ঢাকা ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও সাফ সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন স্পেনে অভিবাসীদের ঢল, স্বেচ্ছায় মরক্কো ফিরেছেন ৪৮ হাজারের বেশি ইউনূস সরকারের ৩ ‘ব্যর্থতা’ তুলে ধরলেন হোসেন জিল্লুর রহমান শিকারি’র এক দশক: সাফল্য, বিতর্ক আর উত্থানের গল্পে শাকিব ভেনেজুয়েলার ক্ষমতা হস্তান্তরের আলোচনা শুরু হচ্ছে, থাকছেন না মাচাদো বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে যা জানালো ভারত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত রাজধানীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৪৩৩, সবচেয়ে বেশি মিরপুরে এক ডিআইজিসহ পুলিশের ৩ কর্মকর্তা বরখাস্ত রোনালদোর সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে পিকে বলেছেন, ‘মেসিই সর্বকালের সেরা’
সংবাদ শিরোনাম ::
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও সাফ সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন স্পেনে অভিবাসীদের ঢল, স্বেচ্ছায় মরক্কো ফিরেছেন ৪৮ হাজারের বেশি ইউনূস সরকারের ৩ ‘ব্যর্থতা’ তুলে ধরলেন হোসেন জিল্লুর রহমান শিকারি’র এক দশক: সাফল্য, বিতর্ক আর উত্থানের গল্পে শাকিব ভেনেজুয়েলার ক্ষমতা হস্তান্তরের আলোচনা শুরু হচ্ছে, থাকছেন না মাচাদো বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে যা জানালো ভারত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত রাজধানীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৪৩৩, সবচেয়ে বেশি মিরপুরে এক ডিআইজিসহ পুলিশের ৩ কর্মকর্তা বরখাস্ত রোনালদোর সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে পিকে বলেছেন, ‘মেসিই সর্বকালের সেরা’

বিশ্বকাপের ‘বিক্রি’ ঠেকাতে ফিফাকে বয়কটের হুমকি উয়েফার

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ১১:১৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্ব ফুটবলে নজিরবিহীন সংঘাতের আভাস দেখা দিয়েছে। বিশ্বকাপের মালিকানার অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা থেকে ফিফা সরে না এলে সংস্থাটির সব প্রতিযোগিতা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন উয়েফা। বলেছে, তাদের ৫৫ সদস্যদেশের কেউ ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে এ অবস্থান নেয় ইউরোপের সব ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তারা জানিয়েছে, ফিফার প্রস্তাব পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া এবং ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ বা ফিফার অন্য প্রতিযোগিতায় কোনো ধরনের বেসরকারি মালিকানা না দেওয়ার বাধ্যতামূলক নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত ইউরোপের কোনো জাতীয় দল ফিফার প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না।

উয়েফা জানিয়েছে, সদস্যদেশগুলো চলতি সপ্তাহেই ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অবস্থান জানাবে। এর ফলে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা এখন বড় বাধার মুখে পড়েছে।

লাল কার্ড থেকে ভিএআর— বিশ্বকাপ ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত ৮ বিতর্ক

এর আগে সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে ফিফার প্রস্তাবের আওতায় আসার জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে উয়েফার এ ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের পর প্রস্তাবটি বড় ধরনের পরিবর্তন করা কিংবা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা ছাড়া ফিফার সামনে খুব বেশি পথ থাকছে না।

চলমান পরিস্থিতিতে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ফিফার প্রস্তাবিত নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ২০ শতাংশ অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হতে পারে। নিউইয়র্কভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটারনালকে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ফিফার পক্ষ থেকে সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে প্রস্তাবের বিনিময়ে প্রথম ধাপে ২০ মিলিয়ন ডলার ও পরে আরও ২০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তবে অর্থ গ্রহণ করা মানেই প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক সমর্থন হিসেবে গণ্য হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ইনফান্তিনো অবশ্য তীব্র সমালোচনার মুখেও পরিকল্পনাটিকে বাধ্যতামূলক কোনো সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরছেন না। বুধবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, এফএফই এখনো ‘একটি প্রস্তাব, একটি অফার’। তার ভাষায়, এটি একটি গণতান্ত্রিক ও পরামর্শমূলক প্রক্রিয়ার অংশ এবং বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়নকে আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ‘সোনালি সুযোগ’, তবে এটি কোনো বাধ্যবাধকতা নয়।

বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার— ফিফার সিদ্ধান্তে চটেছে উয়েফা

উয়েফার আপত্তি অবশ্য শুধু অর্থের হিসাব নিয়ে নয়, তাদের অভিযোগ— ফিফা পুরো প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত পরামর্শ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখেনি। উয়েফা বলেছে, ফুটবলকে ব্যবহার করে ফিফা ‘নিজেদের ও নিজেদের বন্ধুদের সমৃদ্ধ’ করতে পারে না।

উয়েফা বলেছে, বিশ্বকাপ মূলতই ফুটবলের এবং সেটি সবসময় ফুটবলেরই থাকবে। কিন্তু সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ গ্রহণ বা প্রস্তামের সমর্থনের জন্য চাপ তৈরি করা হয়েছে, যা ‘গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত’ নয়, বরং চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে পরিচালনা।

এ অবস্থানে একা নয় উয়েফা। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল কনফেডারেশন কনকাকাফও জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে ফিফার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে উয়েফার মতো তারা বয়কটের ঘোষণা দেয়নি। ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের একজন হিসেবে বিবেচিত কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তাগলিয়ানি বলেন, প্রস্তাবের বিষয়ে তাদের আগে থেকে জানানো হয়নি।

সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এএফসিও একইভাবে অসন্তোষ জানিয়েছে। তারাও বলেছে, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রস্তাব প্রকাশ্যে আসার আগে কনফেডারেশন ও সদস্যদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা করা হয়নি।

ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাবস সংগঠনও একই অভিযোগ করেছে। ৮৫০টির বেশি ক্লাবের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনটির দাবি, ফিফার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক থাকা সত্ত্বেও এত বড় একটি পরিকল্পনা নিয়ে তাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি, সংবাদমাধ্যমের খবর থেকেই তারা বিষয়টি জানতে পেরেছে।

২০৩৮ বিশ্বকাপ ফুটবলও ‘আয়োজন করতে চায়’ যুক্তরাষ্ট্র

উয়েফার বয়কটের ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে প্রথম বড় ধাক্কা আসতে পারে আগামী বছরের নারী বিশ্বকাপে। এরপর বয়সভিত্তিক ফিফা টুর্নামেন্টও বর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপের প্রথম সম্ভাব্য বর্জন করা বয়সভিত্তিক আসর হতে পারে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ। একই সময়ে অক্টোবর মাসে গ্রিসের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের নারী দলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।

উয়েফা অন্যান্য কনফেডারেশনকেও তাদের অবস্থান অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। কনকাকাফ ও এএফসির অবস্থান উয়েফার সঙ্গে মিলে গেলে ২১১ সদস্যের ফিফায় প্রস্তাব আটকে দেওয়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি হতে পারে। যদিও চূড়ান্তভাবে প্রস্তাব পাস করতে কত ভোট প্রয়োজন, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। ফিফার আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে ৭৫ শতাংশ ভোট লাগতে পারে, যা ইনফান্তিনোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে। আগামী মার্চে ফিফা সভাপতি নির্বাচনে তিনি শক্ত অবস্থানে ছিলেন এবং দুই শতাধিক সদস্য অ্যাসোসিয়েশন থেকে সমর্থনের চিঠিও পেয়েছেন। কিন্তু উয়েফার এই নজিরবিহীন ঐক্য তার অবস্থানকে দুর্বল করেছে।

ইউরোপীয় ফুটবলের অভ্যন্তরে এখন আলোচনা চলছে, আগামী নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিপরীতে একজন ঐক্যবদ্ধ ইউরোপ-সমর্থিত প্রার্থী দাঁড় করানো যায় কি না।

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও ফিফার পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘বিশ্বকাপ কখনো কারও বিক্রি করার সম্পত্তি ছিল না।’ তার ভাষায়, ফুটবল সমর্থকদের, বিলিয়নেয়ার বিনিয়োগকারীদের নয়, এখন খেলাটিকে রক্ষায় অবস্থান নেওয়ার সময়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিশ্বকাপের ‘বিক্রি’ ঠেকাতে ফিফাকে বয়কটের হুমকি উয়েফার

আপডেট সময় : ১১:১৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলে নজিরবিহীন সংঘাতের আভাস দেখা দিয়েছে। বিশ্বকাপের মালিকানার অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা থেকে ফিফা সরে না এলে সংস্থাটির সব প্রতিযোগিতা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন উয়েফা। বলেছে, তাদের ৫৫ সদস্যদেশের কেউ ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে এ অবস্থান নেয় ইউরোপের সব ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তারা জানিয়েছে, ফিফার প্রস্তাব পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া এবং ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ বা ফিফার অন্য প্রতিযোগিতায় কোনো ধরনের বেসরকারি মালিকানা না দেওয়ার বাধ্যতামূলক নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত ইউরোপের কোনো জাতীয় দল ফিফার প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না।

উয়েফা জানিয়েছে, সদস্যদেশগুলো চলতি সপ্তাহেই ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অবস্থান জানাবে। এর ফলে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা এখন বড় বাধার মুখে পড়েছে।

লাল কার্ড থেকে ভিএআর— বিশ্বকাপ ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত ৮ বিতর্ক

এর আগে সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে ফিফার প্রস্তাবের আওতায় আসার জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে উয়েফার এ ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের পর প্রস্তাবটি বড় ধরনের পরিবর্তন করা কিংবা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা ছাড়া ফিফার সামনে খুব বেশি পথ থাকছে না।

চলমান পরিস্থিতিতে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ফিফার প্রস্তাবিত নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ২০ শতাংশ অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হতে পারে। নিউইয়র্কভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটারনালকে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ফিফার পক্ষ থেকে সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে প্রস্তাবের বিনিময়ে প্রথম ধাপে ২০ মিলিয়ন ডলার ও পরে আরও ২০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তবে অর্থ গ্রহণ করা মানেই প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক সমর্থন হিসেবে গণ্য হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ইনফান্তিনো অবশ্য তীব্র সমালোচনার মুখেও পরিকল্পনাটিকে বাধ্যতামূলক কোনো সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরছেন না। বুধবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, এফএফই এখনো ‘একটি প্রস্তাব, একটি অফার’। তার ভাষায়, এটি একটি গণতান্ত্রিক ও পরামর্শমূলক প্রক্রিয়ার অংশ এবং বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়নকে আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ‘সোনালি সুযোগ’, তবে এটি কোনো বাধ্যবাধকতা নয়।

বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার— ফিফার সিদ্ধান্তে চটেছে উয়েফা

উয়েফার আপত্তি অবশ্য শুধু অর্থের হিসাব নিয়ে নয়, তাদের অভিযোগ— ফিফা পুরো প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত পরামর্শ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখেনি। উয়েফা বলেছে, ফুটবলকে ব্যবহার করে ফিফা ‘নিজেদের ও নিজেদের বন্ধুদের সমৃদ্ধ’ করতে পারে না।

উয়েফা বলেছে, বিশ্বকাপ মূলতই ফুটবলের এবং সেটি সবসময় ফুটবলেরই থাকবে। কিন্তু সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ গ্রহণ বা প্রস্তামের সমর্থনের জন্য চাপ তৈরি করা হয়েছে, যা ‘গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত’ নয়, বরং চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে পরিচালনা।

এ অবস্থানে একা নয় উয়েফা। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল কনফেডারেশন কনকাকাফও জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে ফিফার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে উয়েফার মতো তারা বয়কটের ঘোষণা দেয়নি। ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের একজন হিসেবে বিবেচিত কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তাগলিয়ানি বলেন, প্রস্তাবের বিষয়ে তাদের আগে থেকে জানানো হয়নি।

সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এএফসিও একইভাবে অসন্তোষ জানিয়েছে। তারাও বলেছে, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রস্তাব প্রকাশ্যে আসার আগে কনফেডারেশন ও সদস্যদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা করা হয়নি।

ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাবস সংগঠনও একই অভিযোগ করেছে। ৮৫০টির বেশি ক্লাবের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনটির দাবি, ফিফার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক থাকা সত্ত্বেও এত বড় একটি পরিকল্পনা নিয়ে তাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি, সংবাদমাধ্যমের খবর থেকেই তারা বিষয়টি জানতে পেরেছে।

২০৩৮ বিশ্বকাপ ফুটবলও ‘আয়োজন করতে চায়’ যুক্তরাষ্ট্র

উয়েফার বয়কটের ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে প্রথম বড় ধাক্কা আসতে পারে আগামী বছরের নারী বিশ্বকাপে। এরপর বয়সভিত্তিক ফিফা টুর্নামেন্টও বর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপের প্রথম সম্ভাব্য বর্জন করা বয়সভিত্তিক আসর হতে পারে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ। একই সময়ে অক্টোবর মাসে গ্রিসের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের নারী দলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।

উয়েফা অন্যান্য কনফেডারেশনকেও তাদের অবস্থান অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। কনকাকাফ ও এএফসির অবস্থান উয়েফার সঙ্গে মিলে গেলে ২১১ সদস্যের ফিফায় প্রস্তাব আটকে দেওয়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি হতে পারে। যদিও চূড়ান্তভাবে প্রস্তাব পাস করতে কত ভোট প্রয়োজন, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। ফিফার আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে ৭৫ শতাংশ ভোট লাগতে পারে, যা ইনফান্তিনোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে। আগামী মার্চে ফিফা সভাপতি নির্বাচনে তিনি শক্ত অবস্থানে ছিলেন এবং দুই শতাধিক সদস্য অ্যাসোসিয়েশন থেকে সমর্থনের চিঠিও পেয়েছেন। কিন্তু উয়েফার এই নজিরবিহীন ঐক্য তার অবস্থানকে দুর্বল করেছে।

ইউরোপীয় ফুটবলের অভ্যন্তরে এখন আলোচনা চলছে, আগামী নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিপরীতে একজন ঐক্যবদ্ধ ইউরোপ-সমর্থিত প্রার্থী দাঁড় করানো যায় কি না।

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও ফিফার পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘বিশ্বকাপ কখনো কারও বিক্রি করার সম্পত্তি ছিল না।’ তার ভাষায়, ফুটবল সমর্থকদের, বিলিয়নেয়ার বিনিয়োগকারীদের নয়, এখন খেলাটিকে রক্ষায় অবস্থান নেওয়ার সময়।