সিলেটে সারজিসের গাড়িতে ফের হামলা, অভিযোগ অস্বীকার ছাত্রদলের
- আপডেট সময় : ০৩:১১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িতে ফের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে গাড়িটির পেছনের কাচ ভেঙে যায়। একই সঙ্গে এনসিপির আরও দুই কেন্দ্রীয় নেতা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাত শহিদ পরিবারের সদস্যদের বহনকারী গাড়িতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করেছেন সারজিস আলম। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেলা ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গোলাপগঞ্জ উপজেলার শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এনসিপির সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়েছিল। এতে শহিদ পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা অংশ নেন। বেলা পৌনে ৩টার দিকে মতবিনিময় সভা শেষে এনসিপি নেতারা বের হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
এনসিপির পদযাত্রায় হামলায় অভিযুক্ত ছাত্রদল, পাটওয়ারী-সারজিস আহত
এনসিপির জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শিব্বির আহমদ জানান, সারজিস আলমের গাড়ির পাশাপাশি দলের সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু ও আতিকুর রহমান মোজাহিদের গাড়িতেও হামলা হয়েছে। এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাত শহিদ পরিবারের সদস্যদের বহনকারী গাড়িও হামলার শিকার হয়েছে।
ঘটনার পর বেলা ৩টার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, ‘সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’ এরপর বিকেল ৪টার দিকে দেওয়া আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘২য় দফায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের উপরে আবার আক্রমণ করেছে সিলেটের পাঁচ মাইল বাজারে। তারেক রহমান কি শেখ হাসিনা হতে চায়?’
এনসিপির একাধিক স্থানীয় নেতার ভাষ্য, মতবিনিময় সভা শেষে সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িবহর পৌরসভা অডিটোরিয়াম এলাকা ত্যাগ করছিল। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তার গাড়ি লক্ষ্য করে বোতল ও পাথর নিক্ষেপ করেন। এতে গাড়িতে আঘাত লাগে এবং ঘটনাস্থলে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তখন সারজিস আলমের গাড়ি ও পৌরসভার সামনে পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে সিলেটের ৫ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েনের আবেদন
এ ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বোতল নিক্ষেপের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়ি লক্ষ্য করে কোমল পানীয়ের ছোট বোতল ছোড়া হয়। এতে সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগানও দেওয়া হয়।
ঘটনার পর পুলিশ পাহারায় সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িবহরকে সিলেটের দিকে চলে যেতে দেখা যায়। পরে সিলেট সার্কিট হাউসে ফিরে সারজিস আলম সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরাই এ হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, সিলেটে ফেরার পথে পাঁচমাইল এলাকাতেও তাদের ওপর চাপাতি ও রামদা নিয়ে হামলা করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন (দিনার)। তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের একজনও থেকে থাকলে তারা (এনসিপি) দেখাক। তারা নেতাকর্মীদের নিয়ে কোনো কথা বললেও বাধা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া ছিল। আমাদের নেতাকর্মীরা নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে গেছেন, কিন্তু আহতদের কারও সঙ্গে দেখা করেননি, সেখান থেকেই ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছি।’
বুধবার হবিগঞ্জে ফের সমাবেশ এনসিপির, সারা দেশেও বিক্ষোভ
এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপির নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকজন নেতাকর্মীকে মারধরও করা হয়। হামলার জন্য বিএনপি ও ছাত্রদলকে দায়ী করে এনসিপি। পরে সন্ধ্যায় শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের করলে আরেক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
তবে ওই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল দাবি করে, সেদিন আজমিরীগঞ্জে সমাবেশে এনসিপির নেতারা বিএনপির নেতাদের ‘গুণ্ডাবাহিনী’ বলে মন্তব্য করায় তাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে টাউন হল এলাকায় এনসিপির পদযাত্রা শেষে বিক্ষোভ চলাকালে ওই ঘটনার সূত্রপাত হয়।
ওই ঘটনায় বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে হবিগঞ্জে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদকে প্রধান আসামি করে ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের।
হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা: জেলা ছাত্রদলের ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— বৃন্দাবন সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আসিফুল ইসলাম, পৌর ছাত্রদল নেতা মুজাক্কির হোসেন, ছাত্রদল নেতা এম এইচ শিমুল, আল সাইমন, মাহফুজ চৌধুরী, ইশতিয়াক রহমান, শেখ সাব্বির, নাজমূল হোসেন ও রক্সি ইসলাম।
মঙ্গলবারের ওই ঘটনার পর এনসিপি এবং বিএনপি-ছাত্রদল পালটাপালটি কর্মসূচি ঘোষণা করলে বুধবার হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। এ দিন বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে আসার পথে শ্রীমঙ্গল ও বাহুবলের বিভিন্ন স্থানে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ।
পরে শহরে প্রবেশ করতে না পেরে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অবস্থান নেন। পরে তারা হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে মামলাটি করা হয়।
হবিগঞ্জেও এনসিপির গাড়িবহর আটকে দিয়েছে পুলিশ, সড়কে বসে প্রতিবাদ
এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জারি করা ১৪৪ ধারা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গত ২৯ জুলাই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
আদেশে আরও বলা হয়, তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বশেষ প্রতিবেদনে হবিগঞ্জ পৌর এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক উল্লেখ করা হয়েছে। জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা না থাকায় পূর্বে জারি করা ১৪৪ ধারার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।










