্লুর রহমান
- আপডেট সময় : ০৫:০৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে সবচেয়ে বড় তিনটি ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেছেন ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। তার দাবি, সরকার তরুণদের সঠিক নেতৃত্ব দেওয়ার পরিবর্তে ক্ষমতার প্রতি আকৃষ্ট করেছে, আমলাতান্ত্রিক কাঠামো ভাঙতে পারেনি এবং নিজেদের ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করেনি।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাজ্যের সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী গবেষণা কনসোর্টিয়াম ‘সোয়াস অ্যান্টি–করাপশন এভিডেন্স’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে এক-এগারো ও জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে দুটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির অধ্যাপক মুশতাক খান ও অধ্যাপক পল্লবী রায়।
হোসেন জিল্লুর রহমানের ভাষ্য, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তরুণদের সামনে আদর্শভিত্তিক নেতৃত্বের বদলে ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছে। তাঁর মতে, এ কারণে তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব ও শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব কমে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের ১ বছরে ঘুস লেনদেন ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা: টিআইবি
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রসংস্কারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সরকার সেটিকে কাজে লাগাতে পারেনি। পুরোনো আমলাতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিবর্তে আগের ধাঁচের আমলাদেরই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে প্রত্যাশিত পরিবর্তনের বদলে আগের ব্যবস্থাই বহাল থাকে।
সাবেক এই উপদেষ্টার মতে, সরকার কখন সাহসী ও মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন, তা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। শুরু থেকেই তারা ঝুঁকিহীন ও রক্ষণশীল অবস্থান নিয়েছে, যা রাষ্ট্র সংস্কারের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
সংস্কার প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার ‘সংস্কার’ শব্দটি আলোচনায় এনেছিল ঠিকই, কিন্তু নিজেদের গঠিত সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়নি। তার ভাষায়, কমিশনের প্রস্তাবগুলো কার্যত ‘ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলা হয়েছে’ এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল একটি ‘রিফর্ম গেম’।
আলোচনায় তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৭ সালে রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে জরুরি অবস্থা জারির পর ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারে তিনি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে এসব মন্তব্য করেন তিনি।









